সোমবার | ২৯ জুন ২০২৬

Tags : story

সাহিত্য - সংস্কৃতি

গল্প : ক্ষুদে তারা

ময়ূরী মিত্রপর্ব—১ভালো নাম ক্ষুদিরাম। নিজে নিজেকে ডাকত কাসুটি বলে। খেয়াল করতাম, নিজেকে কাসুটি নামে পরিচয় করানোর সময় এক আরাম লাগত তার কণ্ঠে, জিহ্বায়। জিজ্ঞেস করলে গম্ভীর মুখে বলত— এ আমার ফ্রান্সি নাম। ফরাসি না বলে বলত ফ্রান্সি। যেমন তার বিশেষ্য, তেমনি তার বিশেষণ। আর তেমনি সে নিজে। খোঁচা নোংরা চুল, চকরা হাফ প্যান্ট, লাল-সবুজ গেঞ্জি। […]readmore

সাহিত্য - সংস্কৃতি

গল্প : অপারেশন

সুকুমার রুজ ডাক্তারবাবু বালিশ থেকে মাথাটা একটু উঁচু করে কান পাতেন। নাহ! এটা ঘরের টিনের চালে বৃষ্টি পড়ার শব্দ নয়। তবুও উনি ঘাড় উঁচিয়ে একবার চালের দিকে তাকান। মনে হচ্ছে কেউ বাইরের দরজায় কড়া নাড়ছে!উনি উঠে বসেন। কানে আসে বৃষ্টির শব্দ মেশানো পুরুষের গলা। ভাবেন, পাশের বাড়ির ন্যালাখ্যাপা ছেলেটা ঘ্যান ঘ্যান করছে! আজ হয়তো ওর […]readmore

সাহিত্য - সংস্কৃতি

গল্প : কাহারে তাহা কব…

শুভাশিস চৌধুরী জলেফা বাজারে আসতেই সাইকেলের চেনটা গেল পড়ে, কিছুতেই তুলতে পারছে না সমীর। এখান থেকে হেঁটে গেলে ঠিক সময়ে প্রেয়ার ধরতে পারবে না। তখীরাই দেখল দোকান থেকে। সুবোধ স্যারের পানের খিলিটা হাতে ধরিয়ে দিয়েই এক দৌড়ে এসে সমীরকে বলল, ‘আরে সাইকেলটারে একটু সোজা কৈরা ধর, আমি চেনটা তুইল্যা দিতাছি।’ সমীর সাইকেলটাকে ধরে রাখল, পাশ […]readmore

সাহিত্য - সংস্কৃতি

গল্প : বিকৃত ফাঁদ

গণেশ দেবরায় ঘরে ঢুকেই নিশান চেঁচিয়ে উঠল – ‘আমার মোবাইলের চার্জারটা কোথায়?’ পৃথা তখন ইনডাকশানে বাঁধাকপির পকোড়াগুলো সবে মাত্র তেলে ছেড়েছে, ঝট করে ইন্ডাকশনটা বন্ধ করে ছুটে এলো – ‘এত চিৎকারের কী হলো?’‘একটা কাজের জিনিস নির্দিষ্ট জায়গায় এসে পাই না, কোথায় যায় এসব?’‘সেটা তোমার ছেলেকে জিজ্ঞেস করো। তার জন্য এত হৈচৈ!’নিশান এই কথার উত্তর না […]readmore

সাহিত্য - সংস্কৃতি

গল্প : চোরাবালির বুকে বাস্তুভিটা

লিটন আচার্য এখানে জ্যোৎস্না উদাসীন। আউল-বাউল। বাতাস তন্দ্রাচ্ছন্ন। মাথায় শিশিরের বোঝা চাপিয়ে তৃণ সব কেমন এক লজ্জাভারে ন্যুব্জ। দূরে মেঠো পথের সীমানা ছাড়িয়ে কাঁটাতার। কাছেই বাংলাদেশ। একদা কথিত ‘সোনার বাংলা’। জন্মভূমি নোয়াখালি জেলা। সায়েবের আঁট (সাহেবের হাট)। মুন্সিগঞ্জ। কুমিল্লা। চট্টগ্রাম। ঢাকা। বিটিভি। একাঙ্ক নাটক — বন্ধু আমার। তাসের ঘর। তুমি। নিলয় না জানি। শিল্পী। গ্রামের […]readmore

সাহিত্য - সংস্কৃতি

গল্প : অধিকার

মৌসুমী ভট্টাচার্য্য তিনবাড়ির কাজ শেষ করে বেলা প্রায় বারোটা নাগাদ বাড়ি ফিরে ধপাস করে চৌকাঠে বসে পড়ে মায়া। আঁচল দিয়ে মুখ, ঘাড় মুছল। গরমের দিনে এত ঘাম হয়, জলতেষ্টা পেতে থাকে। কাজের চাপে জলও খাওয়া হয় না। একটি বাড়িতেও এক কাপ চা-ও দেয় না। খিদেয় চোখে অন্ধকার দেখছে। প্রস্রাব শুকিয়ে নালীতে প্রচণ্ড জ্বালা করছে। এখন […]readmore

সাহিত্য - সংস্কৃতি

গল্প : ভ্রম

মৌসুমী ভট্টাচার্য্য সকাল ন’টা থেকে এগারোটা অব্দি বেশ ভিড় থাকে দোকানে, আদিল আর দুই ছোকরা কর্মচারী হিমসিম খায় সামলাতে। এগারোটার পর একটু কমে আসে। আদিল এ সময়টায় চা আনায় পাশের চায়ের দোকান থেকে, ইলাইচি চা। লম্বা এক সুড়ুৎ শব্দে চায়ে চুমুক দেয় আদিল। মান্ধাতার আমলের এক টেপ রেকর্ডারে ক্যাসেট চালায়, চোখ বন্ধ করে গান শোনা […]readmore

সাহিত্য - সংস্কৃতি

গল্প : কথোপকথন

নন্দিতা ভট্টাচার্য্য (চক্রবর্তী) –বুঝলেন মশাই আজ্ঞে–বলছি যে আজ্ঞে না।–কী? কিছু না।–কিছু না মানে? মানে কিছুই বুঝিনি।–আহা বোঝা না বোঝার মতো হলোটা কী! ওই যে আপনি বললেন–কী মুশকিল! আমি তো কিছুই বলিনি মশাই। আরে, ওই যে বললেন–কী বললাম? সেটাই। বলেননি তো–তাই তো। বলিনি তো কিছু। আমিও তো তাই বলছি যে–আপনি বলবেন? আমি বললাম না এখনও, আর […]readmore

সাহিত্য - সংস্কৃতি

গল্প : স্মৃতির দোকানের শহর

সৌম্য ঘোষ সে এক শহর ছিল, স্মৃতির শহর। অদ্ভুত শহর। সেখানে অদ্ভুতভাবে মানুষেরা মিলেমিশে থাকত। তরঙ্গহীন, নিরুপদ্রব জীবন ছিল সে শহরের, এবং মানুষদের। আচমকাই একদিন সেই শান্ত শহরে ঝড় উঠল। ছড়িয়ে পড়ল এক মারাত্মক এপিডেমিক। কোভিডের থেকেও দশগুণ বেশি মারাত্মক। প্রাণঘাতী নয়, এই ভাইরাস আক্রমণ করে মানুষের মস্তিষ্ককে। আগে এই শহরের মানুষেরা হাসিখুশিভাবে মিলেমিশে থাকত। […]readmore

সাহিত্য - সংস্কৃতি

গল্প : বাসন্তীপুজোর ভোরে

শ্রীকুমার দত্ত পাড়ার মন্টুর চায়ের দোকান ওঁদের বিকেলের আড্ডার ঠেক। ওঁরা বলতে তীর্থঙ্করবাবু, শ্যামলবাবু, সঞ্জয়বাবু আর রাজেনবাবু। সবাই সেবানিবৃত্ত। চা-শিঙারার সঙ্গে চলে নানাবিধ বিষয়ে তর্ক-বিতর্ক। আবার কখনো বা স্মৃতিরোমন্থন। সেদিন আড্ডার সময়ে গোমড়া মুখে এসে উপস্থিত পাড়ারই শ্যামলবাবুর পাশের বাড়ির অর্ণব। এসে বিরক্ত মুখে এক কাপ চা নিয়ে বেঞ্চের এক কোণে বসে পড়ল। ব্যাপারটা শ্যামলবাবুর […]readmore