বীজগণিতীয় সংখ্যাতত্ত্বে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য রামানুজন পুরস্কার পেলেন অধ্যাপক মহেশ কাকড়ে
সন্দীপ বসু- বীজগণিতীয় সংখ্যাতত্ত্বে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ, বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স ‘আইআইএসসি’-এর অধ্যাপক ও ভারতীয় গণিতবিদ মহেশ কাকড়ে উন্নয়নশীল দেশগুলির তরুণ গণিতবিদদের জন্য ২০২৬ সালের রামানুজন পুরস্কার লাভ করেছেন।
ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিওরেটিক্যাল ফিজিক্স বা ‘আইসিটিপি’ এবং ইন্টারন্যাশনাল ম্যাথমেটিক্যাল ইউনিয়ন বা ‘আইএমইউ’ যৌথভাবে এই পুরস্কারটি প্রদান করে। উন্নয়নশীল দেশগুলির তরুণ গবেষকরা অসাধারণ গবেষণা করে চলেছেন সাহিত্য এবং বিজ্ঞানের একাধিক ক্ষেত্রে। ৪৫ বছরের কম বয়সী গণিতবিদদের এই পুরস্কারের মাধ্যমে সম্মানিত করা হয়।
এই পুরস্কারের অর্থমূল্য ১০,০০০ মার্কিন ডলার। ‘আইসিটিপি’ ও ‘আইএমইউ’-এর নিযুক্ত বিশিষ্ট গণিতবিদদের একটি প্যানেল পুরস্কারজয়ী নির্বাচন করে থাকেন। নন-কমিউটেটিভ ইওয়াসাওয়া তত্ত্বে মৌলিক অবদান এবং গ্রস-স্টার্ক ও ব্রুমার-স্টার্ক অনুমানের ওপর কাজের জন্য কাকড়েকে এই সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে।
‘আইসিটিপি’-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯০০ সালে জার্মান গণিতবিদ ডেভিড হিলবার্টের ২৩টি বিখ্যাত গাণিতিক সমস্যার অন্যতম—”হিলবার্টের দ্বাদশ সমস্যা”-র ক্ষেত্রে কাকড়ের গবেষণার তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব রয়েছে।
‘আইসিটিপি’-র এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কাকড়ের গবেষণার মূল ক্ষেত্র হলো ‘বীজগণিতীয় সংখ্যাতত্ত্ব’—গণিতের এমন একটি শাখা যা ‘পূর্ণসংখ্যা ও তাদের সাধারণীকরণের সঙ্গে জড়িত সমস্যাগুলির পর্যালোচনায় ‘ফিল্ড’ ও ‘গ্রুপ’-এর মতো গাণিতিক কাঠামো ব্যবহার করে।”
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ‘আইআইএসসি’-র এই অধ্যাপক বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে গণিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতে স্নাতকোত্তর ও গণিতে ডক্টরেট ডিগ্রি সম্পন্ন করেন এবং ২০০৮ সালে তিনি পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের পর, কাকড়ে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতের প্রশিক্ষক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং এরপর ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে গবেষণা সহযোগী হিসেবে যোগ দেন। গণিতে অবদানের জন্য কাকড়ে যেসব উল্লেখযোগ্য সম্মাননা পেয়েছেন, তার মধ্যে রামানুজন পুরস্কার অন্যতম।
২০২২ সালে তাঁকে গাণিতিক বিজ্ঞানে ‘ইনফোসিস পুরস্কার’ প্রদান করা হয়। এছাড়া তিনি ‘ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেস অফ ম্যাথমেটিশিয়ানস’-এ আমন্ত্রিত বক্তা হিসাবেও অংশ নেন, যেখানে তিনি গণিতবিদ সমিৎ দাশগুপ্তের সঙ্গে একই মঞ্চে বক্তব্য রাখেন। ২০২৩ সালে, বিশিষ্ট গবেষকদের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ম্যাগাজিন’-এর বার্ষিক তালিকা ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’-তে কাকড়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। গণিতের ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি যেসব উল্লেখযোগ্য সম্মাননা পেয়েছেন, তার মধ্যে ‘রামানুজন প্রাইজ’ অন্যতম।