কলকাতা ইসকনের রথযাত্রার সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী
ইসকনের রথযাত্রার সূচনায় মুখ্যমন্ত্রী
কলকাতা, ১৬ জুলাই- প্রথা মেনে সোনার ঝাড়ু দিয়ে রাস্তা ঝাঁট দিয়ে বৃহস্পতিবার কলকাতার ইসকনের রথযাত্রার সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুজোয় অংশগ্রহণ করার পরে আরতি করে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করলেন তিনি। বললেন, ‘রথযাত্রায় উপস্থিত থাকতে পেরে আমি ধন্য।’
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টা নাগাদ ইসকনে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। জগন্নাথদেবের বিগ্রহের সামনে নতমস্তকে প্রণাম করার পরে পুজো দেন। আরতি করেন। তার পর চলে যান শ্রীল প্রভুপাদের কক্ষে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই কক্ষটিকে যাতে হেরিটেজ ঘোষণা করা হয়, তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের আবেদন করবেন। রথযাত্রায় উপস্থিত থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অশুভর বিরুদ্ধে শুভর লড়াই চলুক প্রার্থনা করব।’
রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি সরকার একাধিক নীতিগত পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচিত পদক্ষেপগুলির একটি হল সরকারি স্কুলের মিড-ডে মিল প্রকল্পের দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়া। এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে বিতর্ক শুরু হয়। বিশেষ করে ইসকনের খাদ্যতালিকায় ডিম না থাকায় স্কুলপড়ুয়াদের পুষ্টি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের একাংশের দাবি ছিল, ডিম বাদ গেলে শিশুদের প্রয়োজনীয় পুষ্টি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সেই বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। আজ সরকারের সেই সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গও তুলেছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘আপনারা জানলে খুশি হবেন ইসকনের সঙ্গে রাজ্য সরকার যৌথ ভাবে কাজ শুরু করেছে। ছাত্রছাত্রীদের পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কলকাতা মহানগরে ১ আগস্ট থেকে এই কাজ করবে। আমরা ইসকন, ভারত সেবাশ্রম ও রামকৃষ্ণ মিশনের সঙ্গে কাজ করব। এই রথযাত্রা শুভ হোক।’
রাজ্য সরকার কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার সপক্ষে সওয়াল করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘রাজ্যে মিড-ডে মিল কিচেন তৈরি হচ্ছে। ইসকনের এই কাজ নতুন নয়। ২২টি বড় বড় শহরে স্কুলের মিড-ডে মিলের দায়িত্বে রয়েছে ইসকন। এই মিড-ডে মিল পুষ্টিগুণসম্পন্ন। একটা ভাল, পুষ্টিকর আহার পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আমাদের স্কুলগুলিতে যে ছাত্রছাত্রীরা মিড-ডে মিল গ্রহণ করে, তারা মূলত মধ্যবিত্ত, নিম্ন-মধ্যবিত্ত এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের সন্তান। সচ্ছল পরিবারের শিশুদের অধিকাংশই এই প্রকল্পের উপর নির্ভর করে না। তাই অপুষ্টি দূর করতে পুষ্টিকর খাবারের বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে।’
তৃণমূলের আমলে এই মিড ডে মিলেও দুর্নীতি হয়েছে বলে কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে মিড-ডে মিল নিয়ে যে ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিশুদের খাবার নিয়ে অনিয়ম করা পাপের সমান। আগামী দিনে ইসকন এই দায়িত্ব পালন করে আমাদের শিশুদের কাছে উন্নত মানের পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেবে। সেটাই আমাদের কর্তব্য।’ আগামীতে ভারত সেবাশ্রম ও রামকৃষ্ণ মিশনের সঙ্গেও রাজ্য সরকার কাজ করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।