ভোটের দু’দিন আগে ট্রাইবুনাল ছাড়পত্র দিলে দেওয়া যাবে ভোট, নির্দেশ শীর্ষ আদালতের
এসআইআর মামলায় উল্লেখযোগ্য নির্দেশ শীর্ষ আদালতের
কলকাতা, ১৬ এপ্রিল – বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আগে নজিরবিহীন নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত। বৃহস্পতিবার আদালত জানিয়ে দিল, নির্বাচনের দু’দিন আগে পর্যন্ত ট্রাইবুনাল যে বিবেচনাধীন ভোটারদের আবেদনের নিষ্পত্তি করে নাম তালিকায় তোলার ক্ষেত্রে ছাড়পত্র দেবে, তারা ভোট দিতে পারবেন। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া কয়েক লক্ষ মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে সংবিধানের ১৪২ ধারা প্রয়োগ করে এই রায় দিল আদালত। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের পরে উচ্ছ্বসিত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তার প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, ‘আমি খুব খুশি, বিচারব্যবস্থার উপর গর্বিত। মা-মাটি মানুষ জিন্দাবাদ। আজকে আমার থেকে খুশি আর কেউ নয়।’
প্রসঙ্গত, রাজ্যে প্রথম দফার ভোট ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার ভোট রয়েছে ২৯ এপ্রিল। বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রথম দফার ভোটে রাজ্যের ১৫২টি কেন্দ্রে যে বিবেচনাধীন ভোটারদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে যাদের আবেদন নিষ্পত্তি করে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত ছাড়পত্র দেবে ট্রাইবুনাল, তারা ভোট দিতে পারবেন। দ্বিতীয় দফার ক্ষেত্রে সেই সময়সীমা ২৭ এপ্রিল। ট্রাইবুনাল নিষ্পত্তি করে ছাড়পত্র দিলে ওই ব্যক্তিরা ভোট দিতে পারবেন। তবে ট্রাইবুনাল যে বিবেচনাধীন ভোটারদের নাম বাদ দেবে, তারা ভোট দিতে পারবেন না। সাধারণত প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিনে কমিশন ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ করে দেয়। এরপর আর কোনও নাম তালিকায় ঢোকানো যায় না। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এ দিন সেই প্রথা ভেঙে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় রাজ্যে প্রায় ৯১ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বাদ পড়া ভোটাররা শীর্ষ আদালতের নির্দেশে ট্রাইবুনালে আবেদন জানাতে পারেন। ১৯ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির একটি প্যানেল তৈরি করা হয়েছে, যারা বর্তমানে ‘আপিল ট্রাইব্যুনাল’-এ নথিপত্র খতিয়ে দেখছেন। সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যে জানিয়েছে, ভোটাররা নির্বাচন কমিশনের মোবাইল অ্যাপ বা কমিশনের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। তবে ট্রাইব্যুনালে সশরীরে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক নয়। জেলাশাসক বা মহকুমা শাসকের দফতরেও নথি জমা দেওয়া যাবে। রাজ্য বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে সুপ্রিম কোর্টের এই ‘ব্যতিক্রমী’ হস্তক্ষেপে রাজ্যে রাজনৈতিক পারদ যেমন চড়ল, তেমনই কয়েক লক্ষ মানুষের ভোটদানের পথ প্রশস্ত হল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এককথায় এই রায় ঐতিহাসিক।
বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে যান তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই তিনি সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তারা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করুন। নিশ্চয় ভোটাধিকার ফিরে পাবেন। আমি খুব খুশি। আমার করা মামলায় এই রায়। বিচারব্যবস্থার উপর গর্বিত। মা-মাটি-মানুষ জিন্দাবাদ, ধন্যবাদ। আজকে আমার থেকে খুশি আর কেউ নয়।’ এই প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি যাঁদের নাম ভোটের দু’দিন আগে তালিকায় ।যুক্ত হবে ,সেই সমস্ত ভোটারদের যেন কোনও অসুবিধার মুখে পড়তে না হয়, সেই দিকটিও দলের নেতাকর্মীদের দেখতে বলেছেন তিনি।