মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুরের উদ্যোগে আগরতলায় ‘অন্বেষণা’ উত্তর-পূর্ব ভারতে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ
আগরতলা: উত্তর-পূর্ব ভারতে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত দায়িত্বশীল তথ্য প্রচারকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুর আজ আগরতলায় আয়োজন করল ‘অন্বেষণা মেডিক্যাল এডুকেশন ফর মিডিয়া’। এই উদ্যোগে উপস্থিত ছিলেন মণিপাল হসপিটালস ইস্ট রিজিয়নের ডিরেক্টর ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট নিউরোইন্টারভেনশনাল ও এন্ডোভাসকুলার সার্জারি ডাঃ সুকল্যাণ পুরকায়স্থ এবং মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুরের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও ক্লিনিক্যাল লিড স্পাইন সার্জারি ডাঃ অনিন্দ্য বসু, পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন। উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য ছিল স্নায়বিক ও মেরুদণ্ডজনিত রোগের ক্রমবর্ধমান সমস্যা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ নির্ণয় ও সময়মতো চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরা এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত দায়িত্বশীল সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করা।
আগরতলা-সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জীবনযাত্রাজনিত অসুস্থতা, স্নায়বিক জরুরি অবস্থা, দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ এবং অস্থি ও মাংসপেশীজনিত সমস্যার প্রকোশ ক্রমশ বাড়ছে, যার ফলে বিশেষায়িত ও উন্নত চিকিৎসা পরিষেবার চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত কয়েক বছরে ত্রিপুরার স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নতি হলেও, গত বছরে প্রায় ৬৯০-৭০০ জন রোগীকে সুপার-স্পেশালিটি চিকিৎসা ও উন্নত চিকিৎসা পদ্ধতির জন্য রাজ্যের বাইরে রেফার করা হয়েছে। চিকিৎসার জন্য তাঁদের কলকাতা, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু ও দিল্লির মতো শহরে যেতে হয়েছে। বর্তমানে কলকাতায় মণিপাল হাসপাতালের আধুনিক ইউনিট থাকায় আগরতলা ও উত্তর-পূর্ব ভারতের রোগীরা অত্যাধুনিক মাল্টিডিসিপ্লিনারি চিকিৎসা, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পরিষেবা এবং সমন্বিত চিকিৎসা ব্যবস্থার সুবিধা নিজেদের কাছাকাছি পাচ্ছেন, ফলে দূরবর্তী মহানগরে না গিয়েও দ্রুত ও বিশেষায়িত চিকিৎসা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে।
স্ট্রোক ও মায়বিক জরুরি অবস্থার ক্রমবর্ধমান সমস্যা নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডাঃ সুকল্যাণ পুরকায়স্থ বলেন, ‘গত এক দশকে ভারতে স্নায়বিক রোগের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষত স্ট্রোক ও ডিমেনশিয়া আজ বড় স্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে, যা আগরতলা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। রোগ শনাক্ত করতে দেরি হওয়া এবং দেরিতে হাসপাতালে পৌঁছনো রোগীর সুস্থতায় বড় প্রভাব ফেলে। অথচ ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এর মধ্যে চিকিৎসা শুরু হলে অক্ষমতা অনেকটাই কমানো এবং জীবন বাঁচানো সম্ভব। মণিপাল হাসপাতালসে আমাদের নিউরোলজিস্ট, নিউরোসার্জন, নিউরো-ইন্টারভেনশন বিশেষজ্ঞ, নিউরো-রেডিওলজিস্ট এবং নিউরো-রিহ্যাবিলিটেশন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত দল রোগীদের জন্য সমন্বিত ও রোগীকেন্দ্রিক পরিষেবা প্রদান করে। উন্নত নিউরোইমেজিং, স্ট্রোক প্রিভেনশন ক্লিনিক, জরুরি নিউরোলজি পরিষেবা এবং বিশেষায়িত পুনর্বাসন ব্যবস্থাও এখানে উপলব্ধ। কলকাতার সঙ্গে আগরতলার ভালো যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় রোগীরা এখন উন্নত স্নায়বিক চিকিৎসা ও মাল্টিডিসিপ্লিনারি বিশেষজ্ঞ পরিষেবা বাড়ির কাছাকাছিই পাচ্ছেন।”
মেরুদণ্ডজনিত সমস্যা ও কোমর ব্যথার বাড়বাড়ন্ত নিয়ে ডাঃ অনিন্দ্য বসু বলেন, “ভারতে বর্তমানে মেরুদণ্ডের সমস্যা ও কোমর ব্যথা দ্রুত বাড়তে থাকা অন্যতম স্বাস্থ্য সমস্যা। প্রায় ৬০-৮০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের কোনো না কোনো সময়ে কোমর ব্যথায় ভোগেন। অনিয়মিত জীবনযাপন, দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা, ভুল ভঙ্গি, অতিরিক্ত ওজন এবং মেরুদণ্ডের ক্ষয়জনিত সমস্যার কারণে দেশে স্পাইন-সংক্রান্ত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগরতলা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও এই সমস্যা তরুণ পেশাজীবী ও কর্মরত মানুষের মধ্যে বাড়ছে, যা তাঁদের জীবনযাত্রা ও কর্মক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলছে। মণিপাল হাসপাতালস কলকাতায় আমরা মাল্টিডিসিপ্লিনারি বিশেষজ্ঞ দল, মিনিমালি ইনভেসিভ সার্জারি, উন্নত ইমেজিং, পুনর্বাসন সহায়তা এবং ব্যক্তিগতকৃত চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে সমন্বিত স্পাইন কেয়ার প্রদান করি, যাতে রোগীরা বাড়ির কাছাকাছি থেকেই বিশেষায়িত চিকিৎসা ও দ্রুত সুস্থতার সুবিধা পান।”
অন্বেষণা’ শব্দের অর্থ অনুসন্ধান ও আবিষ্কার আর সেই ভাবনাকেই সামনে রেখে এই উদ্যোগের মাধ্যমে মণিপাল হাসপাতালস দায়িত্বশীল স্বাস্থ্য যোগাযোগ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সক্ষমতা উন্নয়নের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। এর আগে তমলুক, কাঁথি, বর্ধমান, জামশেদপুর, আইজল, মালদা, দিনাজপুর, দার্জিলিং এবং অরুণাচল প্রদেশে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এবার সেই উদ্যোগ পৌঁছল আগরতলাতেও।
এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে মণিপাল হাসপাতালস উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়োপযোগী চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা সম্পর্কে আরও সচেতন হতে পারেন।