কার কাছে যাবে জোড়াফুল প্রতীক, কমিশনে নিজেদের বক্তব্য জানাল তৃণমূলের দুই শিবির
কলকাতা, ১২ সেপ্টেম্বর- কার কাছে থাকবে তৃণমূলের প্রতীক, এ নিয়েই এখন জোর জল্পনা রাজনৈতিক শিবিরে। আসল তৃণমূল হিসেবে কারা স্বীকৃতি পাবে, তার ফয়সালা করতে শনিবার দিল্লিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে বৈঠকে ডেকেছিল নির্বাচন কমিশন। দু’পক্ষই বৈঠক করেছে এবং নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি জানিয়ে এসেছে।
আর কিছুদিনেই মধ্যে রাজ্যে দু’টি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন রয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে উপনির্বাচন হবে আগামী ৬ অক্টোবর। তার ভোটগণনা রয়েছে ৯ অক্টোবর। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর। সেখানেই জোড়াফুল প্রতীকে কারা লড়বে তা নিয়েই সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশন।
শনিবার প্রথমে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবিরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে কমিশন। তারপর সেখানে যান কালীঘাট তৃণমূল। আলোচনা সেরে বাইরে বেরিয়ে এসে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেতাদের একহাত নেন ঋতব্রত। তার কটাক্ষ, ‘তৃণমূল কারও বাপের সম্পত্তি নয়।’ সকাল এগারোটা নাগাদ ঋতব্রতদের সময় দিয়েছিল কমিশন। তারপর ১২ টায় সময় ছিল কালীঘাট তৃণমূলের। বৈঠক সেরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ঋতব্রত বলেন, ‘ভিতরে যা বলেছি তা সংবাদমাধ্যমের সামনে বলব না। তবে এটুকু বলতে পারি, ‘না খাতা না বহি, জো মমতা ব্যানার্জি কহে ওহি সহি’— এ ভাবে কোনও গণতান্ত্রিক দল চলতে পারে না। তৃণমূল কোনও পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি নয়। এটা তৃণমূলস্তরের কর্মীদের পার্টি।’ তার সংযোজন, ‘আমরা তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের বক্তব্য কমিশনকে জানিয়েছি। কমিশন বিবেচনা করবে, আমরা আশাবাদী।’
কালীঘাট শিবিরের নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, কমিশন অন্তর্বর্তী কোনও নির্দেশ দিতে পারে। যদি সেই নির্দেশ না দেয়, তাহলে কালীঘাট তৃণমূল নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচন জোড়াফুল প্রতীকেই লড়বে। এখন প্রশ্ন হল, কমিশন কী সিদ্ধান্ত নিতে পারে? এই মুহূর্তে চার রকম সম্ভাবনার কথা বলছে ওয়াকিবহাল মহল। প্রথম সম্ভাবনা, প্রতীক এবং দলের নাম দেওয়া হল কালীঘাট তৃণমূলকে। সেক্ষেত্রে উপনির্বাচন এবং আগামী দিনের নির্বাচনে জোড়াফুল প্রতীকে লড়বেন মমতার প্রার্থীরা। দ্বিতীয় সম্ভাবনা, প্রতীক দেওয়া হল ঋত শিবিরকে। সেক্ষেত্রে মমতা তৃণমূলকে অন্য প্রতীক খুঁজে উপনির্বাচনে লড়তে হবে। সূত্রের দাবি, কালীঘাট তৃণমূল ইতিমধ্যেই বিকল্প প্রতীক হিসাবে অন্য একটি ফুলের কথা ভেবে রেখেছে। এই দুই ক্ষেত্রেই যে শিবির প্রতীক পাবে না, তারা সুপ্রিম কোর্টে যাবে। অর্থাৎ প্রতীক ভবিষ্যৎ ঝুলে যাবে। তৃতীয় বিকল্প হচ্ছে, কমিশন এখনই কোনও সিদ্ধান্ত না নিয়ে ‘স্টেটাস কো’ অর্থাৎ ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখার নির্দেশ দিল। দুই শিবিরকে আরও নথি জমা দিতে বলা হতে পারে। সেক্ষেত্রেও লাভ মমতা শিবিরের। তারাই জোড়াফুল প্রতীকে উপনির্বাচনে লড়তে পারবে। তবে চতুর্থ এবং সবচেয়ে উজ্জ্বল যে সম্ভাবনা সেটা হল অন্তর্বর্তী নির্দেশে ‘ঘাসের উপর জোড়াফুল’ প্রতীকটিই ফ্রিজ করে দেওয়া। সেক্ষেত্রে কোনও শিবিরই প্রতীক পাবে না। দুই শিবিরকেই আলাদা দল গড়ে বা ‘নির্দল’ হিসাবে লড়বে।