বৃহস্পতিবার | ০১ অক্টোবর ২০২৬

রাজ্যে কোথাও কোনো জোড়াফুল নেই, তৃণমূল নেই, রেজিনগরে প্রচারে গিয়ে আক্রমণ শুভেন্দুর

 রাজ্যে কোথাও কোনো জোড়াফুল নেই, তৃণমূল নেই, রেজিনগরে প্রচারে গিয়ে আক্রমণ শুভেন্দুর

রেজিনগর, ১ অক্টোবর- রেজিনগর উপনির্বাচনের প্রচারে গিয়ে তৃণমূলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কটাক্ষের সুরে দাবি করলেন, মুর্শিদাবাদের রেজিনগর তো বটেই, রাজ্যের কোথাও তৃণমূল বলে কিছুই নেই। তার মন্তব্য, ‘মাত্র দেড়শো দিনের মধ্যে রাজ্যে কোথাও কোনো জোড়াফুল নেই, তৃণমূলও নেই।’

            আগামী ৬ অক্টোবর পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে উপনির্বাচন। এই দুই আসনেই জয়ের জন্য মরিয়া গেরুয়া শিবির। নন্দীগ্রামে আগেই জয় পেয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে মার্জিন বাড়ানোর পাশাপাশি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই রেজিনগরেও জোরকদমে প্রচারে নেমেছে গেরুয়া শিবির। বৃহস্পতিবার দলের প্রার্থী শাখারভ সরকারের সমর্থনে প্রচারে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে রাজনৈতিক স্বার্থে বিভাজন ভুলে ৭০/৩০-এর সমীকরণ ত্যাগ করে সমস্ত ‘রাষ্ট্রবাদী’ মানুষকে একজোটে সরকারের পক্ষে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। জনসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা স্মরণ করে বলেন, “শক্তিপুরের রেলের মাঠে যারা সেদিন মাইক খুলে বাধা দিয়েছিল, তারাই আজ আমাকে স্যালুট করতে করতে নিয়ে আসছে। দম্ভ, ঔদ্ধত্য ও অত্যাচার করে যারা মানুষের মৃত্যু কামনা করে, তাদের পতন কেউ আটকাতে পারবে না— এটিই পরমেশ্বরের বিধান।”

            মুখ্যমন্ত্রী জানান, ফলতায় নদীর গা ঘেঁষে জমি হস্তান্তর করা হয়েছে, যেখানে জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতের কাজ শুরু হতে চলেছে। ঠিক একই মডেলে রেজিনগর শিল্প তালুকের দায়িত্বও নিজ কাঁধে নিয়েছেন তিনি। শুভেন্দুর স্পষ্ট আশ্বাস, “ইতিমধ্যেই রেজিনগরের জন্য ৪টি শিল্প প্রস্তাব চলে এসেছে। আগামী দেড় বছরের মধ্যে রেজিনগর শিল্প তালুকে আপনারা কারখানার ধোঁয়া দেখতে পাবেন— এই বিশ্বাস রাখুন।” তিনি আরও জানিয়েছেন, অন্ধ্রপ্রদেশ কিংবা মহারাষ্ট্রে কাজ করা রেজিনগরের পরিযায়ী শ্রমিকদের আর ভিনরাজ্যে পড়ে থাকতে হবে না; নিজের ভিটেতেই তাদের কাজ সুনিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় দুগ্ধচাষিদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ‘আমুল’-কে আনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

            এরপরেই তৃণমূলকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, ‘নন্দীগ্রামে জয়ের শংসাপত্র হাতে নিয়ে বলেছিলাম, তৃণমূল বলে আর কিছু থাকবে না। এখন রেজিনগর কেন, রাজ্যের কোথাও জোড়াফুল বা তৃণমূলকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। ওদের দলের কুড়িজন সাংসদ দল ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন। ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৬৪ জন বিধায়ক বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের নেত্রী নন। এই তো হয়েছে তৃণমূলের অবস্থা।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *