মঙ্গলবার | ১৪ এপ্রিল ২০২৬

গল্প : প্রায়শ্চিত্ত

 গল্প : প্রায়শ্চিত্ত

মৌসুমী ভট্টাচার্য

পূজো আর নববর্ষের আগে পোশাক কেনার সঙ্গে জুতো কেনারও হুজুগে মাতে লোকজন। মহিলাদের ম্যাচিং শাড়ির সঙ্গে ম্যাচিং জুতো। সালোয়ার কুর্তার সঙ্গে এই জুতো, শার্ট প্যান্ট পরলে পা ঢাকা কাপড়ের দামী জুতো। মানাক না মানাক, পরতে হবেই। অষ্টাদশী মেয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আটচল্লিশ কি পঞ্চান্ন-এর মধ্যবয়সিরা মেতে ওঠে। মেয়েই সবচেয়ে বন্ধু। মেয়ের হাত ধরে যা যৌবনে পায়নি, এখন সাধ মেটাতে মরিয়া। আটচল্লিশ ইঞ্চি কোমর নিয়ে জিন্স পরতে হবে। বেঢপ পেট, কোমরে চর্বির থলি, চিবুকে গলায় চর্বির ভাঁজ, তবুও সাজতে হবেই। বাইরে জাঙ্ক ফুড খেতে খেতে সেলফি তুলে ফেবুতে স্ট্যাটাস দিতে হবে। জিমে গিয়ে ঝরানোর ব্যর্থ চেষ্টা করতে হবে, স্বামীকে বেচারা বানিয়ে চোপায় উড়িয়ে দিতে হবে।
ওফফ! তপন সব দেখে আর মনে মনে হাসে। কোথাও চাকরি না জুটলে শেষে এই ‘বাটা’র দোকানে কর্মচারী হয়ে কাজ করতে শুরু করে। রোজগার তো করতে হবে। সংসারের চাল, তেল, আটা, বেবিফুডের খরচা তো মেটাতে হবে। দশঘর ভাড়াটের একজন হয়ে, বেড়ার ও টিনের চালের ঘরের ভাড়া তো মেটাতে হবে! জীবনটা এখন এই আনতে হবে, এই করতে হবে—এসবের ওপরেই দাঁড়িয়ে। কোনো মনোরঞ্জন নেই। এর মধ্যে পাবলিককে পর্যবেক্ষণ করে কিছু হেসে নেয়। দুঃখে দুঃখিত হয়।
আজও দুপুরে এক কলেজে পড়া তরুণী তার মাকে নিয়ে এসেছে। ছাপোষা নিম্নবিত্ত মধ্যবয়সি মা, মেয়ের পাল্লায় পড়ে একটু ফ্যাশনদুরস্ত হতে শিখছে। তপন নানা স্টাইলের স্টিলেটো, বিভিন্ন ডিজাইনের মহিলাদের জুতো দেখাচ্ছিল। মা স্বচ্ছন্দ বোধ করছে না ততটা, কিন্তু মেয়ে নাছোড়বান্দা। মাকে আধুনিক সাজে সাজিয়েই ছাড়বে। মোড়ায় বসে নিচু হয়ে মোটাসোটা গিন্নীবান্নী মহিলাটি হাঁফাতে হাঁফাতে বিভিন্ন ডিজাইনের জুতো চেষ্টা করছে। বহুসময় নষ্ট করে, মা-মেয়ের একজোড়া পছন্দ হল। বিল কেটে, প্যাক করে তাদের বিদায় করিয়ে বেলা তখন ঢলে। লাঞ্চ আওয়ার প্রায় শেষ। দৌড়ে গিয়ে টিফিন বক্স খুলে দুটি মুখে দেয়। সামান্য আয়োজনও রান্নার গুণে এত সুস্বাদু হয়ে ওঠে! বাণী তার বড় লক্ষ্মীমন্ত বউ। ফুটিফাটা ঘরটিকে পরিশ্রম ও আদর-ভালোবাসায় মুড়ে রাখে। সব সবজি দিয়ে একমুঠো কুচো চিংড়ি দিয়ে কী যে রেঁধেছে না! ওই দিয়েই খেয়ে নেওয়া যায় একথালা। আয়েশ করে যে খাবে, তার উপায় নেই। খেতেই লাঞ্চ আওয়ার শেষ। বেলা তিনটার পর গৃহবধূরা, কলেজ-ফেরতা তরুণীরা আসে। ব্যস্ততা বাড়ে। তপন শুনছিল ম্যানেজারের গজগজানি। অসন্তোষ প্রকাশ করছিল।
তপনের ইচ্ছে হচ্ছিল বলতে, “খাবও না নাকি!” কিন্তু চেপে যায়। সে অধস্তন কর্মচারী। যেকোনো তর্কাতর্কি, একটু উষ্মা তার চাকরি নষ্ট করে দিতে পারে। আগেকার তপন হলে তার হাত কথা বলত। সেই তপন কবেই মরে গিয়েছে—গুন্ডা তপন। এর মধ্যেই ঘটনাটি ঘটল। সেদিন ছুটির দিন, সারাদিনব্যাপী কাস্টমারদের উপচে পড়া ভিড়। তপনের ডিউটি সেদিন বিকেল থেকে ছিল। বাড়িতে দুপুরের খাওয়ার পর বড় ইচ্ছে করছিল একটু গড়িয়ে নিতে। বাধ্য হয়েই রংচটা বাইকে স্টার্ট দেয়। আসছে উৎসব। তারও সাধ হয় ছেলেকে ও স্ত্রীকে কিছু কিনে দিতে। বোনাসটা পেলেই কিনবে। বাণীর দশঘর উঠোনের এক ভাড়াটে হয়ে বারোয়ারি কলতলায় কাজ করতে করতে হেজে আসা হাত-পা দেখে তার কষ্ট হয়। এ কদিনও যদি একটু সুখ দিতে পারত! প্লাস্টিকের চটি পরা, সস্তা লাল রঙের নেলপালিশে বাণীর গোড়ালি-ফাটা পা দুটিকে তার সাজাতে ইচ্ছে করে।
সন্ধ্যায় দোকানে ভিড় সামলাতে সামলাতেই চোখ গেল এক সুবেশা সুন্দরীর দিকে। সুপুরুষ স্বামী, ভীষণ গোলগাল মিষ্টি বছর ছয়েকের শিশুপুত্রকে নিয়ে মিতা। মিতার ভরভরন্ত সুখী চেহারা বলে দিচ্ছে যে সে ভীষণ সুখে ও স্বাচ্ছন্দ্যে আছে। ঘুরে ঘুরে মহিলাদের জন্য রাখা সেকশনে দেখছে। শাড়ি তুলে নানারকম জুতো পরে পরে দেখছে। দূর থেকে তপন দেখে সেই সুন্দর পদযুগল—ধুলোবালি থেকে বহু দূরে থাকা সুন্দর দুটি পা, রুপোর আংটি, দামী নেলপালিশে সজ্জিত। মসৃণ গোড়ালি। পেডিকিউরড করা মসৃণ পা। চকিতে বাণীর ফাটা গোড়ালি মনে এলো। ভাবনাকে দু’হাতে সরিয়ে সে পুরুষদের সেকশনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কিছুতেই মিতার সামনে পড়তে চায় না সে। একদা এলাকার ত্রাস, মাস্তান তপনকে জুতো-কর্মচারী হিসেবে দেখে মিতা না জানি ভয়ানক প্রতিক্রিয়া দেখাবে!
তার খুব ইচ্ছে হচ্ছিল মিতাকে দেখে। মিতার পাশে তার সুবেশ সুপুরুষ স্বামীটিকে খুব মানিয়েছে। যতই সে চেষ্টা করুক মিতার সামনে না হতে, ভাগ্য করিয়েই ছাড়ে। মিতার জুতো কেনার পর তার স্বামী ও ছেলের পালা। তারা পুরুষ সেকশনে জুতো দেখছে। তাদের এটেন্ড করছে আজিম নামের অল্পবয়সি ছেলেটি। আজিম নতুন, এখনো সব জানে না। মিতার স্বামী যে জুতো পছন্দ করলেন, ওনার সাইজ জুতোর র‍্যাকে রাখা নেই। ভীষণ দামী ব্র্যান্ডের দামী জুতো। আজিম বলে ওঠে, “ওহ তপনদা, বলতে পারো এই জুতোর নয় নম্বর সাইজ কি ওপরের গোডাউনে আছে?”
তপন মাথা নেড়ে সম্মতি দেয়। “একটু এনে দেবে গো? আমি জানি না কোথায়!” আজিমের কথায় তপন বাধ্য হয়ে ওপরে গোডাউনে যায়। খুঁজতে সময় লেগেছে তার। মিনিট দশেক পরে জুতো নিয়ে এসে দেখে আজিম অন্য কাস্টমার অ্যাটেন্ড করছে। এমনই অবস্থা যে তার সঙ্গে কথা বলাই যাচ্ছে না। তবুও সে আজিমের কাছে গিয়ে বলে, “আমি এদের দেখছি। তুই ওই কাস্টমারকে ওদের জুতোটা দেখা।” আজিমকে বলে মুখ ঘোরাতেই মিতার মুখোমুখি পড়ে গেল। আর এড়ানোর উপায় নেই। ভীষণই বিব্রত ও অসহায় বোধ হল একদা মাস্তান তপনের। মিতার সঙ্গে চোখাচোখিও হয়ে যায়। সে দেখে কী গভীর ব্যঙ্গে মিতার সুন্দর ঠোঁট বেঁকে যায়।”
তপন পালিয়ে যেতে চায়। “ওই জুতোটা দেখান তো,” মিতা আঙুল দিয়ে এক দামী ব্র্যান্ডের জুতোর দিকে দেখায়। তপন বাধ্য হয়ে দেখায়। মিতা এটা-সেটা দেখাতে বলে। তপন অনিচ্ছুক হলেও মিতাকে অ্যাটেন্ড করতে থাকে। “তা শেষ অব্দি এখানে?” মিতার প্রশ্নের উত্তরে সে বলে, “কত নম্বর লাগে ম্যাডাম?”
“নয় নম্বর। এই জোড়াটি, ওই জোড়াটির নয় নম্বর সাইজ নিয়ে আসুন,” মিতা আদেশের সুরে বলে।
“নেই নয় নম্বর,” তপন জানায়। সত্যিই এই সাইজ বাড়ন্ত। “না দেখেই কী করে বলছেন যে নেই? দেখাতে চাইছেন না নাকি?” মিতার তীক্ষ্ণ উচ্চ কণ্ঠে সবাই এদিকে তাকাচ্ছে। ভিড় দেখে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজারও একটু হাত লাগাচ্ছিল মাঝে মাঝে। তপনকে বলেন, “কী হয়েছে? গুদামে দেখুন গে। থাকতেও পারে।”
“আপনাদের এই কর্মচারী না দেখেই ‘নেই’ বলে দিচ্ছে,” মিতা কমপ্লেনের সুরে বলে। তপন ছোটে ওপরে গোডাউনে। সে জানে এই জুতোর ওই সাইজ নেই। তবুও খুঁজে এসে বলে, “না স্যার, ওই সাইজ নেই।”
মিতা রাগত কণ্ঠে বলে, “সব সাইজ কেন স্টকে থাকে না আপনাদের? আবার কোথায় খুঁজব! ফেস্টিভ টাইমে তো রাখবেন, নাকি!”
মিতার স্বামী এগিয়ে বলে, “ঠিক আছে, ঠিক আছে। আরেকদিন আসা যাবে এখন।”
“মম, হোয়াই আর ইউ সো অ্যাংগ্রি?” মিতার বালক পুত্রটি বলে।
“আরে, এই দোকানের আর আগের ঐতিহ্য নেই। কর্মচারীরাও তেমনি, দেখাতে চায় না,” আগুনঝরা দৃষ্টিতে তপনকে সেঁকে নিয়ে বলে মিতা। “লিখে রাখুন সাইজ। এই নম্বরের এই জুতো আনিয়ে রাখবেন। আমরা আবার আসব,” মিতা ম্যানেজারকে বলে।
“নিশ্চয়ই, ম্যাডাম। ফোন নম্বর দিন। আমরা আনিয়ে জানিয়ে দেব,” খোশামুদের সুরে বলে ম্যানেজার।
তপনকে বলে, “উৎসবের সময় তো খেয়াল রাখবেন! সব কাস্টমারদের চাহিদা যেন মেটানো যায়। কী করেন সারাদিন?”
তপন শোনে, মাথা নিচু করে। মিতা আজ সুযোগ পেয়েছে। যে মিতাকে উত্যক্ত করত কলেজ জীবনে। ইভ টিজিং, স্টকিং—এসব শব্দ যা আজকাল শোনা যায়, সব করে জ্বালাতো। একবার তো তুলতেও চেষ্টা করেছিল। কমবয়সের রক্তগরম। সুন্দরী মেয়েদের জ্বালাতন করা এক আমোদ ছিল তার ও তার গ্যাং-এর। কী না করত! পড়াশোনা নেই, বাড়িতে শাসন নেই, বাঁধনছাড়া, উদ্দাম ত্রাস তপন।
আজ সে জুতোর দোকানের সামান্য সেলসম্যান। চাকরি বাঁচাতে তাকে এসব অপমান সইতেই হয়।
“কেন এভাবে সিন ক্রিয়েট করছ? কাম ডাউন,” মিতার স্বামী বলেন মিতাকে। মিতা ফুঁসছে। বহুদিনের জমা লাভা বেরিয়ে আসতে চাইছে। আঘাত করতে চাইছে। তপন নিজেকে সামলায়, সে জানে এটা তার প্রাপ্য।
“দুঃখিত, স্যার। আপনাকে দিতে পারিনি আজ। আমরা এর মধ্যেই আনিয়ে রাখব,” পাক্কা সেলসম্যানশিপ বজায় রেখে ক্ষমা চাওয়ার ভঙ্গিতে মিতার স্বামীকে বলে তপন।
অনেক রাতে সব হিসেব মিলিয়ে দোকান বন্ধ করে বেরোতে বেরোতে আজিম ও বাকি আর দুই ছোকরা কর্মচারী বলে, “তপনদা, যেভাবে ওই সুন্দরী তোমাকে শোনাচ্ছিল! বেশ খারাপ লেগেছে আমাদের। এরা আমাদের কী ভাবে! যা খুশি বলতে পারে!”
তপন মৃদু হেসে বলে, “এসব হয় রে। প্রায়শ্চিত্ত।”
“মানে? কীসের প্রায়শ্চিত্ত?” আজিমের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তপন বলে, “ছাড়। কাল বউ ও ছেলের জন্য জুতো নেব। পছন্দ করতে সাহায্য করিস তো!” দীর্ঘশ্বাস ফেলে আধখাওয়া সস্তা সিগারেটটি জুতো দিয়ে পিষে ফেলে, যেন তার অতীতকেই পিষে ফেলতে চায়।
বাড়ি ফিরে, হাতমুখ ধুয়ে, বারান্দায় রাখা প্লাস্টিকের চেয়ারে বসে সস্তা সিগারেট ধরায়। মুখ দিয়ে হা করে ধোঁয়ার রিং ছাড়তে ছাড়তে যেন বুকের ভেতরের সব যন্ত্রণাগুলোকেও বের করে দিতে চাইছিল। ছেলেটা ঘুমিয়ে পড়েছে। বাবা হয়ে সে কী দিতে পারছে? তার বাবা তাকে যা দিয়েছিলেন, তার শৈশব তার ছেলে বুকুর চেয়ে অনেক ভালো, সুন্দর ছিল। “খাবে না?” বাণী বলে। মাথা নেড়ে জানায় তপন, কথা বলতে চাইছিল না। বাণী বোঝে কোন কারণে গভীর আঘাত পেয়েছে তপন। তাই এত চুপচাপ! বাণী যেভাবে তপনকে বোঝে, তপন নিজেও বোঝে না নিজেকে।
বাপের বাড়ি নামের সেই স্যাঁতস্যাতে আধা নরক থেকে তপনের হাত ধরে যখন বেরিয়ে এসেছিল, তখন সবাই ছি ছি করেছিল, ধরে নিয়েছিল বাণীর সর্বনাশের আর কিছু বাকি নেই। বাণী নিজেও জানত, বিশ্বাস করত মনে মনে। কিন্তু প্রচণ্ড মরিয়া কেউ যখন বাঁচার জন্য খড়কুটোও আঁকড়ে ধরে, বাণীর মনের অবস্থা তখন তাই ছিল। কিন্তু বিয়ের পরে সবাইকে অবাক করে দিয়ে তপন পরিবর্তিত হয় এক দায়িত্ববান স্বামীতে। গুন্ডামি ছেড়ে সে আর পাঁচজন গোবেচারা সংসারী পুরুষের মতো। বাণীর যে খুব চেষ্টা করতে হয়েছিল তা নয়, তপন নিজেই বোধহয় ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিল। বুকু জন্মাবার পরে তো তপন আরও দায়িত্ববান, যত্নবান বাবা হতে চেষ্টা করছে। আর্থিক অক্ষমতা তাকে মনমরা করে তোলে মাঝেমাঝে। কত শত বিদ্রুপ, তাচ্ছিল্য তাকে সইতে হয়। তার নিরীহ, ভদ্রতাকে দুর্বলতা ভাবে অনেকেই।
বাণীর খারাপ লাগে, সে দুপুরে কিছু সেলাই করে। শাড়িতে ফলস, টুকটাক কাজ করে কিছু সঞ্চয় করছে। সামান্য হলেও নিজের আয়! তারও সাধ হয় তপনকে, বুকুকে কিছু কিনে দিতে, তাদের মুখে হাসি দেখে। তপনকে চমকে দিতে মন চায়। তপন তাকে সংসার দিয়েছে, নইলে তার জীবন তো সৎ মায়ের গঞ্জনায়, সৎ ভাইবোনদের লাথি-ঝাঁটা খেয়েই যেত। তাই কখনো কেউ বুকুকে দেখে যদি বলে, “বাপের মতো দেখতে, তোমার মতো হলে আরও সুন্দর হতো!” বাণী মনে মনে খুশি হয়। সে চায় স্বভাবেও বুকু তার বাবার মতোই হোক!
নিজের একটি সংসার, যেখানে সে-ই সর্বেসর্বা। মনের মতো করে বুকুকে বড় করবে দু’জনে। তপনের পাশে বসে তপনের দিকে তাকিয়ে, আদুরে গলায় বলে, “এই রবিবার রেডি থেকো। পুজোর বাজার করব, আর বাইরে খাব সেদিন।”
তপনের মুখে উৎসাহের অভাব, তার বিমর্ষ চেহারা দেখে বলে, “আরে ‘কুল’ থাকো। এই ট্রিট আমি দেব।”
তপন আশ্চর্য হয়ে কিছু বলতে যাচ্ছিল, পারল না। নরম দুটো ঠোঁট তাকে বলতে দিল না। তপনের মনে হলো, তার আগের সব ভুল, অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত হয়ে গেছে। একি কম পাওয়া! বিমর্ষ ভাবটি যেন ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিল বাণী। আগমনী সুর বাজছে কাছে কোথাও, বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবে সামিল হতে যে সুখ, তৃপ্তিটুকু দরকার, তা তাদের আছে। এক স্বস্তি, খুশির ছোঁয়া আচমকা তপনকে উদ্বুদ্ধ করে তোলে। সে বাণীকে পাঁজাকোলা করে ঘরের ভেতরে যায়, সেলিব্রেশনের মুডে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *