সংসদে বিতর্কের মধ্যেই কার্যকর হয়ে গেল মহিলা সংরক্ষণ আইন
নয়াদিল্লি, ১৭ এপ্রিল : মহিলা সংরক্ষণ এবং লোকসভায় আসনসংখ্যা বৃদ্ধি সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে সংসদে আলোচনা চলছে। শুক্রবার এই নিয়ে ভোটাভুটি হওয়ার কথা লোকসভায়। এই আবহে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রকের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, ১৬ এপ্রিল থেকেই মহিলা সংরক্ষণ আইনটি বলবৎ হল। লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত করার যে বিল ২০২৩ সালে সংসদে পাশ হয়েছিল, তা এখন থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ আইনি রূপ পেল।
লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ সংরক্ষণ সংশোধনী আইন শাসক-বিরোধী জোর তরজা চলছে। প্রবল আপত্তি বিরোধীদের। আবার অবস্থানে অনড় শাসক শিবির। মধ্যরাত পর্যন্ত চলেছে বিতর্ক। সেই আবহের মধ্যেই বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রকের এই বিজ্ঞপ্তি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৩ সালেই সংবিধান সংশোধন করে দেশের সব আইনসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের আইন পাশ করায় মোদি সরকার। সেবার বিরোধীরাও ওই বিলটিকে সমর্থন করে। বিলে উল্লেখিত ছিল, মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। সেখানে আরও বলা হয়েছিল, জনগণনার পরে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। তারপর ওই আসনের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হবে মহিলাদের জন্য। যেহেতু ২০১১ সালের পর আর কোনও জনগণনা হয়নি, তাই ওই আইন আর কার্যকর হয়নি।
হঠাৎ কেন্দ্রের তরফে কেন এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হল তা নিয়ে কিছু জানানো হয়নি। আইন মন্ত্রকের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সংবিধানের (১০৬তম সংশোধন) আইন ২০২৩-এর ১ নম্বর ধারার (২) উপধারা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিল দিনটিকে এই আইনের সংস্থানগুলি কার্যকর করার তারিখ হিসেবে ধার্য করছে। মহিলা সংরক্ষণ এবং লোকসভায় আসনবৃদ্ধি সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে ভোটাভুটির আগে লোকসভার সকল সদস্যের উদ্দেশে ভেবেচিন্তে পদক্ষেপ করার পক্ষে সওয়াল করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তার আবেদন, ‘দেশের নারীশক্তির সেবা করার ক্ষেত্রে এটি বড় সুযোগ। তাদেরকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করবেন না!’ ভোটাভুটির প্রাক্কালে মোদী এক্স হ্যান্ডলে এক দীর্ঘ পোস্ট করেন। লেখেন, ‘চার দশক ধরে নারী সংরক্ষণের বিষয়টি নিয়ে প্রচুর রাজনীতি হয়েছে। এখন সময় এসেছে, দেশের অর্ধেক জনসংখ্যাকে অবশ্যই তাদের অধিকার দিতে হবে।’ মোদির আর্জি, ‘স্বাধীনতার এত দশক পরেও দেশের কোনও কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ভারতীয় নারীদের এত নগণ্য প্রতিনিধিত্ব থাকা ঠিক নয়। অনুগ্রহ করে, যথাযথ বিবেচনা এবং সম্পূর্ণ সংবেদনশীলতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিন। নারী সংরক্ষণের পক্ষে ভোট দিন।’
বিরোধীদের অভিযোগ, মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধনী বিলকে সামনে রেখে লোকসভার আসন বৃদ্ধিতে সক্রিয় হয়েছে বিজেপি।