বৃহস্পতিবার | ১৩ আগস্ট ২০২৬

প্রভাবশালী তত্ত্বে দশদিনের ইডি হেফাজত সুজিতের

 প্রভাবশালী তত্ত্বে দশদিনের ইডি হেফাজত সুজিতের

কলকাতা অফিস, ১২ মে-  পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে সোমবারই গ্রেফতার করা হয় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে। আর মঙ্গলবার তাকে দশ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দিল আদালত। অর্থাৎ আগামী ২১ মে পর্যন্ত ইডি হেফাজতে থাকতে হবে প্রাক্তন দমকলমন্ত্রীকে। পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়া প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর বিরুদ্ধে ‘মানি লন্ডারিং’ বা কালো টাকা সাদা করার গুরুতর অভিযোগ এনেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

            পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘদিন ধরেই ইডির স্ক্যানারে ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসু। গতকাল, সোমবার ম্যারাথন জেরার পর রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আজ, মঙ্গলবার সকালে তাকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে শারীরিক পরীক্ষার পর সুজিতকে নিয়ে যাওয়া হয় ব্যাঙ্কশাল আদালতে। বেলায় তাকে আদালতে তোলা হয়। সোমবার রাতেই ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল যে, ইডি হেফাজতে রেখেই জেরা করা হবে সুজিতকে। সেইমতোই আজ আদালতে আবেদন জানায় ইডি। শেষপর্যন্ত তার দশদিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।

            মঙ্গলবার আদালতে প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর বিরুদ্ধে বিষ্ফোরক অভিযোগ করে ইডি। তদন্তে অসহযোগিতার পাশাপাশি তাদের তরফে দাবি করা হয়, পুর নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত অয়ন শীলের কাছে থেকে যেসব ডিজিটাল তথ‍্য পাওয়া গিয়েছে তা অনুযায়ী সুজিত বোস একাধিক চাকরিপ্রার্থীর নাম সুপারিশ করেছেন। উঠে এসেছে নিতাই দত্তের নামও। সুজিত বোস এবং পরিবারের ব‍্যঙ্ক অ‍্যাকাউন্ট খতিয়ে দেখে কোটি কোটি টাকা ডিপোজিটের হিসাব পেয়েছে ইডি। সুজিত বসুর একটি রেস্তরাঁ রয়েছে। যা করোনাকালে বন্ধ ছিল। তা সত্ত্বেও আয় হয়েছে কোটি কোটি টাকা! ইডির আইনজীবী এদিন আদালতে বলেন, “সুজিত প্রভাবশালী ছিলেন। এখন উনি ছাড়া পেলে তদন্ত প্রভাবিত করতে পারেন। সাক্ষ্যপ্রমাণ নষ্ট করতেও পারেন। তাই তাকে হেফাজাতে চায় ইডি।” ইডির দাবি, গত সাত বছরে সুজিত ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন বিভিন্ন রেস্তোরাঁর অ্যাকাউন্টে প্রায় ৮ কোটি টাকার হদিশ মিলেছে, যার কোনও বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি প্রাক্তন মন্ত্রী। ইডির তরফে আদালতে জানানো হয়েছে, করোনাকালে যখন সমস্ত ব্যবসা ধুঁকছিল, ঠিক সেই সময় সুজিত বসুর একটি চাইনিজ রেস্তোরাঁর অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিকভাবে প্রায় ২ কোটি টাকা জমা পড়ে। ইডির সন্দেহ, নিয়োগ দুর্নীতির সংগৃহীত কালো টাকা এই রেস্তোরাঁ ব্যবসার আড়ালে ঘুরিয়ে সাদা করা হয়েছে। সওয়াল-জবাবের পরে সুজিতকে দশদিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *