‘হিসাব হবে’- মমতা-অভিষেককে একযোগে আক্রমণ শুভেন্দুর
কলকাতা, ১৬ মে– আর জি কর কান্ডে ফের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি নিয়েও হুঁশিয়ারির সুর শোনা গিয়েছে শুভেন্দুর বক্তব্যে। দুই কান্ডেরই তিনি শেষ দেখে ছাড়বেন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, পূর্বতন সরকার আর জি কর হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ, খুনের ঘটনায় আসল দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা করেছে। ইতিমধ্যে তিন আইপিএসকে সাসপেন্ড করেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে শনিবার প্রথম দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে প্রশাসনিক বৈঠক করেন শুভেন্দু। প্রশাসনিক বৈঠক থেকে পুলিশকে স্বাধীনভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আবার তারপরেই ফলতায় রাজনৈতিক কর্মসূচী থেকে শুভেন্দু বলেন, ‘অভয়ার ঘটনায় আগের মুখ্যমন্ত্রীর ইশারায় এবং কথায় যারা যারা অত্যাচার করেছেন, প্রমাণ লোপাট করেছেন, অভয়ার মাকে আগের হেরো মুখ্যমন্ত্রীর কথায় যারা ঘুষ দিতে গিয়েছিলেন, সেই তিন আইপিএস সাসপেন্ড হয়েছেন। এ জেলাতেও ছাড়া হবে না। বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ পালকে প্রকাশ্যে মেরেছিল। (তাই) বারুইপুরের আইসি সাসপেন্ড! ক্যানিংয়ে বিজেপি কর্মীর উপর অত্যাচার করেছিল। (তাই) আইসি অমিত হাতি সাসপেন্ড!’ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে শুভেন্দু বলেন, ‘বিনীত গোয়েল, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, অভিষেক গুপ্তদের কল রেকর্ড, চ্যাট যখন তদন্তকারীর সামনে আনবেন, সে দিন দেখতে পাবেন, আগের সরকারের কুকীর্তি। কত নীচে নেমেছিলেন!’
একইভাবে তার নিশানায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও ছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অফিসারদের তিনি কল রেকর্ডস্, হোয়াটস্অ্যাপ চ্যাট জমা দিতে বলেছেন। তার কথায়, ‘ভাইপোর পিএ-র নির্দেশে কারা কারা ফলতা, ডায়মন্ড হারবার তথা দক্ষিণ ২৪ পরগনায় অত্যাচার করেছেন, সব বার করব।’ মুখ্যমন্ত্রী কারও নাম না-করে জানান, তিনি অভিষেকের সম্পত্তি সংক্রান্ত নথি এবং তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তারও তদন্ত হবে। কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘মাননীয় ভাইপোবাবু, কাল প্রপার্টির লিস্ট আনালাম কলকাতা কর্পোরেশন থেকে। আপনার লিপস্ অ্যান্ড বাউন্ডসে্র ২৪টি প্রপার্টি (সম্পত্তি) কলকাতায়। আমতলায় (দক্ষিণ ২৪ পরগনা) প্রাসাদের মতো অফিস! …হিসাব হবে।’ মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, ‘পুলিশকে বলেছি, কাল থেকে খাতা-পেন নিয়ে বসুন। গত ৫ বছর বা তারও আগে যত অত্যাচার হয়েছে, অভিযোগ করতে এলে নিতে হবে। এফআইআর করতে হবে। কোনও গুন্ডা বাড়িতে থাকবে না। পুলিশকে বলেছি, প্রধানমন্ত্রী আবাসের বাড়ি, আমফানের টাকা, কৃষকবন্ধু, বার্ধক্যভাতা, ১০০ দিনের কাজ— ঘুষ যদি নিয়ে থাকে সেই পঞ্চুবাবুদের জেলে ঢোকাবেন। মহিলাদের উপর শারীরিক নির্যাতনকারীরা যদি এখনও জয় বাংলা বলে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, তাদেরও ছাড়া হবে না।’