শনিবার | ১৮ এপ্রিল ২০২৬

মোদি সাহেবের পতন কাল দিল্লি থেকে শুরু হয়েছে, হুঙ্কার মমতার

 মোদি সাহেবের পতন কাল দিল্লি থেকে শুরু হয়েছে, হুঙ্কার মমতার

কলকাতা অফিস, ১৮ এপ্রিল– লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করাতে পারেনি কেন্দ্রীয় সরকার। সম্মিলিত বিরোধীশক্তির ভোটাভুটিতে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না পেয়ে মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশ করাতে ব্যর্থ হয়েছে মোদি সরকার। আর সেই ইস্যুতেই আজ নির্বাচনী সভা থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

            তিনদিনের বিশেষ অধিবেশনে তিনটি বিল পাশ করাতে সক্রিয় ছিল যার প্রথমটি ছিল, লোকসভা ও বিধানসভাগুলিতে মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণ। এই বিলের নাম ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’। ভোটাভুটি চলাকালীন বিলটির পক্ষে ২৯৮টি ভোট পড়লেও বিপক্ষে পড়ে ২৩০টি। দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না মেলায় শেষ পর্যন্ত পাশ করানো যায়নি বিলটি। শনিবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার বারুইপুরের সভা থেকে মমতা বলেন, ‘মহিলা বিল আলাদা করে অনেক দিন পড়ে রয়েছে। আলাদা করুন। তার সঙ্গে ডিলিমিটেশন বিল কেন? শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা? মোদি সাহেবের পতন কাল দিল্লি থেকে শুরু হয়েছে। এটা মহিলা বিল নয়। মহিলা বিলের জন্য আমি ১৯৯৮ সাল থেকে লড়াই করেছি। গদি মিডিয়াকে দিয়ে মিথ্যা বলাচ্ছে। এই বিলের মধ্যে নিয়ে এসেছিল, দেশকে, বাংলাকে ভাগ করার কথা। সব রাজ্যকে ভাগ করার কথা। ৮৫০টা কেন্দ্র করার জন্য ছিল গেম। মেঘের আড়াল। নির্বাচন থাকা সত্ত্বেও ২১ জন সাংসদকে পাঠাই। কারণ, ওটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ, বঙ্গ ভাগ করতে দেব না। মোদী সরকার হেরে গেছে। মহিলা দেখাচ্ছেন! ৫০ শতাংশ সংরক্ষণ দিয়েছি পঞ্চায়েত, পুরসভায়। লোকসভায় নির্বাচিত সদস্য ৩৭ শতাংশ। রাজ্যসভায় ৪৬ শতাংশ, যেটা দল মনোনীত করে। মোদীজি কানমলা খাওয়া উচিত। আপনারা মেয়েদের সমর্থন করেন না।’

            এখানেই থামেননি তৃণমূলনেত্রী। তিনি বলেন, ‘কাল প্রমাণ হয়ে গিয়েছে, এরা সংখ্যাগরিষ্ঠ আর নয়। মাইনরিটি সরকার। দুটো পার্টিকে দিয়ে-থুয়ে চালাচ্ছে।’ বিহারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘নীতীশ কুমারকে দেখলেন তো? ভোটের সময় কাজে লাগাল, তার পরে তাড়িয়ে দিল? এখন বলছে দেব ৩০০০। ভুলেও ফর্ম ভরবেন না। আপনার নাম ঠিকানা নিচ্ছে। এর পরে অ্যাকাউন্টের সব টাকা নিয়ে নেবে। এরা সব প্রতারক।’ আমজনতার উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এসআইআরের লাইন, নোটবন্দির লাইনে দাঁড়িয়েছেন। আধার কার্ড নিতে হাজার টাকা দিয়েছেন। এ বার বিজেপি-কে বেলাইন করার খেলা। দুরন্ত ভাবে খেলতে হবে।’

            এদিন হাওড়ার উলুবেড়িয়ার সভা করার পরে বারুইপুর, ভাঙড় সহ মোট পাঁচটি সভা করেন মমতা। আর সেখানেই ভাঙড়ের তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লার নিরাপত্তা নিয়ে বিজেপিকে কার্যত এক হাত নিলেন তিনি। মমতা এদিন স্পষ্ট জানালেন, শওকত মোল্লার অনুরোধেই তিনি তার কেন্দ্রের জন্য বড়সড় পরিকল্পনার কথা ভেবেছেন। মমতা বলেন, “আমি ইচ্ছা করেই শওকতকে ক্যানিং থেকে এখানে নিয়ে এসেছি। ও আমাকে বলেছিল আটটি থানা বানাতে, মেডিকেল কলেজের কথাও ও-ই বলেছিল। ক্যানিং স্টেডিয়াম থেকে শুরু করে যা যা দরকার, সব করে দেব।” শওকতের নিরাপত্তা নিয়ে এদিন বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেছেন মমতা। তিনি বলেন, “বিজেপির হিম্মত নেই আমার সঙ্গে লড়াই করার, তাই ওরা শওকতকে নিয়ে পড়েছে। ওকে খুন করতে চায়, ওর সিকিউরিটি তুলে নিতে চায়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *