শনিবার | ০২ মে ২০২৬

ভোটগণনায় বাধা নেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের, জানিয়ে দিল শীর্ষ আদালত

 ভোটগণনায় বাধা নেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের, জানিয়ে দিল শীর্ষ আদালত

নয়াদিল্লি, ২ মে – ভোটগণনা সংক্রান্ত মামলায় এবার শীর্ষ আদালতে ধাক্কা তৃণমূল কংগ্রেসের। ভোট গণনাকেন্দ্রে কাউন্টিং সুপারভাইজ়ার বা তার সহকারী বা অন্যান্য গণনাকর্মী হিসাবে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগ করছে নির্বাচন কমিশন, এই অভিযোগ নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় বাংলার শাসক দল। কিন্তু তৃণমূলের এই আপত্তির মামলা খারিজ করে দিয়ে শীর্ষ আদালত জানায়, ভোট গণনার কাজে নিযুক্ত কাউন্টিং সুপারভাইজ়ার এবং কাউন্টিং অ্যাসিসট্যান্ট কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী হতে পারেন, আবার রাজ্য সরকারেরও কর্মী হতে পারেন। এই নিয়ে নির্বাচন কমিশন যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, তা বিধি-বিরোধী বলা যাবে না।

            শনিবার বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের কর্মীদের আলাদা করে দেখার মধ্যে ভ্রান্তি রয়েছে। তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী কপিল সিব্বল, আইনজীবী মীনাক্ষী অরোরা। নির্বাচন কমিশনের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী দামা শেষাদ্রি নাইডু। শীর্ষ আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, ‘কাউন্টিং সুপারভাইজ়ার এবং কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী হতে পারেন, আবার রাজ্য সরকারি কর্মীও হতে পারেন। সুতরাং, যখন এই বিকল্পটি নিয়মেই রয়েছে, তখন আমরা বলতে পারি না যে এই নোটিফিকেশনটি (কমিশনের) বিধি-বিরোধী।’ বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, ‘কমিশন সিদ্ধান্ত নিতেই পারে দু’জনই কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মী থাকবেন। এতে কোনও নিয়ম ভঙ্গ হচ্ছে না।’

            তৃণমূলের পক্ষ থেকে আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন, ‘গত ১৩ এপ্রিল জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের নির্দেশিকা পাঠায় কমিশন। তাতে জানানো হয়, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরাই ভোটগণনা কেন্দ্রে কাজ করবেন। তবে এই বিজ্ঞপ্তির কথা আমরা জানতে পারি ২৯ এপ্রিল। কমিশন আশঙ্কা করেছে অশান্তি হতে পারে। কেন এই আশঙ্কা করা হচ্ছে? প্রতি গণনা টেবিলে মাইক্রো অবজার্ভার হিসাবে একজন করে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী রয়েছেন। নতুন করে কেন কেন্দ্রীয় কর্মী রাখার প্রয়োজন? রাজ্য সরকারি কর্মীদের কেন রাখা হবে না?’ কমিশনের তরফে দাবি করা হয়, ‘গণনায় রিটার্নিং অফিসারের সর্বোচ্চ ক্ষমতা রয়েছে। তিনি রাজ্য সরকারের ক্যাডারেরই আধিকারিক। তা ছাড়া, প্রত্যেক প্রার্থীর নিজস্ব কাউন্টিং এজেন্ট গণনায় থাকবেন। তাই মামলায় যে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’

            দু’পক্ষের সওয়াল জবাবের পরে আদালতের পর্যবেক্ষণ, বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, কেন্দ্র কিংবা রাজ্য সরকারি আধিকারিকদের আলাদা হিসাবে দেখা উচিত নয়। তারা সকলেই সরকারি আধিকারিক। তাই কমিশনের এই নির্দেশিকাকে ‘বিধি বিরোধী’ বলা চলে না। সুপ্রিম কোর্ট জানায়, গণনা সংক্রান্ত তৃণমূলের মামলায় তারা এখনই কোনও নির্দেশ দিতে রাজি নয়। কমিশন নিজের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কাজ করতে পারবে। অতিরিক্ত কোনও নির্দেশের প্রয়োজনীয়তা নেই আপাতত।

             তৃণমূলের আইনজীবী কপিল সিব্বলের দাবি, আদালতের নির্দেশের ‘ভুল ব্যাখ্যা’ হচ্ছে। তাদের আর্জি খারিজ হয়নি বলেই দাবি করছেন সিব্বল। তৃণমূলের আইনজীবীর বক্তব্য, প্রথমে ওই বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল ঠিকই। কিন্তু পরে ওই বিজ্ঞপ্তিরই সঠিক ভাবে বাস্তবায়নের দাবি তুলেছিলেন তারা। সুপ্রিম কোর্টও কমিশনকে সেই নির্দেশই দিয়েছে বলে জানান সিব্বল। শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পরে বিবৃতি দিয়ে তৃণমূল জানিয়েছে, তারা আশা রাখছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো ভোটগণনার প্রক্রিয়া স্বাধীন, স্বচ্ছ ও ভারসাম্যপূর্ণ ভাবে হবে।    

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *