মৌসুমী ভট্টাচার্য্য সকাল ন’টা থেকে এগারোটা অব্দি বেশ ভিড় থাকে দোকানে, আদিল আর দুই ছোকরা কর্মচারী হিমসিম খায় সামলাতে। এগারোটার পর একটু কমে আসে। আদিল এ সময়টায় চা আনায় পাশের চায়ের দোকান থেকে, ইলাইচি চা। লম্বা এক সুড়ুৎ শব্দে চায়ে চুমুক দেয় আদিল। মান্ধাতার আমলের এক টেপ রেকর্ডারে ক্যাসেট চালায়, চোখ বন্ধ করে গান শোনা […]readmore
Tags : story
নন্দিতা ভট্টাচার্য্য (চক্রবর্তী) –বুঝলেন মশাই আজ্ঞে–বলছি যে আজ্ঞে না।–কী? কিছু না।–কিছু না মানে? মানে কিছুই বুঝিনি।–আহা বোঝা না বোঝার মতো হলোটা কী! ওই যে আপনি বললেন–কী মুশকিল! আমি তো কিছুই বলিনি মশাই। আরে, ওই যে বললেন–কী বললাম? সেটাই। বলেননি তো–তাই তো। বলিনি তো কিছু। আমিও তো তাই বলছি যে–আপনি বলবেন? আমি বললাম না এখনও, আর […]readmore
সৌম্য ঘোষ সে এক শহর ছিল, স্মৃতির শহর। অদ্ভুত শহর। সেখানে অদ্ভুতভাবে মানুষেরা মিলেমিশে থাকত। তরঙ্গহীন, নিরুপদ্রব জীবন ছিল সে শহরের, এবং মানুষদের। আচমকাই একদিন সেই শান্ত শহরে ঝড় উঠল। ছড়িয়ে পড়ল এক মারাত্মক এপিডেমিক। কোভিডের থেকেও দশগুণ বেশি মারাত্মক। প্রাণঘাতী নয়, এই ভাইরাস আক্রমণ করে মানুষের মস্তিষ্ককে। আগে এই শহরের মানুষেরা হাসিখুশিভাবে মিলেমিশে থাকত। […]readmore
শ্রীকুমার দত্ত পাড়ার মন্টুর চায়ের দোকান ওঁদের বিকেলের আড্ডার ঠেক। ওঁরা বলতে তীর্থঙ্করবাবু, শ্যামলবাবু, সঞ্জয়বাবু আর রাজেনবাবু। সবাই সেবানিবৃত্ত। চা-শিঙারার সঙ্গে চলে নানাবিধ বিষয়ে তর্ক-বিতর্ক। আবার কখনো বা স্মৃতিরোমন্থন। সেদিন আড্ডার সময়ে গোমড়া মুখে এসে উপস্থিত পাড়ারই শ্যামলবাবুর পাশের বাড়ির অর্ণব। এসে বিরক্ত মুখে এক কাপ চা নিয়ে বেঞ্চের এক কোণে বসে পড়ল। ব্যাপারটা শ্যামলবাবুর […]readmore
নন্দিতা ভট্টাচার্য্য (চক্রবর্তী) ‘ম্যাডাম, একটু সাহায্য করবেননি?’রিক্সা ভাড়া দিয়ে নামতেই কানে এলো কথাগুলো। শ্রাবণী ফিরে তাকাতেই আবার, ‘ম্যাডাম, বড় বিপদে পড়ছি। একটু সাহায্য করেন না।’‘কী হয়েছে?’‘আমার সব টাকা চুরি হইয়া গেছে। বাড়িতে যাওনের টাকা নাই। একটু সাহায্য করেন না ম্যাডাম।’বাইশ-তেইশের যুবক। গায়ে হালকা গোলাপি শার্ট আর কালো প্যান্ট। মলিন দুটোই। হাতে একটা কাপড়, হয়তো রুমালজাতীয় […]readmore
শিবজ্যোতি দত্ত — মানুষ কি সত্যিই স্বাধীন, বলুন তো?— মানে?মানে এই যে, জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কারও না কারও অধীনে থাকতে হচ্ছে। বাবার অধীনে, বসের অধীনে।— বুঝেছি, নেক্সট বউয়ের অধীনে বলবেন। আমার বউ এসব শুনলে—— আপনার বউ এখানে কোথায়?— এখানে নেই ঠিকই। কিন্তু বাতাসে কান পেতে থাকেন। অলৌকিক ক্ষমতা, মশাই। তা স্বাধীনতার কথা কী বলছিলেন […]readmore
১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার পাঁচ দিনের মাথায় ঘাতকেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকেন । কথিত অভ্যুত্থানের পর পরই সৈয়দ ফারুকুর রহমান ও খোন্দকার আবদুর রশীদের নেতৃত্বে চার মেজর বঙ্গভবনে আশ্রয় নেন । তারা কোনওভাবেই সেনানিবাসে জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে থাকাটা নিরাপদ ভাবেননি । ফলে দুটি ক্ষমতাকেন্দ্র তৈরি হয় । একটি সেনানিবাসে , […]readmore
বাড়িটি দূর থেকে চোখ টানে । সাদা ধবধবে দোতলা বাড়ি । নজরকাড়া ফুলবাগান । শান্ত পরিবেশ । তবে মাঝে – মাঝে বাড়ির দণ্ডমুণ্ডের কর্ত্রী সৌদামিনী দেবীর হইচই শোনা যায় এর জন্য দায়ী গৃহকর্তা বিক্রম সেন সৌদামিনী দেবীর ভাইয়ের ছেলে । বিক্রম সেন যৌবনে প্রেমে পড়েছিলেন পাশের বাড়ির ফুটফুটে নিকিতার পরিণয় দূর অস্ত , মুখ ফুটে […]readmore
সম্প্রতি অবসরপ্রাপ্ত বিবেক দুপুরে খাওয়া – দাওয়ার পর বিছানায় একটু গড়িয়ে নিতে নিতে ভাবে পঁয়ত্রিশ বছর প্রায় হয়ে গেল তার সংসার – ধর্ম শিখার সঙ্গে , কিন্তু আজও সে ঠিকঠাক ভাবে বুঝে উঠতে পারল না তার স্ত্রীকে । তার কী যে মায়া এই সংসারের প্রতি ! একঘণ্টার ওপর হয়ে গেল সবার দুপুরের খাওয়া হয়ে গেছে […]readmore