দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে যাত্রা খরুণ গ্রামের খাঁড়া
রামপুরহাট (পশ্চিমবঙ্গ): আগুনের লেলিহান শিখা, লাল টকটকে লোহা আর হাতুড়ির একের পর এক ঘা। দুর্গাপুজোর আগে এই শব্দেই এখন সরগরম পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার রামপুরহাটের খরুণ গ্রাম। রাত-দিন এক করে ঐতিহ্যবাহী খাঁড়া তৈরিতে ব্যস্ত গ্রামের কারিগররা। একসময় গ্রামের গণ্ডি পেরোত না তাঁদের তৈরি খাঁড়া। এখন মোবাইলে অর্ডার আসছে, আর কুরিয়ারে সেই খাঁড়া পৌঁছে যাচ্ছে দেশের একাধিক রাজ্য এমনকী বিদেশেও।
রামপুরহাট শহর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরের খরুণ গ্রামের কয়েকটি পরিবার বংশপরম্পরায় খাঁড়া তৈরির কাজ করে আসছেন। দুর্গাপুজো আর কালিপুজোর আগে প্রতি বছরই বাড়ে চাহিদা। ফোনে নকশা ও মাপ পাঠিয়ে অর্ডার দিচ্ছেন ক্রেতারা। অর্ডার পাওয়ার চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই খাঁড়া তৈরি করে কুরিয়ারে পাঠিয়ে দিচ্ছেন কারিগররা।
কলকাতা, শিলিগুড়ি, মালদহ, আসানসোল, দুর্গাপুর, ধানবাদ ছাড়াও ত্রিপুরা, অসম, ওড়িশায় পৌঁছেছে খরুণের তৈরি খাঁড়া। এমনকী, এক সাধুর মাধ্যমে রাশিয়াতেও পাঠানো হয়েছে এই খাঁড়া। এগুলির দাম শুরু হয় ১৬ হাজার থেকে। সাইজ মোটামুটি একই হয়। ছোট খাঁড়া তৈরি করেন না কারিগররা। তবে খাঁড়ার দাম নির্ভর করে নকশার উপর। শিল্পীরা জানাচ্ছেন, ক্রেতারা তাঁদের ছন্দমতো নকশা দিতে পারেন। যত নকশা তত দাম।
তবে সর্বনিম্ন দাম হচ্ছে ১৬ হাজার মতো। এগুলির ওজন তিন কিলো থেকে পাঁচ কিলোর মধ্যে হয় বলে জানিয়েছেন কারিগররা। ওজনের উপর দাম সেভাবে হেরফের হয় না।
কারিগর বসন্ত কর্মকার বললেন, ‘৪৬ বছর ধরে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। আমি ও আমার দাদা মিলে খাঁড়া তৈরি করি। পুজোর আগে অর্ডার অনেক বেড়ে যায়।’ ইতিমধ্যেই অসমে চারটি খাঁড়া পাঠানো হয়েছে, ওড়িশাতেও যাবে একটি। এখনও পর্যন্ত মোট ১৫টি অর্ডার এসেছে। পুজোর দিন যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে ব্যস্ততা। পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য আর জীবিকার টানে আগুন-লোহার লড়াইয়ে তৈরি হচ্ছে একের পর এক খাঁড়া। গ্রামের সীমানা ছাড়িয়ে দেশ-বিদেশে পৌঁছে যাওয়াতেই এখন গর্বিত খরুণের কারিগররা।