শনিবার | ০২ মে ২০২৬

ক্ষমতায় ফিরছে তৃণমূল, আত্মবিশ্বাসী মমতা

 ক্ষমতায় ফিরছে তৃণমূল, আত্মবিশ্বাসী মমতা

কলকাতা, ২ মে-  দু’শোর বেশি আসনে জিততে চলেছে তৃণমূল, শনিবার কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে ফের এমন বার্তা দিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে মমতার সঙ্গেই ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা বৈঠকে মমতা দাবি করেছেন, ভুয়ো এক্সিট পোল দেখিয়ে বিজেপি সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করছে। তার দাবি, এর মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করা হচ্ছে এবং এই বিষয়ে তাদের কাছে প্রমাণও রয়েছে।

            শনিবার রাজ্যের ২৯১ টি কেন্দ্রের কাউন্টিং এজেন্টদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে বসেন মমতা ও অভিষেক। সূত্রের খবর, আজকের এই বৈঠকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অভিষেক জানিয়েছেন, একুশের নির্বাচনের থেকেও ছাব্বিশে বেশি আসন পাবে তৃণমূল।  বৈঠকে মমতা বলেছেন, ‘আপনারা জিতবেন। চিন্তা করবেন না। ১০০০ বা ২০০-৩০০ ভোটে কোথাও জিতলে পুনর্গণনা চাইবেন। ভোর ৫টার মধ্যে গণনাকেন্দ্রে পৌঁছে যাবেন। সঙ্গে ডায়েরি রাখবেন, ইভিএম খোলার সঙ্গে সঙ্গে নোট করবেন। আর দুর্বল হলে তৃণমূল করার দরকার নেই।’

            দলের কর্মীরা বাইরের কারও দেওয়া খাবার যাতে না খান সেই বিষয়েও সতর্ক করেছেন তৃণমূলনেত্রী। তার বার্তা, ‘কাউন্টিং এজেন্টরা হালকা খাবার খাবেন। বাইরের জল নেবেন না, বাড়ির জল নেবেন। পান, বিড়ি, সিগারেট ওইদিন বা আগেরদিন কেউ নেবেন না। কাউন্টিং সেন্টারে চা খেতে না দিলে ওদেরই ব্যবস্থা করতে বলবেন।’ মমতার আরও পরামর্শ, ‘আপনাদের চোখ ধাঁধিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে। কাউন্টিং সেন্টারে চোখ খোলা রাখবেন। ডেটা ঠিক করে কম্পিউটারে তুলছে কিনা, সেদিকে নজর রাখবেন। আপনার ভোট বিজেপির ঘাড়ে দিয়ে দিতে পারে। খুব কষ্ট করে লড়াই করেছেন আপনারা, জিততে হবে। যারা কষ্ট করেছেন, আক্রান্ত হয়েছেন, দল তাদের পুরস্কৃত করবে।’ তৃণমূলনেত্রী স্পষ্টভাবে আজ জানিয়ে দিয়েছেন, যতক্ষণ না দলের তরফে নির্দেশ আসছে ততক্ষণ কাউন্টিং সেন্টার ছাড়বেন না কাউন্টিং এজেন্টরা।

            ভোটগণনার সময়ে কী ধরনের কারচুপি হতে পারে তা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিহার, দিল্লির প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন তিনি। তার কথায়, ‘ইভিএম আনার পর ফর্ম ১৭ সি-র সঙ্গে আমাদের সিরিয়াল নম্বর মেলাতে হবে। নম্বর ম্যাচ না করলে মেশিন খোলা যাবে না। ভিভিপ্যাট কাউন্টিংয়ের দাবি জানাতে হবে। নম্বর মিলে গেলে সিল, তারিখ, সময় যাচাই করতে হবে। প্রথম দফা, দ্বিতীয় দফা মিলিয়ে নেবেন। টোটাল বোতামের নম্বর মেলাবেন। ১৭ সি ফর্মের সঙ্গে সেটা মিলতে হবে। তারপর রেজাল্টের বোতাম টিপে ধরে ধরে কোন প্রার্থী ক’টা পেয়েছে দেখবেন। ডায়রি নিয়ে যাবেন। সুবিধা অ্যাপে তোলার সময় সেটা ওখানেই করতে হবে। কিন্তু কোন প্রার্থী ক’টা ভোট পেয়েছে সেটা ফরম্যাট করে নিয়ে যাবেন। নোট করবেন। এই চুরি বিহারে, দিল্লিতে হয়েছে।’

            বৈঠকে অভিষেক অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে বিজেপি সাধারণ মানুষকে, বিশেষ করে মহিলাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। গ্রাম থেকে পাড়া— প্রতিটি জায়গায় গিয়ে মহিলাদের উপর অত্যাচার চালানো হয়েছে, এমনকি শিশুদেরও রেহাই দেওয়া হয়নি। সংবাদমাধ্যমের একাংশও এই কাজে পরোক্ষভাবে তাদের সাহায্য করছে। তিনি আরও বলেছেন, ‘বিরোধীরা সবরকমভাবে অন্যায় পন্থা নেওয়ার চেষ্টা করবে, কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেস শুরু থেকেই তা প্রতিহত করেছে এবং ভবিষ্যতেও সেই লড়াই চালিয়ে যাবে। সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এগজিট পোল নিয়ে বিজেপি নিজেও ভরসা করতে পারছে না যে তারা সরকার গঠন করবে। বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে তারা ভালভাবেই অবগত।’ হুঁশিয়ারির সুরে অভিষেক বলেছেন, ‘কোনও সাধারণ পর্যবেক্ষক বা পুলিশ পর্যবেক্ষকই রেহাই পাবেন না। যারা অসাংবিধানিক কাজে যুক্ত হয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দমদম ও ব্যারাকপুরের দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে রাজীব কুমারকে।’ আজ শীর্ষ আদালতের রায় প্রসঙ্গে অভিষেক বলেছেন, ‘আজ আদালতে এ বিষয়ে বিরোধীপক্ষ ধাক্কা খেয়েছে। আগে বলা হয়েছিল, গণনা কেন্দ্রে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কর্মীরাই থাকবেন। কিন্তু সেই নির্দেশকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, গণনা কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য—উভয় পক্ষের কর্মীরাই উপস্থিত থাকতে পারবেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *