মঙ্গলবার | ০২ জুন ২০২৬

বিধানসভায় সই-জালিয়াতি বিতর্কে সরব মুখ্যমন্ত্রী, CID তদন্তে নতুন মোড়

 বিধানসভায় সই-জালিয়াতি বিতর্কে সরব মুখ্যমন্ত্রী, CID তদন্তে নতুন মোড়

অনলাইন ডেস্ক, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সই-জালিয়াতির অভিযোগে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari বিধানসভায় কড়া অবস্থান নিয়ে জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র জালিয়াতি ও নথি বিকৃতির ধারায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ঘটনার সূত্রপাত বিরোধী দলনেতা হিসেবে Shobhandeb Chattopadhyay-র নাম প্রস্তাব করে বিধানসভা সচিবালয়ে জমা দেওয়া একটি প্রস্তাবপত্রকে ঘিরে। অভিযোগ, সেই প্রস্তাবপত্রে কয়েকজন তৃণমূল বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, তৃণমূলেরই দুই বিধায়ক অভিযোগ জানিয়েছেন যে তাঁদের প্রকৃত সম্মতি বা স্বাক্ষর ছাড়াই তাঁদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে।এই অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই CID তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারীরা একাধিক বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাঁদের স্বাক্ষরের নমুনাও সংগ্রহ করেছেন। তৃণমূল বিধায়ক Nayana Bandyopadhyay-এর কাছ থেকেও CID নমুনা স্বাক্ষর নিয়েছে। যদিও তিনি দাবি করেছেন, বৈঠকে নিজের নাম লিখেছিলেন, কিন্তু জালিয়াতির অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।এদিকে তদন্তের আঁচ পৌঁছেছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছেও। CID এই মামলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee-কেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে বলে জানা গিয়েছে।

বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয় যখন অভিযোগ উত্থাপনকারী দুই তৃণমূল বিধায়ক—Sandipan Saha এবং Ritabrata Banerjee—কে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। তৃণমূলের দাবি, তাঁরা ‘দলবিরোধী কার্যকলাপ’-এ যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছে, অভিযোগ তোলার কারণেই কি তাঁদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হল?বিধানসভায় এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “হেরে যাওয়ার পরেও চুরির অভ্যাস কাটেনি, ভেটেরান চোর এরা। এত প্রতিষ্ঠিত চোর দেখা যায় না। এরা এত বড় দুর্নীতিগ্রস্ত যে সই পর্যন্ত জাল করেছে। CID-কে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। Forgery-র যে যে ধারা প্রযোজ্য, সেই অনুযায়ী তদন্ত হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, রাজ্য সরকার এই ঘটনাকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিতর্ক হিসেবে নয়, সম্ভাব্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবেও দেখছে।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভার ভেতরে বিরোধী শিবিরের নেতৃত্ব নির্বাচনকে ঘিরে এমন জালিয়াতির অভিযোগ নজিরবিহীন। তদন্তের অগ্রগতির উপর নির্ভর করবে অভিযোগ কতটা সত্য এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত। তবে ইতিমধ্যেই এই বিতর্ক রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সংঘাতের জন্ম দিয়েছে এবং আগামী দিনে CID তদন্তের রিপোর্টের দিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *