কবিতা : প্রাচীর
রুবাইয়া জুঁই
যতদূর চোখ যায় ভাঙাচোরা আয়নার টুকরো
যে আয়নায় মুখ দেখেছিলাম। ভীষণ অপয়া।
মাকড়সার জালে জড়িয়েছে পা। দু’হাতে শেকল।
গলাধঃকরণ করেছি বিষ, যাতে ধ্বংস হয় সবুজ। ধীরগতির প্রাণনাশী।
খুঁটি বাঁধা সংসারে, আলমারিতে কাপড়ের ভাঁজে ভাঁজে রাখা আছে আয়ু।
বহুকাল আগে কে যেন বলেছিল— আয়ুস্মতি হও
অন্ধকারের অতল গহ্বর ঘিরেছে আমায়।
তবুও মনে হচ্ছে সে আসবে। তার নৃত্যে এক হবে স্বর্গ-মর্ত্য।
আসবে, তার চোখের পাতায় শিশির, সে এক কঠিন পাহাড়।
আমার মতো ক্ষুদ্র স্রোতে ভাঙবে কী তার অনাদিকালের পাথর-প্রাচীর!
ছেলেধরা
আলো খুঁজতে খুঁজতে
তলিয়ে গেল অন্ধকারে
ভোরের শিউলি তুলতে গিয়ে হাতে এল
কেবল আধখানা ভাঙাচোরা স্বপ্ন।
বাসে-ট্রামে এমন পথ হারানো
মধ্য তিরিশের আতিক, মৈনাক।
ব্যাগে জোনাকি নিয়ে ফেরে
চাল ভেবে ভ্রমে বালি তোলে,
আঙুলের ফাঁক দিয়ে গলে যায়।
দূরে দূরে বহুদূরে ধূপগুড়ির হাটে লুটোপুটি।
ভাঙতে ভাঙতে যারা উঠে দাঁড়ায়
আবার পড়ে যায় বুটের নীচে,
বাড়ি থেকে হাসপাতাল তারপর মর্গ। তারপর নাকি স্বর্গ।
অথচ কেউ দেখলো না; এক ছেলেধরা দৈত্য
নিয়ে গেল তাদের অন্ধকারের ছায়াপথে।