সোমবার | ০১ জুন ২০২৬

তৃণমূল ভাঙতে ভয় দেখানো হচ্ছে দলের নেতাদের, অভিযোগ মমতার

 তৃণমূল ভাঙতে ভয় দেখানো হচ্ছে দলের নেতাদের, অভিযোগ মমতার

কলকাতা, ১ জুন – ভয় দেখিয়ে তার দলের নেতা ও বিধায়কদের ওপর নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে বিষ্ফোরক অভিযোগ তুললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সমাজমাধ্যমে লাইভে এসে তৃণমূলনেত্রীর অভিযোগ, ভয় দেখিয়ে, টাকা ছড়িয়ে তার দলের বিধায়ক-সাংসদকে ভাঙিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে পদ্মশিবির। আবার তারই দলের কয়েকজন নেতা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে দাবি করেছেন মমতা।

            এই অভিযোগ তোলার পাশাপাশি তৃণমূলনেত্রী প্রত্যয়ের সঙ্গে জানিয়েছেন, তৃণমূলকে ভাঙা অত সহজ নয়। কিছু নেতা শিবির পাল্টানোর চেষ্টা করলেও কোনও লাভ হবে না। কারণ তার দলের কর্মীরাই সম্পদ। আর সেই কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আবার দলকে শক্তিশালী করবেন নেত্রী নিজেই। ফেসবুক লাইভে মমতা বলেন, ‘আমাকে চার জন এমএলএ (বিধায়ক) কমপ্লেন (অভিযোগ) করে গিয়েছেন। তাদের পুলিশ দিয়ে বলানো হচ্ছে, আপনি যদি মিটিংয়ে যান অস্ত্র আইন, গাঁজা কেস দিয়ে ধরা হবে। এটা কোন গণতন্ত্রের উদাহরণ? অত্যাচারের সমস্ত সীমা লঙ্ঘিত হয়েছে রাজ্যে।’

            এদিনই সই জাল কান্ড ইস্যুতে তৃণমূলের অস্বস্তি বেড়েছে। সোমবারই বহিষ্কার করা হয় দলের দুই বিধায়ককে। তৃণমূলের ৫০ জন বিধায়ক দল ভেঙে বেরিয়ে যেতে পারেন বলেও তৈরি হয়েছে জল্পনা। এমন কিছু ঘটলে বাংলায় বিরোধী দলের মর্যাদাও হারাবে তৃণমূল। মহারাষ্ট্রের শরদ পাওয়ার, উদ্ধব ঠাকরের হাত থেকেও একইভাবে দলের রাশ চলে গিয়েছিল। কিন্তু মমতার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, ‘আমি বড় খেলোয়াড়।’ নাম না করে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেছেন মমতা। তার মন্তব্য, ‘সিপিএম করত। আমাদের ভুল হয়েছে তাকে টিকিট দেওয়া। পায়ে এসে পড়েছিল। সেদিন সিপিএম ঠিক করেছিল। অত্যন্ত এই একটি ক্ষেত্রে আমি তাদের প্রশংসা করি। তা সত্ত্বেও আমরা তাকে দু’বার সাংসদ করেছি। অন্য লোকের টিকিট কেটে তাকে হাওড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। এরা যে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে, সেজন্য ক্ষমা করিনি।’

            তৃণমূলনেত্রী বলেন, ‘নেতারা ভয় পান। কর্মীরা ভয় পান না। পার্টি থেকে টিকিট পেয়ে এমএলএ হয়েছেন, এমপি হয়েছেন। ক্ষমতা এনজয় (উপভোগ) করেছেন। আজ যেই পার্টি হেরে গিয়েছে, তখন অন্য পার্টির সঙ্গে আন্ডারস্ট্যান্ডিং করছেন! কেউ বলছেন, সম্পদ বাঁচাতে, কেউ বলছেন, পলিশ থ্রেট করছে। কেউ বলছেন, পুলিশ অ্যারেস্ট করবে বলে… তা হলে হাজার হাজার কর্মী যারা গ্রেফতার হয়েছেন, তারা কী করবেন? তারা আপনার জন্য খাটেননি? তাদের কথা একবার ভেবে দেখুন।’ সম্প্রতি সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে হেনস্থার ঘটনা ঘটেছে। সেই প্রসঙ্গ উঠে এসেছে মমতার লাইভে। তিনি বলেন, ‘আমার পরিবারের একজনের জীবন যাচ্ছিল… লিঞ্চিং করেছেন তাকে। একটা ইয়ং ছেলে ফাইট করেছে। মাথানত করেনি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে মেরেছে। তিনি ফাইট করছেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *