বিভাজন বিভীষিকা দিবস স্মরণ, গ্রেটা ক্যালকাটা কিলিংয়ের কথা মনে করালেন মুখ্যমন্ত্রী
কলকাতা, ১৪ আগস্ট- বদলের বাংলায় প্রথমবার পালিত হলো ‘বিভাজন বিভীষিকা স্মরণ দিবস’। দেশ স্বাধীন হওয়া যতটা আনন্দের ছিল, দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশভাগের যন্ত্রণা ছিল তার থেকে অনেক বেশি। আর শুক্রবার সেই বিভাজন বিভীষিকা স্মরণ দিবস থেকে দেশভাগের যন্ত্রণার কথা তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি অভিযোগ তুললেন, পূর্বতন তৃণমূলের সরকার সেই ইতিহাসকে ভোলানোর চেষ্টা করেছে।
আজ নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টার এবং মৌলালি যুব কেন্দ্রে এই দিবস পালনের আয়োজন করা হয়। নিউটাউনের অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন রাজ্যপাল আর এন রবি। স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের ঠিক আগের দিন দেশভাগের জেরে শেকড় ছেঁড়ার যন্ত্রণার কথা স্মরণ করে রাজ্যপাল আরএন রবি এই দিনটি পালনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তা গ্রহণ করে সরকার দিনটি পালন করেছে। মৌলালির অনুষ্ঠান থেকে শুভেন্দু বলেন, ‘ভারতকে বিভাজিত করার নামে দুটি হিন্দু গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল। একটি একাত্তরে বাংলাদেশ, আরেকটি ছেচল্লিশের গ্রেট ক্যালকাটা কিলিং, নোয়াখালি গণহত্যা। এসব ভুলব কী করে? গোপাল মুখোপাধ্যায় সেদিন না থাকলে হিন্দুরা শূন্য হয়ে যেত।’
এই অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘জিন্নার নেতৃত্বে সেদিন ভারতকে বিভাজিত করার নামে ২ হিন্দু গণহত্যা সংঘটিত হয়েছিল। আমরা ধরে নিয়েছিলাম, দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশভাগ হবে না। সেদিন ক্ষমতার লোভে দেশভাগ হয়েছে। বিভীষিকাময় দেশভাগ। আমরা তো সবসময় পূর্ণাঙ্গ, অখণ্ড ভারত চাই। এতদিন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, শিবাজি, মহারানা প্রতাপ সবাইকে ভুলিয়ে রাখা হয়েছিল। তাদের ইতিহাস আমাদের আরও ভালোভাবে জানতে হবে।’ দিনটি স্মরণের জন্য কেন উত্তর কলকাতাকে বেছে নেওয়া হলো তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশভাগের পর এই এলাকায় সবচেয়ে বিধ্বস্ত হয়। সেদিন একমাত্র রুখে দাঁড়িয়েছিলেন গোপাল মুখোপাধ্যায়। তিনি না থাকলে আজ হিন্দুরা থাকতেন না। কলকাতার একটা রাস্তার নাম ছিল সুরাবর্দি না কী। সেটা পালটে আমরা ‘গোপাল মুখার্জি অ্যাভিনিউ’ করেছি। আর সেই নামবদল হতেই কত গবেষণা! এই সুরাবর্দি সেই সুরাবর্দি নয় – আরও কত কী!’
এরপরেই পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আগের সরকার এই দিনে খেলা হবে দিবস পালন করত। খেলতে খেলতে একেবারে বাংলার মানুষ মাঠের বাইরে বের করে দিয়েছে। পূবর্তন মুখ্যমন্ত্রীকে আমি নিজেই দু’বার হারিয়েছি। ইতিহাস ভোলানোর চেষ্টা হয়েছিল। এরা আসলে সুরাবর্দির গুষ্টি।’