সোমবার | ১৮ মে ২০২৬

স্ট্রিট ফুড থেকে বিশ্বপরিচিতি: ঝালমুড়ির বিশ্বযাত্রা!!

 স্ট্রিট ফুড থেকে বিশ্বপরিচিতি: ঝালমুড়ির বিশ্বযাত্রা!!

বাংলা ও বাঙালির অতি পরিচিত সুস্বাদু এবং সস্তার স্ট্রিট ফুড “ঝালমুড়ি” এখন বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে গেছে। বাং মোটকথা “ঝালমুড়ি” নামক অতি সস্তার মুখরোচক খাবারটির জনপ্রিয়তা এখন আর আমাদের দেশের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বমঞ্চে। ভারতীয় উপমহাদেশের এই ঐতিহ্যবাহী খাবারটি এখন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাঙালি সংস্কৃতির একটি বড় প্রতীক হিসাবে উঠে এসেছে। এককথায় “ঝালমুড়ি” কে এখন বাঙালির আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড বললেও খুব একটা ভুল হবে না। আর এর কৃতিত্ব অবশ্যই দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দিতে হবে। কেননা, সদ্যসমাপ্ত পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার পর্বে এসে প্রধানমন্ত্রী মোদি বাংলার ঝাড়গ্রামের একটি দোকান থেকে ১০ টাকার “ঝালমুড়ি” ক্রয় করে নিজে খেয়েছেন এবং অন্যদেরও খাইয়েছেন। প্রযুক্তির কল্যাণে এই দৃশ্য সরাসরি দেখেছে গোটা বিশ্ববাসী। শুধু তাই নয়, মুহূর্তের মধ্যে সেই ভিডিও নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। এখানেই শেষ নয়, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ার প্ল্যাটফর্ম থেকে শুরু করে গুগল চার্চের ক্ষেত্রেও তখন ট্রেন্ড করতে থাকে “ঝালমুড়ি”। বঙ্গের হাইভোল্টেজ ভোটের মুখে প্রধানমন্ত্রীর এই কর্মকাণ্ড ঘিরে তখন ব্যাপক রাজনৈতিক তরজা হয়েছিল। বিজেপি এটিকে প্রধানমন্ত্রী মোদির মাটির কাছাকাছি থাকার প্রমাণ হিসাবে তুলে ধরে। কিন্তু এনিয়ে বঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস, দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে অন্যান্য বিরোধী দলগুলো একে মোদির “ভোটের নাটক” এবং “সাজানো সুটিং সেট” বলে ব্যাপক কটাক্ষ করে। তৃণমূলসহ বিরোধীদের এই কটাক্ষের জবাবও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ভোটের প্রচারে। তিনি বলেছেন, “ঝালমুড়ি” খেয়েছি আমি, কিন্তু এর ঝাল লেগেছে তৃণমূলসহ বিরোধীদের। তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হলো, ভোট মিটে গেলেও ঝালমুড়ির সেই ঝাঁজ যে এতটুকু কমেনি, তা এবার প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরে ফের একবার প্রমাণিত হলো।

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী মোদি বিদেশ সফরে রয়েছেন। তারই অঙ্গ হিসাবে শনিবার প্রধানমন্ত্রী মোদি নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগ শহরে প্রবাসী ভারতীয়দের বিশাল সমাবেশে মুখোমুখি হয়েছিলেন। সেখানে তিনি ভারতের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম, ডিজিটাল অগ্রগতি এবং নারী ক্ষমতায়ন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন। বক্তব্যের মাঝে প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি দেশের পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে যখনই “পশ্চিমবঙ্গ” নামটি উচ্চারণ করেন, ঠিক তখনই উপস্থিত দর্শকদের মধ্য থেকে কেউ একজন চিৎকার করে বলে উঠেন “ঝালমুড়ি”। জনতার এই কাণ্ড দেখে বক্তব্য থামিয়ে হেসে ফেলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। রসিকতা করে মঞ্চ থেকে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “এখানেও কি ঝালমুড়ি পৌঁছে গেছে?” প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই পুরো সভাগৃহ জুড়ে প্রবাসী ভারতীয়দের উল্লাস ও করতালিতে মুখরিত হয়ে উঠে। বাংলার বিধানসভা ভোটের প্রচার পর্বে যে ঝালমুড়ি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনা -সমালোচনার ঝড় তুলেছিল, সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে এবার সেই ঝালমুড়ির নাম শোনা গেলো সুদূর নেদারল্যান্ডসের মাটিতে। বিশ্বায়নের এই যুগেও প্রবাসী ভারতীয়দের মন কেড়ে নিল বাংলা ও বাঙালির সেই চেনা পরিচিত সস্তার “ঝালমুড়ি”র স্বাদ ও গল্প।
অনেকেই বলছেন, “ঝালমুড়ি”র এই বিশ্বযাত্রা প্রমাণ করে যে, অতি সাধারণ স্ট্রিট ফুডও নিজস্ব অনন্য স্বাদের জোরে কালচারাল আইকন বা একটি জাতির পরিচিতি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হয়ে উঠতে পারে। আর এর কৃতিত্ব পুরোটাই প্রধানমন্ত্রী মোদির। কেননা, ভোটের প্রচারে এসে তাঁর এই কর্মকাণ্ডকে যেভাবেই ব্যাখ্যা করা হোক না কেন, তাঁর সৌজন্যে বাঙালির ঝালমুড়ি এখন বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে গেছে। এটা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *