সাবধান! রূপচর্চা থেকেও হতে পারে স্ট্রোক
বিদিশা ঘোষ
প্রায় সব মহিলারাই রূপচর্চার জন্য বিউটি পার্লারে গিয়ে থাকেন। সারা দিনের কাজের শেষে আরামের জন্য অনেক মহিলা বাড়িতে শ্যাম্পু না করে যান স্যালোঁতে। তবে এর ফলে নিজের অজান্তেই নিজের বিপদ ডেকে আনছেন বলে এক গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়েছে। পার্লার বা স্যালোঁতে গিয়ে শ্যাম্পু করান যাঁরা, তাঁদের ক্ষেত্রে স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। আমেরিকান জার্নাল অফ ইমারজেন্সি মেডিসিনের ২০২৬ সালের সংস্করণে প্রকাশিত একটি গবেষণায় উঠে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যই। এই গবেষণায় খতিয়ে দেখা হয়েছে ২২টি স্টাডিকে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই ধরনের স্ট্রোককে বিউটি পার্লার স্ট্রোক সিনড্রোম বলা হচ্ছে।
হাইপার এক্সটেনশন বিউটি স্ট্রোক, যা বিউটি পার্লার স্ট্রোক সিনড্রোম নামে পরিচিত হচ্ছে। এই রোগটি সম্পর্কে চিকিৎসকেরা বলেছেন, পার্লার বা স্যালোঁতে সাধারণত শ্যাম্পু করার আগে স্পা করতে যান যাঁরা, তাঁদের ঘাড় নিচু করে বেসিনের উপরে মাথা রেখে চুল ধোয়ানো হয়। এই hair wash বেসিনে চুল ধোয়ানোর ফলে ঘাড়ে থাকা ভার্টিব্রাল আর্টারিতে প্রচণ্ড রকমের চাপ পড়ে। ভার্টিব্রাল আর্টারি হলো ঘাড়ের প্রধান ধমনী, যা প্রধানত মস্তিষ্ক থেকে মেরুদণ্ডে রক্ত পরিবহন করে। বেসিনের উপর দীর্ঘক্ষণ ঘাড় ঝুলিয়ে বসে থাকার কারণে এই ধমনীতে প্রচণ্ড চাপ পড়ে এবং তার ফলে ধমনীটি ছিঁড়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে। এর ফলে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। একইসঙ্গে ভার্টিগো, দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যাওয়া, মাথাধরা, বাকশক্তি সাময়িকভাবে লোপ পাওয়া, মাথা ঘোরা, দেহের ভারসাম্য হারিয়ে যাওয়া এবং পক্ষাঘাতের মতো ঘটনাও ঘটতে পারে। কোনও মহিলার সঙ্গে এরকম কিছু ঘটলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে গেলে এবং সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় করা গেলে এই ধরনের স্ট্রোক হওয়ার পরেও প্রাণে বেঁচে যাওয়ার আশা থাকে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ধরনের স্ট্রোক হওয়ার পর মাত্র আড়াই ঘণ্টা সময় হাতে থাকে। তার মধ্যেই হাসপাতাল অথবা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। তাহলেই প্রাণ বাঁচানোর সম্ভাবনা থাকে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, গবেষকদের মতে এই ধরনের স্ট্রোকে আক্রান্ত মানুষদের মধ্যে ৯৩% মহিলা। ১৯৯৩ সালে বিউটি পার্লার স্ট্রোক সিনড্রোমে মৃত্যু হয়েছিল এক মহিলার। ২০২২ সালেও এমন ঘটনা ঘটেছে এবং স্যালোঁতে চুলে শ্যাম্পু করাতে গিয়ে স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন এক মহিলা। এইসবই হয়েছিল রক্তবাহী ধমনিগুলিতে আঘাত লাগার কারণেই। এবং দেখা যাচ্ছে, প্রতিবছরই এই ধরনের ঘটনা বেড়েই চলেছে। এই ২০২৬-এ মোট বিউটি পার্লার স্ট্রোক সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১৮৭। আর শুধুমাত্র পার্লারে বা স্যালোঁতে শ্যাম্পু নয়, অপটু হাতে ঘাড়ে চাপ দিয়ে ম্যাসাজ করা, ঘাড় বেশি ঝুলিয়ে বা হেলিয়ে রেখে তাতে চাপ দেওয়া, অথবা আঘাত বা দুর্ঘটনার কারণেও ভার্টিব্রাল আর্টারি ডিসেকশন হতে পারে। সেক্ষেত্রে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, ফলে অক্সিজেনের অভাবে রোগীর স্ট্রোক হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে এমনও দেখা গিয়েছে, রক্তবাহী ধমনী ছিঁড়ে যাওয়ার কারণেই আচমকা স্পন্দন বন্ধ হয়ে গিয়েছে রোগীর। সে ক্ষেত্রে গবেষকদের পরামর্শ, স্যালোঁতে শ্যাম্পু করার সময় যদি ঘাড়ের নিচে নরম বালিশ রেখে করা যায় এবং পটু, দক্ষ প্রফেশনালদের দিয়েই একমাত্র মালিশ করা যায়, তবেই এই ধরনের আচমকা রোগ এড়ানো সম্ভব বলে জানানো হয়েছে।