কবিতা : প্রুফ রিডার
বাসব মৈত্র
পালসারের গ্রিপার ছুঁয়ে তোমার দীর্ঘশ্বাস, সংসার মাতানো স্ত্রীরা নিয়ে গেলো আড্ডাবাজ বন্ধুদের। তুমি দেখেছিলে বছর ২৩/২৪-এর দিনে বন্ধুদের আড্ডা, টি উশন, দেখেছিলে বন্ধুত্বের জোট।
এলোপাথাড়ি চাকরির ইন্টারভিউ পঁচিশ হতে না হতেই। কোনোদিন ভেবেছিলে মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ হবে? পুঙ্কার কথায় তুমি আর প্রণব চলে গেলে ইন্টারভিউ দিতে।
_ ‘ মানুষের হৃদপিণ্ডের একটা ছবি এঁকে দেখান তো’ _ এসি ঘর,টেবিলের ওপাশ থেকে এরিয়া ম্যানেজারের গমগমে গলা
ক্লাস সেভেন থেকে তুমি জীবন বিজ্ঞানের সাত নম্বরের অঙ্কনের প্রশ্নে ধেড়াও।
সাতে দেড় _ একটি দ্বিবীজপত্রী বীজের গঠন _ তুমি আজ ‘ পরিবর্তিত পরিস্থিতি’ র সূত্র মেনে হৃৎপিণ্ডের ছবি_ তাও তো ক্লাস টেনের টেস্ট নয়। ইন্টারভিউ বোর্ড।
_ এটা এলোপ্যাথি না হোমিওপ্যাথি কোম্পানি প্রণব? নিজেকে নিজে প্রশ্ন করেছ কতদিন_ ইন্টারভিউ দিতে গেছিলে কেন?
চাকরি জীবনের শেষ কথা কে বলল? টিউশন আছে। ছোট ছোট লেখা, ম্যাগাজিন_ চেষ্টা তো করতে হবে। একটা পাবলিকেশন হাউস খুলতে পারো।কত রকমের ব্যবসা আছে _ নিজেকেই বলে যাওয়া এক নাগাড়ে।
বাবার ব্যবসা, তুমি লোহা লোক্করের গন্ধ ভালবাস না তা বলে ওষুধের গন্ধ সারাদিন!!!
পালসারের গ্রীপার, তখন কেউ বলছে, এল এল বি পড়ো। উকিল হলে দু’হাতে কামাবে। কেউ বলছে, এমবিএ…
পালসরের গ্রিপার, বন্ধুরা তখন অধিকাংশই এম আর।স্টকিস্ট।ট্যুর সাত দিন অন্তর। আর ডেলি অ্যালাওয়েন্সের গল্প। সিঁথিতে শঙ্করদার চায়ের দোকান, টিউশনগুলো ছেড়ে দিলে নতুন, চাকরির ইঙ্গিতে।বন্ধুদের তখন বাইকের ভুবন কাঁপানো হর্ন।
অগত্যা চার্টার্ড ফার্ম। একশো এন্ট্রি। কখনো ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন,সেলসের চাকরি_ শ্যামনগর। ইছাপুর। এক মফস্বল থেকে অন্য মফস্বল। গ্রীষ্মকাল। দুপুরে গাছতলায় সবাই জিরোচ্ছে। টিফিন।
আর একটু দূরেই ট্রেন লাইন দিয়ে চলে যাচ্ছে ট্রেন। মনে পড়ে যেত, অশোকগড় স্কুলে মাধ্যমিকের সিট। উত্তর লিখবে কী! বেঞ্চ থেকে দেখতে মালগাড়ি। ট্রেনটা যেন একটা ছোট পাহাড়ের ওপর দিয়ে যাচ্ছে।
স্কুল, চক, ডাস্টার,ব্ল্যাকবোর্ড_ তুমিও মনে মনে চাকরি চাইতে অশোকগড় স্কুল টিচারের।
আজ তার কত পরে এসে এক প্রুফ রিডার।