শুভাশিস চৌধুরী পর্ব-৪ ধৃতি ঘরে ঢুকে মানসকে বসিয়ে রেখে, বাথরুমে গেল। কিছুক্ষনের মধ্যেই সুগন্ধী স্নান সেরে নাইটি প’রে অন্য রূপে বেরিয়ে এল।মানস হাঁ করে তাকিয়ে রইল।এই ধৃতিকে মানস ছুঁতে চায় না, শুধু সামনে বসিয়ে দেখতে চায় আজও।কলিং বেলের আওয়াজে নাইটির উপর হাউস কোট চাপিয়ে ধৃতি জাপানী পুতুলের মতো মেয়েটিকে ঘরে ডেকে নিল।মেয়েটি সামনে রাখা টেবিলে […]readmore
Tags : story
শুভাশিস চৌধুরী পর্ব-৩ হাফলং পাহাড়ের গায়ে গায়ে ওরা কিছুক্ষনের মধ্যেই চলে এলো যেখানে ,সে তো এক বিস্তীর্ণ সবুজের সমারোহ!এখানে পাহাড়ের ঘাসে ঢাকা শরীর দিয়ে বানানো হয়েছে,ঢেউ খেলানো মাঠ।একটু দূরে দাঁড়িয়ে থেকে পাহাড় যেন পাহাড়া দিচ্ছে নিজের মাঠকে।এখানেও সেই মেঘ পাহাড়ের আকাশকে ছুঁয়ে থাকার চেষ্টা।প্রদীপ এখানে ওদের নামিয়ে দিয়ে গাড়ি পার্ক করল। দুজনে নির্বাক।সামনে সাজানো পার্কের […]readmore
শুভাশিস চৌধুরী পর্ব-২ মানস ধৃতির অলিখিত আদেশে, হাফলং স্টেশনে নামার ব্যাপারে এবার যদি একটুও ভাবার সময় নেয়, তবে যে ওর কপালে দুঃখ আছে,সে তার জানা।কাজেই চুপচাপ সম্মতি দেওয়াই ভদ্দরলোকের কাজ।এটাই করল।ধৃতির ইঙ্গিতপূর্ণ নির্দেশমত, উপর থেকে ট্রলি-স্যুটকেসটা নামিয়ে, মানস ওর পেছন পেছন নেমে পড়ল প্ল্যাটফর্মে।মানস এবার ধৃতিকে বলল,’আরে!কী হচ্ছে?আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না।এখানে আমি কোনোদিন […]readmore
শুভাশিস চৌধুরী পর্ব-১ এই পথে মানস আগে কখনো যায় নি।এভাবে বাড়ি থেকে না বলে ক’য়ে, হঠাৎ বেপাত্তা হওয়ার কথা যে মাথায় আসে নি,তা ঠিক নয়।যতবারই ভেবেছে,মা বাবার পিছু টান, আর নিজের পরিচিতির কথা ভেবেই, এই ধরণের উটকো সিদ্ধান্ত নেয় নি মানস। এলাকায় ভালো ছেলে,ইউনিভার্সিটিতে পড়ায়।এই পরিচয়,ছোট্ট এই শহরে একজন বছর পঁয়তিরিশের যুবকের জন্য যথেষ্ঠ।কাল রাতে […]readmore
ময়ূরী মিত্রপর্ব—১ভালো নাম ক্ষুদিরাম। নিজে নিজেকে ডাকত কাসুটি বলে। খেয়াল করতাম, নিজেকে কাসুটি নামে পরিচয় করানোর সময় এক আরাম লাগত তার কণ্ঠে, জিহ্বায়। জিজ্ঞেস করলে গম্ভীর মুখে বলত— এ আমার ফ্রান্সি নাম। ফরাসি না বলে বলত ফ্রান্সি। যেমন তার বিশেষ্য, তেমনি তার বিশেষণ। আর তেমনি সে নিজে। খোঁচা নোংরা চুল, চকরা হাফ প্যান্ট, লাল-সবুজ গেঞ্জি। […]readmore
সুকুমার রুজ ডাক্তারবাবু বালিশ থেকে মাথাটা একটু উঁচু করে কান পাতেন। নাহ! এটা ঘরের টিনের চালে বৃষ্টি পড়ার শব্দ নয়। তবুও উনি ঘাড় উঁচিয়ে একবার চালের দিকে তাকান। মনে হচ্ছে কেউ বাইরের দরজায় কড়া নাড়ছে!উনি উঠে বসেন। কানে আসে বৃষ্টির শব্দ মেশানো পুরুষের গলা। ভাবেন, পাশের বাড়ির ন্যালাখ্যাপা ছেলেটা ঘ্যান ঘ্যান করছে! আজ হয়তো ওর […]readmore
শুভাশিস চৌধুরী জলেফা বাজারে আসতেই সাইকেলের চেনটা গেল পড়ে, কিছুতেই তুলতে পারছে না সমীর। এখান থেকে হেঁটে গেলে ঠিক সময়ে প্রেয়ার ধরতে পারবে না। তখীরাই দেখল দোকান থেকে। সুবোধ স্যারের পানের খিলিটা হাতে ধরিয়ে দিয়েই এক দৌড়ে এসে সমীরকে বলল, ‘আরে সাইকেলটারে একটু সোজা কৈরা ধর, আমি চেনটা তুইল্যা দিতাছি।’ সমীর সাইকেলটাকে ধরে রাখল, পাশ […]readmore
গণেশ দেবরায় ঘরে ঢুকেই নিশান চেঁচিয়ে উঠল – ‘আমার মোবাইলের চার্জারটা কোথায়?’ পৃথা তখন ইনডাকশানে বাঁধাকপির পকোড়াগুলো সবে মাত্র তেলে ছেড়েছে, ঝট করে ইন্ডাকশনটা বন্ধ করে ছুটে এলো – ‘এত চিৎকারের কী হলো?’‘একটা কাজের জিনিস নির্দিষ্ট জায়গায় এসে পাই না, কোথায় যায় এসব?’‘সেটা তোমার ছেলেকে জিজ্ঞেস করো। তার জন্য এত হৈচৈ!’নিশান এই কথার উত্তর না […]readmore
লিটন আচার্য এখানে জ্যোৎস্না উদাসীন। আউল-বাউল। বাতাস তন্দ্রাচ্ছন্ন। মাথায় শিশিরের বোঝা চাপিয়ে তৃণ সব কেমন এক লজ্জাভারে ন্যুব্জ। দূরে মেঠো পথের সীমানা ছাড়িয়ে কাঁটাতার। কাছেই বাংলাদেশ। একদা কথিত ‘সোনার বাংলা’। জন্মভূমি নোয়াখালি জেলা। সায়েবের আঁট (সাহেবের হাট)। মুন্সিগঞ্জ। কুমিল্লা। চট্টগ্রাম। ঢাকা। বিটিভি। একাঙ্ক নাটক — বন্ধু আমার। তাসের ঘর। তুমি। নিলয় না জানি। শিল্পী। গ্রামের […]readmore
মৌসুমী ভট্টাচার্য্য তিনবাড়ির কাজ শেষ করে বেলা প্রায় বারোটা নাগাদ বাড়ি ফিরে ধপাস করে চৌকাঠে বসে পড়ে মায়া। আঁচল দিয়ে মুখ, ঘাড় মুছল। গরমের দিনে এত ঘাম হয়, জলতেষ্টা পেতে থাকে। কাজের চাপে জলও খাওয়া হয় না। একটি বাড়িতেও এক কাপ চা-ও দেয় না। খিদেয় চোখে অন্ধকার দেখছে। প্রস্রাব শুকিয়ে নালীতে প্রচণ্ড জ্বালা করছে। এখন […]readmore