শুক্রবার | ১৬ অক্টোবর ২০২৬

ফুলহারের ভাঙনের আতঙ্কে পুজো কাটাচ্ছেন ভূতনি চরের বাসিন্দারা

 ফুলহারের ভাঙনের আতঙ্কে পুজো কাটাচ্ছেন ভূতনি চরের বাসিন্দারা

নিজস্ব সংবাদদাতা- সারাটা বছর ধরে এই ক’টা দিনের জন্যই তো অপেক্ষা করে থাকে সাত থেকে সত্তর! কিন্তু উৎসবের এই আবহে আতঙ্কের চোরাস্রোত বইছে ভূতনি চরের আলাদিয়া ঘোষটোলা গ্রামের বাসিন্দাদের শিরদাঁড়ায়।
বর্ষা শেষে নদীর জল কমে গিয়েছে অনেকটা। তাই নতুন করে বন্যার আতঙ্ক এখন আর নেই। কিন্তু ভাঙন! এখনও পাড় কেটে চলেছে ফুলহার। ইতিমধ্যে বাঁধের অনেকটা অংশ গিলে ফেলেছে নদী। ভাঙন রোধের কাজে এখনও হাত পড়েনি। এত দিন সেই কাজ করার অবশ্য উপায়ও ছিল না। স্থানীয়দের অনুমান, পুজোর পর নিশ্চয়ই সেই কাজে হাত পড়বে। কিন্তু আতঙ্ক! তত দিনে যদি নদী পুরো বাঁধ গিলে নেয়!
এসব চিন্তা ভর করছে চরবাসীর মনে। ভূতনি চরের একদিকে গঙ্গা, অন্যদিকে ফুলহার। এবার গঙ্গার বন্যায় প্রাণ ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছিল চরবাসীর। টানা তিন সপ্তাহ তাঁদের কাটাতে হয়েছিল জলে। এখন অবশ্য নদী অনেক শান্ত। কালিয়াচক দু’নম্বর ব্লক এবং রতুয়া এক নম্বর ব্লকে গঙ্গার অল্পবিস্তর ভাঙন চললেও মানুষ খুব একটা ভাবছেন না। এমন ভাঙন তাঁদের বছরভর দেখতে হয়। কিন্তু এই সময় ফুলহারের ভাঙন ভাবিয়ে তুলেছে সবাইকে। ভাঙনে রিং বাঁধের সাড়ে তিনশো মিটার গায়েব হয়ে গিয়েছে। নদী ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে আলাদিয়া ঘোষপাড়া গ্রামে। তাই দুর্গাপুজো শুরু হলেও এখন আনন্দে গা ভাসাতে পারছেন না কেউই।
বরং তেমন বিপদ বুঝলে যাতে সময় থাকলে জরুরি জিনিসপত্র নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়া যায়, তারই প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন সবাই। গ্রামের বাসিন্দা উদয় ঘোষ বললেন, ‘আমাদের এবার পুজো নেই, পুজোর আনন্দ নেই, নতুন জামাকাপড় পরার বিষয় নেই। আমাদের এখন অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই। বেশ কয়েক দিন ধরে ফুলহার পাড় কেটেই চলেছে। বাঁধ এখন উন্মুক্ত।’ বাঁধের বিশাল অংশ নদীগর্ভে চলে গিয়েছে।
গ্রামের রতন ঘোষের বাড়ি ইতিমধ্যে নদীতে তলিয়ে গিয়েছে। আরও কয়েকটি বাড়ির পরিস্থিতিও বিপজ্জনক। যে কোনও মুহূর্তে ফুলহারের গর্ভে চলে যাবে। স্থানীয়দের একটাই প্রশ্ন; ‘এই পরিস্থিতিতে আমাদের মনে কি পুজোর আনন্দ থাকতে পারে?’
ভাঙন রোধে এখনও পর্যন্ত প্রশাসন কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ উঠছে। অবশ্য এত দিন নদীতে যে পরিমাণ জল ছিল, তাতে সেই কাজ করাও যেত না।
এলাকার বাসিন্দা আশিস ঘোষের বক্তব্য, ‘প্রতিদিনই ভাঙন চলছে। কোনও দিন কম, কোনও দিন বেশি। এখন নদীর জল কমছে। এই সময়ই ভাঙনের তীব্রতা বেশি হয়। আমরা ছোট থেকে সেটা দেখে আসছি। এখনও পর্যন্ত পরিবার নিয়ে বাড়িতে আছি। কিন্তু কখন কী হয়, বলা যায় না।’
এলাকার সিপিআইএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য দেবজ্যোতি সিনহার অভিযোগ, ‘এই মুহূর্তে গঙ্গার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এক হাজারেরও বেশি পরিবার কেশরপুর বাঁধের উপর আশ্রয় নিয়ে রয়েছে। বন্যার জল নামতে না নামতেই আলাদিয়া ঘোষপাড়ায় শুরু হয়েছে ফুলহারের ভাঙন।’ স্থানীয় বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল বলছেন, ‘প্রকৃতির কাছে আমরা বড্ড অসহায়।
তবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার ভাঙন রোধের সব রকম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কয়েক দিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী এখানে এসে বলে গিয়েছেন, তিনি ভূতনিবাসীর এই আতঙ্কের দিন শেষ করবেন। তার জন্য অর্থের কোনও সমস্যা হবে না। প্রয়োজনে ঋণ নিয়ে সরকার এই কাজ করবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *