কুমোরপাড়ার দুর্গাতেও এআইয়ের ছোঁয়া
সন্দীপ বসু- উমার ত্রিনয়ন ফুঁড়ে যেন অনর্গল নীল জ্যোতি ঠিকরে বেরোচ্ছে। আর তাঁর হাতে ধরা নীলাভ রশ্মির ত্রিশূলের ফলায় বিদ্ধ হয়ে পরিহিত মহিষাসুরের চোখ রক্তরঙা লাল। আর আকাশি রঙের মহাকাশ জুড়ে দর্শকদের মাথার উপর বনবন করে ঘুরছে সুদর্শন চক্র। মণ্ডপের ভিতরে নিখুঁত রোবটিক সজ্জায় রুপোলি রঙের শাড়ি পরনে দেবী দুর্গা। আর সেই মহাকাশের মণ্ডপে বিচিত্র অভিব্যক্তিতে কাজে ব্যস্ত আস্ত রোবট।
থ্রি ডি প্রিন্টারে রোবট কথাও বলবে। লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের অঙ্গেও রোবটিক সজ্জা। পেঁচার গাঢ় নীল চোখও ফুটে উঠবে। পুজোর দিনগুলোর সন্ধ্যা থেকে এলইডির সাহায্যে গোটা মণ্ডপে অদ্ভুত আবহ ফুটে উঠবে এবার। যা যে কোনও বয়সের দর্শনার্থীদের অবাক করতে বাধ্য।
অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বা ‘এআই’-এর ছোঁয়ায় প্রান্তিক শহর কালিয়াগঞ্জের উত্তর চিরাইল বারোয়ারি দেশপ্রিয় ক্লাবের দুর্গাপুজোর পরতে পরতে অভিনবত্বের ছায়া মূর্ত হতে চলেছে। এআইয়ের দুরন্ত প্রভাব এবার বাঙালির সেরা পুজোর তালিকায় অনায়াসে জায়গা করে নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুর জেলা।
সাজসজ্জায় রোবটিক ছোঁয়া। তবে দেবী দুর্গার মুখে একেবারে সনাতনী ছোঁয়া। কুমোরটুলির মৃৎশিল্পী ইন্দ্রজিৎ পালের হাতের জাদুতে মাটি দিয়েই শাস্ত্রীয় রীতি-উপাচারের সঙ্গে সাজুয্য রেখে প্রতিমা তৈরি হয়েছে। তবে শিল্পীদের নিজেদের দক্ষতায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হয়েছে। সাবেকিয়ানার ঐতিহ্যের মাঝেই এবার যুক্ত হয়েছে আধুনিকতার স্পর্শ।
এআই-অনুপ্রাণিত রোবোটিক সজ্জার দুর্গা প্রতিমার সৃজনশীল ভাবনা আর আলোকসজ্জায় বিরাটির শিল্পী সঞ্জীব দত্ত। তিনি বলেন, ‘দেবীর ত্রিনয়নের মধ্যমণি অগ্নির প্রতীক। ডান নয়ন সূর্যের প্রতীক এবং চন্দ্রের প্রতীক বাম চোখ। আসলে এআইয়ের সাহায্যে দেবীর রুদ্ররূপ জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।’