মঙ্গলবার | ৩০ জুন ২০২৬

ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ নয়, তৃণমূলের দুই শিবিরকে জানিয়ে দিল পুলিশ

 ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ নয়, তৃণমূলের দুই শিবিরকে জানিয়ে দিল পুলিশ

কলকাতা, ৩০ জুন- একুশে জুলাইয়ের সমাবেশকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের দুই শিবিরেই ধাক্কা। প্রতিবছর যেখানে এই সমাবেশ হয় সেই ধর্মতলায় ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে আর সমাবেশ করা যাবে না বলে কালীঘাট তৃণমূল এবং ঋতব্রত তৃণমূলকে জানিয়ে দিল পুলিশ। ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভা করতে তৃণমূলের দুই শিবিরই আবেদন জানিয়েছিল। মঙ্গলবার লালবাজারের তরফে জানানো হয়েছে, ধর্মতলার মতো ব্যস্ত জায়গায় রাস্তা আটকে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি করা যাবে না।

            জানা যাচ্ছে, পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা জানিয়েছেন, ভিক্টোরিয়া হাউস এবং তার চারপাশে আগেকার ফৌজদারি দণ্ডবিধির ১৪৪ ধারা জারি থাকে। অর্থাৎ বর্তমানের ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা অনুযায়ী এখানে জমায়েত করা নিষিদ্ধ। তাই ২১ জুলাই ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে শহিদ দিবস পালনের অনুমতি পাবে না কেউ। সূত্রের খবর, পুলিশের এই বার্তার পর বিকল্প স্থান খুঁজতে শুরু করেছে কালীঘাট তৃণমূল। পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি পাওয়ার আগে রবিবারই ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ফিতে নিয়ে মঞ্চের জন্য মাপজোক শুরু করে দেন কালীঘাট তৃণমূলের তরফে কুণাল ঘোষ, দোলা সেনরা। সোমবার সেই ঘটনা নিয়ে বিধানসভার অধিবেশনেই তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

            তিনি বলেন, ‘ফিতে নিয়ে মাপতে চলে গিয়েছেন! কোথায় (সভা) করবেন বলে দেব।’ একইসঙ্গে তার কটাক্ষ, ‘আপনাদের সভায় অনেক লোক হবে। লক্ষ লক্ষ। ব্রিগেডে চলে যান! গিয়েছিলেন তো এক বার!’ প্রসঙ্গত, ২০১১ সালের একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ হয় ব্রিগেডে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরেই রাস্তায় যানচলাচলে বাধা দিয়ে মাপজোক করার অভিযোগে দোলা, কুণালদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। তার পরের দিনই ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের সভা করা যাবে না বলে জানিয়ে দিল লালবাজার। বিষয়টি নিয়ে কালীঘাট তৃণমূলের তরফে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি। দলের তরফে শুভাশিস চক্রবর্তী বলেন, ‘এখনও পুলিশের তরফে কোনও চিঠি আমরা পাইনি। তাই এখনই এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না।’ আবার ঋতব্রত তৃণমূলের পক্ষে বিধায়ক আখরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা আমাদের শহিদ দিবস পালন করবই। তা কখনও মানুষের কোনও অসুবিধা করে হবে না। আমরা সবাই মিলে বসে এই কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’

            ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পরে এবার একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ কীভাবে পালন হবে বা আদৌ পালন হবে কিনা তা নিয়েই সংশয় তৈরি হয়। কিন্তু সেই সংশয় নিয়েই দূর করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার তিনি নির্দেশ দেন, ধর্মতলাতে এবারও ওই সমাবেশের আয়োজন হবে, আর সকলকে সেখানেই জমায়েত হতে হবে। এরপর উত্তর কলকাতা তৃণমূলের তরফে একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ নিয়ে এক প্রস্তুতি সভার আয়োজন করা হয়। সেই সভায় কুণালের ফোন থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য লাউড স্পিকারে শোনানো হয়। সেখানেই মমতা বলেন, ‘২১ জুলাই আশা করি অনুমতি পাব। আমরা একটা দিনই মিটিং করি। সে দিন বিস্তারিত বলব। পাঁচ জন কর্মী থাকলেও সেই মিটিংয়ে থাকব। আপনারা ওই দিন সমবেত হোন।’ পুলিশের অনুমতি না পাওয়ার পরে এবার তৃণমূলের দুই শিবির কোন পথে এগোয় সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *