মঙ্গলবার | ১৪ জুলাই ২০২৬

কবিতা-অ্যাম্বুলেন্স

 কবিতা-অ্যাম্বুলেন্স

বাসব মৈত্র

অ্যাম্বুলেন্স ঘুরছে।শ্মশানের মুখাগ্নি তোর প্যাকাটি ঘুরছে। গঙ্গা মাটি লেগে আছে স্ট্রেচারের গায়ে।ওরে কে কাকে ছুঁয়ে থাকে শ্মশান চিৎকারে।অ্যাম্বুলেন্স ঘোরে শ্যামবাজারে।দুপুরের মাটিতে শুকনো বারমুডা।তিন লিটার জল খা রোজ।ধূপ দে। শালিখ চড়াই এর বমি। ওরে ডেড বডি ছুঁয়ে প্রার্থনা কর— প্রে কর। বিট্টু উবাচ: ‘ তথাস্তু ‘ বলতে বলতে ঘুরছে আত্মা।
অ্যাম্বুলেন্স ঘুরছে।নবদম্পতি অ্যাম্বুলেন্সকে ঘিরে বিয়ের মন্ত্র পড়।কন্ডোম কিনতে লজ্জা। অ্যাম্বুলেন্সের সাদা কাচ দেখে দেখে নিয়েছি কেমন লাগছে চুলের কাটিং।
“অক্সিজেন যে নেই দেখোনি বজ্জাতের বাপ” মালিক খিস্তি করে ড্রাইভারকে। স্ট্রোক না সেরিব্রাল? তার আগেই রেফারির রক্ত-শিরা-মৃত্যু চিন্তা বাস্তববোধ, ধুনচুনের রাজনীতি— রাস্তায় ধর্মঘট, জল কামানের জল চুঁইয়ে চুঁইয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছে অ্যাম্বুলেন্সের সিটে। অ্যাম্বুলেন্সের সিটে তবু বিরিয়ানি, মটন কষার ঝোল। মুঠো পেঁয়াজ। বিটিরোডে শাড়ি, জামাকাপড়, চায়ের দোকান ঘিরে অ্যাম্বুলেন্স ঘুরছে।ফুল ছুঁয়ে আছে স্টিয়ারিংয়ে।
নাপিত জিজ্ঞাসিল: অ্যালার্জি এত খুলিতে তোমার? তখন কাক বসে অ্যাম্বুলেন্সের চাতালে। স্যালাইনের স্ট্যান্ডে প্রশ্নাবলী: রক্ত, ও নেগেটিভ রক্ত দিতে পারবে? চেনা আছে কেউ? বেড টু বেড দিতে হবে।গত ২৪ ঘণ্টায় হুইস্কি টানা শরীর— না, চলবে না তোমায়। প্রেসার মাপিয়েছিলে মাস দেড়েক হয়েছে? অ্যামবুলেন্স ঘুরছে। বিয়ে বাড়ি ঘুরছে অ্যাম্বুলেন্সে।ক্যামেরার লেন্স, আর্কাইভ: ঘণ্টা দেড়েক দেখাও অ্যাম্বুলেন্স চালকের বিভিন্ন অভিব্যক্তির মুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *