পুননির্বাচন শান্তিতেই, দুপুর ৩ টে পর্যন্ত ভোট পড়ল ৭২.৪৩ শতাংশ
কলকাতা, ২ মে– শনিবার সকাল থেকেই শুরু হয়েছে বাংলার দুই বিধানসভার অন্তর্গত ১৫ টি বুথের পুননির্বাচন। হাতে গোণা কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া ভোটগ্রহণ চলছে মোটামুটি শান্তিপূর্ণভাবে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরদারিতে চলছে ভোটদান পর্ব। এখনও পর্যন্ত অশান্তির কোনও খবর পাওয়া যায়নি। দুপুর ৩ টে পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৭২.৪৩ শতাংশ। এর আগে দুপুর ১টা পর্যন্ত ভোটদানের নিরিখে এগিয়ে মগরাহাট পশ্চিম। সেখানে ভোট পড়েছে ৫৬.৩৩ শতাংশ। ডায়মন্ড হারবারে ৫৪.৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। মোট দু’জায়গায় ৫৫.৫৭ শতাংশ ভোট পড়েছে।
মগরাহাটের ইয়ারপুরে বিজেপি প্রার্থী গৌর সুন্দর ঘোষকে দেখে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। ফলে এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা ছড়ায়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। এদিন সকাল ৭ টায় ভোটগ্রহণ পর্ব শুরু হয়। সকাল ৯টার মধ্যেই ডায়মন্ড হারবার ও মগরাহাটের বুথগুলিতে পুনর্নির্বাচনে ১৬.২৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। মগরাহাটের ১১টি বুথে ভোটের হার ১৬.৬৮ শতাংশ। ডায়মন্ড হারবারের ৪টি বুথে ভোটের হার ১৫.৮৩ শতাংশ।
বেলা ১১টা পর্যন্ত ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচনে প্রায় ৩৭ শতাংশ ভোট পড়েছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটের হার ৩৬.৯৯ শতাংশ। মগরাহাট পশ্চিমে ভোট পড়েছে ৩৮.২ শতাংশ। ডায়মন্ড হারবারে ৩৫.৯২ শতাংশ ভোট পড়েছে। ভোটাররাও জানিয়েছেন, ভোট শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। কারোর ভোট দিতে কোনও অসুবিধা হচ্ছে না। প্রথম দফার ভোট মেটার পরে কোনও কেন্দ্র থেকেই পুননির্বাচনের দাবি ওঠেনি। কিন্তু বুধবার অর্থাৎ দ্বিতীয় দফার ভোট মিটতেই ৭৭টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি উঠেছে। আর এই বুথের সবগুলিই দক্ষিণ ২৪ পরগনার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে। কমিশন সূত্রে খবর, ৩২টি অভিযোগ জমা পড়ে ফলতা থেকে। এরপর রয়েছে ডায়মন্ড হারবার ২৯টি, মগরাহাট থেকে ১৩ ও বজবজ থেকে ৩টি অভিযোগ জমা পড়েছে। কোথাও ইভিএমে টেপ লাগিয়ে দেওয়া, কোথাও আবার ইভিএমে আতর লাগিয়ে দেওয়া বা ক্যামেরায় রুমাল চাপা দেওয়ার অভিযোগ এসেছে। যে সমস্ত জায়গাগুলি থেকে এই অভিযোগ ওঠে সেখানে বৃহস্পতিবার সরেজমিনে পরিদর্শন করেন বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত। তা দেখে রিপোর্টও জমা দেন তিনি। ফলতার ৩০টি বুথে পুনর্নির্বাচনের প্রস্তাব দেন। তারপরই পুনর্নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।