এক কোটির বেশি মহিলাকে অন্নপূর্ণা যোজনায় টাকা দেওয়া হয়েছে, দাবি মুখ্যমন্ত্রীর
নেতাজি ইন্ডোরের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী
কলকাতা, ১ জুলাই- অন্নপূর্ণা যোজনায় টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে যে ঝাড়াইবাছাই হবে সেকথা আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান থেকে সরকারের তরফে জানানো হল, ঝাড়াইবাছাই করে ১ কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি মহিলাকে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পৌঁছে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। তার মধ্যে প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যে পৌঁছে গিয়েছে ৩০০০ টাকা, জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে যে দুর্নীতি হয়েছিল তা এদিন ফের উল্লেখ করেছেন শুভেন্দু। তৃণমূল সরকারের আমলে যে দু’কোটি গ্রাহক এই প্রকল্পের সুবিধা পেতেন তার মধ্যে ১০ লক্ষ পুরুষ বলেও দাবি করেছেন তিনি। উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, ‘আপনারাই বলুন, এই ধরনের প্রকল্পে পুরুষদের কী আর্থিক সুবিধা পাওয়া উচিত। কোনও অভারতীয় কী এই প্রকল্পের টাকা পেতে পারেন। তাই একটা স্বচ্ছতার ভিত্তিতে আমরা আপনাদের হাতে এই যোজনার টাকা তুলে দিচ্ছি।’ মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেখতে হয় যাতে নিয়মের বাইরে কেউ না চলে যায়। কারণ, এটা কোনও ব্যক্তি বা দলের টাকা নয়। এটা সরকারের টাকা। সরকারের টাকা উপযুক্ত প্রাপকেরাই পাবেন। এই নীতিতেই আমরা বিশ্বাস করি।’
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। তার মধ্যে ২৬ লক্ষ আবেদনকারীর ফর্ম বাতিল করা হয়েছে। কারণ, তারা এই সরকারি প্রকল্পের উপভোক্তা হওয়ার মাপকাঠি পূরণ করেননি। ঝাড়াইবাছাইয়ের পরে যে ১ কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি মহিলা ‘যোগ্য’ বলে বিবেচিত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ১ কোটি ৯ লক্ষ ৯২ হাজার ৩৭৮ জনের অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছে সরকার। যাঁরা বাকি রয়েছেন, তাদেরও অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে শুরু করবে বলে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন এই ঝাড়াইবাছাইয়ের প্রয়োজন ছিল তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি জানান, লক্ষ্মীর ভান্ডারে যে দু’কোটির কাছাকাছি উপভোক্তা ছিল তার মধ্যে ভারতীয় নন বা ভোটার তালিকায় নাম নেই এমন ২৭ লক্ষ মহিলা রয়েছেন। এই ২৭ লক্ষের মধ্যে অনেকেই মৃত, কেউ আবার এখানে থাকেন না। আবার এমনও অনেকে ছিলেন যাদের ভোটার তালিকায় তিন জায়গায় নাম ছিল এবং তিন জায়গায় তার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকছিল। শুভেন্দু বলেন, ‘আমরা এদের নাম কেটেছি। কারণ, সরকারের টাকা ভারতীয় ছাড়া অন্য কেউ পেতে পারে না।’ নতুন সরকার অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য যে ১২ পাতার ফর্ম পূরণ করিয়েছিল, তা নিয়েও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, ‘সমালোচনা হয়েছে… ১২ পাতার ফর্ম। আসলে চারটে পাতা ছাড়া পূরণ করার ছিল না।’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কখনওই বলি না বিজেপির টাকা, মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত টাকা, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত টাকা। আমরা বলি সরকারি টাকা। যারা যোগ্য তারাই পাবেন।’
কামদুনি থেকে শুরু করে বাংলায় আগে যেসব নারী নির্যাতনের ঘটনার বিচার হয়নি এবার তার বিচার হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী বলেন, আমাদের সরকার নারী সুরক্ষা কমিশন গঠন করেছে। তার মাথায় রয়েছেন প্রাক্তন বিচারপতি সমাপ্তি চট্টোপাধ্যায়। যত পুরনো ঘটনা হোক না কেন আপানারা অভিযোগ করুন। আপনাদের আশ্বস্ত করছি, অভিযুক্তরা জেলে যাবে। তাদের সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হবে।