পাঁচটি কবিতা
শিবালোক দাস
১
জন্ম
দুহাতে সমুদ্র…
শান্ত হয়ে আড়াল করো পশ্চিম!
এ কাঁটা যেন ভুলে গেছে, নতমুখে, লজ্জায়।
জন্ম এত বিক্ষিপ্ত?
অতল সন্ধ্যার ঋণে –
রক্ত মেখে দাঁড়ায় ব্যর্থ আলোয়…
পরোক্ষ মৌতাতে ক্ষমা আজ অখণ্ড….
২
পারাপার
কৃষ্ণগহ্বরের ঘুণে নির্লিপ্ত জল—
জেনেছি কঠিন ভাস্বরে ফুটে ওঠে
সহজাত পতন…
মাটিতে পুঞ্জীভূত দৃষ্টিপাতে যাকে
দেখো, তার অন্তরে কি খুঁজে
পাও পারাপার?
হাতে একরাশ অন্ধকারশূন্য ঝংকার।
৩
রচনার নিমিত্তে
পুড়তে পুড়তে রোজ দেখি…
দাহ এতকাল উড়িয়ে এসেছে অট্টহাস্য,
নিষ্কর্মা দিনে যাকে লিখতে, হয়েছি ব্যর্থ…
আনাগোনা শুরু হবে বলে
ধরা দেওয়া সমস্ত শুকনো
ফুল ঝরে পায়ে,
আমি কি এতটাই নির্ভার ?
৪
লোভাতুর
বৃষ্টিপাত এ কথা জানেনা
কেন নিশাচর হয়
নাভিকুণ্ড,
সুদূর, তুমি বলতে বলতে মুক্ত
হও অভিশাপে, নিহত প্রতিমায়
নিঃশেষিত নিঃশব্দ ইতিকথা…
লোভাতুর, উৎসমায়া ভুলে যাও।
হেঁটে যাবার পথে পড়ে থাকে অসম্পূর্ণ শূন্যতা।
৫
বাহু
পৃথিবীর এক প্রান্তে মহাসমুদ্রের শীতঘুম
নক্ষত্রের নামে জন্ম ত্যাগ করলে!
বাহু বাড়াই…
প্রাক্তনে বিভোর রক্ত ওড়ালে
মুগ্ধ গোপন বীজে অদৃশ্য ইন্দ্রজাল —
দেখাই দিন, উৎসুক কোনো এলোমেলো অবকাশে…
আমার অগ্নিস্পর্শ শেষ হয়নি,
বাহুতে হেঁটে পৌঁছেছি, শীতের ছাইয়ে
পীতবর্ণে সজ্জিত সমান্তরাল…
মণিকাঞ্চন, উজ্জ্বল করো আমায়!