নির্বাচনের দু’দিন আগে আচমকা ভোটের ময়দান থেকে সরে দাঁড়ালেন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির
কলকাতা, ১৯ মে- নির্বাচনের ময়দান থেকে এবার সরে দাঁড়ালেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার এই ফলতা আসনটি নিয়ে কম চর্চা হয়নি। দিন দুয়েক আগেই ফলতায় নির্বাচনের সভা থেকে জাহাঙ্গির খানের ‘ভার’ নিজের হাতে নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বলেছিলেন, ওর দায়িত্ব আমার উপর ছেড়ে দিন। শুভেন্দু ভূয়সী প্রশংসা করে ভোটের ময়দান ছেড়ে পালিয়ে গেলেন ফলতার দাপুটে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির।
২৯ এপ্রিল ছিল রাজ্যের শেষ দফা বিধানসভা ভোট। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের বেশ কিছু বুথে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ইভিএমে আতর, কালি, টেপ লাগানোর মতো অভিযোগ পায় কমিশন। পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলেন স্বয়ং শুভেন্দু অধিকারী। তৎকালীন বিদায়ী বিদায়ী বিরোধী দলনেতা জানান, ফলতার খবর পেয়ে তার মনে হয়েছে কমিশনের উচিত ওই কেন্দ্রে আবার ভোট করানোর। ঘটনাক্রমে কমিশন পুনর্নির্বাচনেরই সিদ্ধান্ত নেয়। বিধানসভা নির্বাচনের বাকি ২৯৩ টি আসনের ফল বেরনোর পরে দেখা যায়, বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। এবার এই ফলতার নির্বাচনের জন্য ইতিমধ্যে প্রচারে নেমেছে গেরুয়া শিবির। দিন দুয়েক আগে সভা করার পরে আজ রোড শো করেন শুভেন্দু। সভা করেছেন শমীক ভট্টাচার্য।
ফলতার বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু যখন ‘রোড শো’ করছেন ফলতায়, তখন প্রচারে না বেরিয়ে বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করেন অভিষেকের পছন্দের জাহাঙ্গির। তিনি বলেন, ‘আমি ফলতার ভূমিপুত্র। আমি চাইব ফলতা শান্তিতে থাকুক, সুস্থ থাকুক এবং ভাল থাকুক। ফলতায় আরও বেশি বেশি উন্নয়ন হোক।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল সোনার ফলতার। তাই আমাদের সম্মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ফলতার উন্নয়নের জন্য স্পেশ্যাল প্যাকেজ দিচ্ছেন। সেই জন্য আমি ২১ মে যে পুনর্নির্বাচন আছে, সেই লড়াই থেকে আমি নিজেকে দূরে সরিয়ে নিলাম।’ যদিও মনোনয়ন প্রত্যাহারের তারিখ পেরিয়ে গিয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও ইভিএমে জাহাঙ্গিরের নামেই বোতাম থাকবে।
এই ঘটনায় তৃণমূলকে একযোগে কটাক্ষ করেছে সিপিএম ও বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘লেজ গুটিয়ে পালিয়ে গেলেন। ওনার বস কোথায়? যে রাষ্ট্রশক্তিকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছিল আমার ডায়মন্ড হারবার মডেলে হাত দিয়ে দেখাক।’ সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর কটাক্ষ, ‘এরা বড় বড় কথা বল, এত ঔদ্ধত্য ভয়ে পালিয়ে গেল? সিপিএম বারবার আক্রান্ত হয়েছে তাও মাটি কামড়ে থেকে লড়াই চালিয়েছে। এদের মতো পালিয়ে যায়নি।’
ফলতায় ভোটের আগে উত্তরপ্রদেশের দুঁদে পুলিশ আধিকারিক ‘সিংহম’ অজয় পাল শর্মাকে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসাবে পাঠায় নির্বাচন কমিশন। ভোটের মধ্যেই গত ২৯ এপ্রিল ভোটের আগে পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মার হুঁশিয়ারির পরেও জাহাঙ্গির বলেছিলেন, ‘পুষ্পা ঝুঁকেগা নেহি।’ তারপর রাজনৈতিক পরিস্থিতির বদল ঘটে। গেরুয়া শিবিরের ঝড়ে কার্যত পর্যুদস্ত তৃণমূল। এরমধ্যেই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। কলকাতা হাই কোর্ট থেকে রক্ষাকবচও নিয়েছেন। এবার কেন তিনি সরে দাঁড়ালেন তা নিয়েই তৈরি হয়েছে জল্পনা। যদিও তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের মন্তব্য, পুষ্পা ভয় কেন পেল, তা খতিয়ে দেখবে দল। তার কথায়, নিশ্চয় এলাকায় ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল।