বৃহস্পতিবার | ২৯ অক্টোবর ২০২৬

শাড়ি পরে খালি পায়ে দৌড়ে রেকর্ড গড়েও চাকরি হাতছাড়া দুই সন্তানের মা কবিতার

 শাড়ি পরে খালি পায়ে দৌড়ে রেকর্ড গড়েও চাকরি হাতছাড়া দুই সন্তানের মা কবিতার

রাঁচি: এ যেন তীরে এসে তরী ডোবার মতো অবস্থা। স্বামীহারা সংসারে দুই সন্তান আর শাশুড়ির ভরণপোষণের দায়িত্ব মাথায় নিয়ে চাকরি খুঁজতে নিজের সর্বশক্তি দিয়েছিলেন ঝাড়খণ্ডের কবিতা। শাড়ি পরে, খালি পায়ে দৌড়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। সময়ের আগেই ১৬০০ মিটার দৌড় শেষ করে ভাইরাল হয়েছিলেন দরিদ্র গৃহবধূ। এই যোগ্যতা অর্জনের পর দ্বিতীয় পরীক্ষায় আর পাশ করতে পারলেন না কবিতা। তিনবার হাইজাম্পের সুযোগ পেলেও নির্দিষ্ট উচ্চতা ছুঁতে না পারায় খারিজ হয়ে গেল হোমগার্ডে চাকরির সুযোগ।
ঝাড়খণ্ডের রামগড়ের গৃহবধূ কবিতা মাস কয়েক আগেই ভাইরাল হয়েছেন তাঁর নিজস্ব দক্ষতায়। সরকারি হোমগার্ডের চাকরির পরীক্ষায় ১৬০০ মিটার দৌড়ের জন্য ১০ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল প্রতিযোগীদের। কবিতা তাতে অংশ নেন। কিন্তু তাঁর কাছে না ছিল দৌড়ের উপযুক্ত পোশাক, না ছিল প্রশিক্ষণ। শুধুমাত্র ছোট সন্তানদের মুখের দিকে চেয়ে সাহস করেই কবিতা চলে যান দৌড়ের মাঠে। পরনে তাঁর তুঁতে রঙের মলিন শাড়ি, খালি পা। সেই অবস্থায় ১৬০০ মিটারের রেস শেষ করেন মাত্র ৮ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডে! অর্থাৎ ১০ মিনিটের আগে।
এই কৃতিত্বের কারণেই কবিতা রাতারাতি হয়ে ওঠেন সোশ্যাল মিডিয়ার ‘তারকা’। ওই পরীক্ষার পরবর্তী ধাপ ছিল হাইজাম্প। তিনবার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কবিতাকে। কিন্তু কোনওবারই নির্ধারিত উচ্চতায় পৌঁছতে পারেননি তিনি। ফলে হোমগার্ড নিয়োগের ওই পরীক্ষায় ফেল করে যান। আর যার আখেরে ফল; চাকরি হাতছাড়া হল কবিতার।
অথচ কবিতার সংগ্রামী জীবনে একটা চাকরির বড় প্রয়োজন ছিল। আচমকা স্বামীর মৃত্যুর পর দুই সন্তান, বৃদ্ধ শাশুড়ির সমস্ত দায়িত্ব পড়ে গৃহবধূ কবিতার ওপর। তাই কোনও প্রস্তুতি ছাড়াই চাকরির আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিধি বাম! শেষমেশ আর চাকরি হল না তাঁর। স্বনির্ভর হয়ে সংসার প্রতিপালনের স্বপ্ন আপাতত অধরা রয়ে গেল কবিতার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *