কন্যারত্ন দিবস পালন বাংলায়, আর্থিক সহায়তা এক লাফে দ্বিগুণ করার ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
কলকাতা, ১৪ আগস্ট- শুক্রবার কলকাতার ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে কন্যারত্ন দিবস পালিত হলো। তৃণমূল সরকারের সময়ে এই দিনেই পালিত হয়েছে কন্যাশ্রী দিবস। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাত্রীদের বছরে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে কন্যাশ্রী প্রকল্প নিয়ে এলেও কেন্দ্রের বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়নি বাংলা। এবার নতুন করে কন্যারত্ন প্রকল্প নিয়ে এলো বিজেপির সরকার, তার সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হলো কেন্দ্রের প্রকল্প বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নারীশিক্ষার স্বপ্নকে পাথেয় করে রাজ্যে নারী শিক্ষা, ক্ষমতায়ন ও সুরক্ষায় রোডম্যাপ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে আজ নারী সুরক্ষায় চালু হলো ১৮১ নম্বরের হেল্পলাইন, পাশাপাশি কেন্দ্রের ‘পালনা’ প্রকল্পের সঙ্গেও যুক্ত হল রাজ্য।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের জাগরণে দেশের কন্যারা আগামী দিনে মা মাতঙ্গিনী হাজরার আত্মত্যাগের ভূমিকা গ্রহণ করুক, এটাই আমরা চাইব।’ রাজ্যের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম পেশ হওয়া ৮ মাসের বাজেটের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছরে ২০ লক্ষ ১৩ হাজারেরও বেশি ছাত্রী সরকারের নির্ধারিত অনুদান পেতে চলেছেন। বিদ্যালয়গুলির প্রাথমিক যাচাইকরণের পর এ দিন প্রথম ধাপে ১০ লক্ষ ১৩ হাজার ছাত্রীর জন্য বরাদ্দকৃত ৪০০ কোটি টাকা সরাসরি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। বাকি স্কুলগুলি থেকে দ্রুত নথিপত্র এলে তাদের টাকাও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। একই সঙ্গে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষা মাঝপথে যাতে থমকে না যায়, তার জন্য এককালীন ৫০,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। কন্যারত্ন প্রকল্পে স্কুলপড়ুয়া ছাত্রীদের জন্য আর্থিক অনুদানের পরিমাণ এক হাজার টাকা থেকে এক লাফে ২ হাজার টাকা করার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবারই রাজ্য সরকারের তরফে তাদের জন্য বরাদ্দ ৪০০ কোটি টাকা স্কুলগুলির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দিয়ে দেওয়া হবে। তা আজ থেকেই হাতে পাবেন ছাত্রীরা।