মঙ্গলবার | ০৬ অক্টোবর ২০২৬

গ্রেফতার হুমায়ুন কবীর, নন্দীগ্রামে ভোট লুঠের অভিযোগ, তারই মধ্যে ভোটদানেও বিপুল সাড়া

 গ্রেফতার হুমায়ুন কবীর, নন্দীগ্রামে ভোট লুঠের অভিযোগ, তারই মধ্যে ভোটদানেও বিপুল সাড়া

কলকাতা, ৬ অক্টোবর- কোথাও বিধায়ককে আটক, আবার কোথাও ভোট লুঠের অভিযোগ, দুই কেন্দ্রের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে একাধিক ঘটনার সাক্ষী থাকল বাংলা। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের এই নির্বাচনকে প্রহসন বলে কটাক্ষ করেছে বিরোধীরা। তবে নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে ভাল সাড়া পাওয়া গিয়েছে। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত নন্দীগ্রামে ভোট পড়েছে ৭৮.৩৯ শতাংশ এবং রেজিনগরে ভোট পড়েছে ৭৮.৪২ শতাংশ।

            আজ ভোট দিয়ে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, নন্দীগ্রামে এবার নতুন রেকর্ড হতে পারে। তার দাবি, ২০১৬ সালে তাঁর প্রায় ৮২ হাজার ভোটে জেতার ব্যবধান ছাপিয়ে যাবেন উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ। ভোট অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। কিন্তু বেলা গড়াতেই বিরোধীরা অভিযোগ তুলেছে, ভোটের নামে প্রহসন হচ্ছে। কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের অভিযোগ, কোথাও তাঁদের এজেন্ট নেই, সকলকে তাড়িয়ে অবাধে ছাপ্পা চলছে নন্দীগ্রামে। অভিযোগ, পুরো বিধানসভায় রিগিং করে ভোট করছে বিজেপি। একই অভিযোগে রেজিনগরে সরব বিরোধীরাও। যদিও দুই জায়গাতেই সেই অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ছোটখাটো কয়েকটি ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু বিজেপি যতদিন ক্ষমতায় থাকবে ততদিন আমরা ভোটকে কেন্দ্র করে কোনও হিংসাত্মক ঘটনা ঘটতে দেব না।’

            মঙ্গলবার ভোট দিয়ে বার হওয়ার কিছু ক্ষণের মধ্যে রাজ্য পুলিশ-প্রশাসন এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। তার ছেড়ে দেওয়া রেজিনগর বিধানসভা গায়ের জোরে বিজেপি দখল করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘উপনির্বাচন ঘিরে যে পরিস্থিতি, তাতে দেশের এমার্জেন্সির কথা মনে পড়ে গেল। ভোট করাবার দরকার কী ছিল!’’ শেষমেশ নির্বাচনী বিধিভঙ্গ, পুলিশকে হুমকি এবং সমর্থকদের প্ররোচিত করার অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন হুমায়ুন। রেজিনগরের বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার দাবি করেছেন, এবার এই কেন্দ্রে বিপুল ভোটে জয়ী হবেন তিনি। কিন্তু যে এলাকায় সংখ্যালঘু ভোটার সর্বাধিক সেখানে এই দাবি কীভাবে করছেন তিনি, সেই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গিয়েছেন প্রার্থী।

            দুপুরে মমতা তৃণমূলের প্রার্থী রবিউল আলম এবং ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল প্রার্থী শফিউজ্জামান শেখ পৃথক ভাবে অভিযোগ করেন, বেশির ভাগ বুথ থেকে তাদের এজেন্টদের জোর করে বার করে দেওয়া হয়েছে। শফিউজ্জামান আবার দুষেছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতাকে। তিনি বলেন, ‘‘হুমায়ুন কবীর বিধানসভা নির্বাচনের সময় তৃণমূলকে হারাতে বিজেপি আর কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সাহায্য করেছিলেন। আজ সেই বিজেপির বিরুদ্ধেই লড়াই করতে গিয়ে তার এমন পরিণতি।’’ বিকেল ৪টে নাগাদ রেজিনগরে যান বহরমপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরি। সংবাদমাধ্যমের সামনে কার্যত ফুঁসে ওঠেন তিনি। অধীর বলেন, “এখানে বোমা পড়েনি, গুলি চলেনি, মানুষের প্রাণ যায়নি ঠিকই। কিন্তু নির্বিঘ্নে সন্ত্রাস করেছে পুলিশ। রেজিনগরে ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে। সাইলেন্ট ভায়োলেন্স চলেছে।” পাল্টা বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, রেজিনগরের মানুষ বাবরি মসজিদ চান না। তারা শিল্পায়ন চান। এবার তাই আমাদের প্রার্থী শাখারভ সরকার ওখানে জয়ী হবেন।

            এখানেই থামেননি অধীর। তার অভিযোগ, জেলা পুলিশের শীর্ষকর্তাদের ইন্ধনেই ভোট লুট করেছে স্থানীয় পুলিশ। ধর্ম দেখে কাউকে বুথে যেতে দেওয়া হয়েছে, কাউকে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির। ভোট নিয়ে বিস্তর অভিযোগ জানিয়েও হুঙ্কারের সুরে অধীর বলেছেন, “এক মাঘে শীত যায় না!” শুধু রেজিনগর নয়। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন নিয়েও সকাল থেকে দিস্তা দিস্তা অভিযোগ কমিশনে জমা করেছে কংগ্রেস। ভোট শুরুর এক ঘণ্টার মধ্যে সকাল ৮টায় কংগ্রেস দাবি করে, খেজুরির সীমান্ত দিয়ে বাইকবাহিনী ঢুকে তাণ্ডব চালাচ্ছে। তালপাটি খালের উপর তেখালি ব্রিজ ‘সিল’ করে দেওয়ারও দাবি তোলে বিধান ভবন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *