শুক্রবার | ২৬ জুন ২০২৬

তারাতলার ঘটনায় গ্রেফতার কালীচরণ, ফিরহাদের গ্রেফতারিতে সরব কালীঘাট তৃণমূল

 তারাতলার ঘটনায় গ্রেফতার কালীচরণ, ফিরহাদের গ্রেফতারিতে সরব কালীঘাট তৃণমূল

কলকাতা, ২৬ জুন- তারাতলার গুদাম বিপর্যয়ে এবার পুলিশি হেফাজতে কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাকে আদালতে তোলা হলে ৪ জুলাই পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই বিপর্যয়ে শুক্রবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬।  

বিধানসভার অধিবেশনে বৃহস্পতিবার তারাতলার ঘটনা নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকার এবং কলকাতা পুরসভার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর বক্তব্য রাখতে গিয়ে এক কালীচরণের নাম উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। দাবি করেন, এই কালীচরণকে গ্রেফতার করলেই সব তথ্য বেরিয়ে আসবে। তবে সরাসরি এই কালীচরণ কে তা তিনি বলেননি। তবে তৎকালীন ফাইলে সেই সময়ের মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সাক্ষর রয়েছে বলেও ফাইল তুলে দেখান মুখ্যমন্ত্রী। তারপরেই গ্রেফতার করা হল কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আর এদিন আদালতে সরকারি আইনজীবীর অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে ত্রুটিযুক্ত নকশা অনুমোদন করেছিলেন এই কালীচরণ। সরকারি নথি বলছে, গত বছর ২০ নভেম্বর মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং কমিটির বৈঠকে গুদামের নকশাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। মিটিং নোটে মন্তব্য করা হয়, নকশায় বিল্ডিং রুল ‘সেই অর্থে’ ভাঙা হয়নি, কিন্তু বিল্ডিং বিভাগের মেয়র পারিষদ অথবা মেয়রের অনুমতি ছাড়া যে এই ছাড়পত্র কার্যকর হবে না, সে কথাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মিটিং নোটে সই করে অনুমতি দিয়েছিলেন ফিরহাদ হাকিম, যিনি ছিলেন একাধারে মেয়র এবং বিল্ডিং বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত।

তারাতলার যে গোডাউনটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে সেটি তৈরির দায়িত্বে ছিলেন আসগর হোসেন, যিনি নাকি সংশ্লিষ্ট ৮০ নম্বর ওয়ার্ডের সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর আনোয়ার খানের ঘনিষ্ঠ। দু’জনের সঙ্গেই ফিরহাদের ছবি পাওয়া গিয়েছে। আর এতসব বিষয় সামনে আসার পরেই এবার ফিরহাদের গ্রেফতারির দাবি তুলেছে কালীঘাট তৃণমূল। ফিরহাদকে গ্রেফতার করে জেরা করার দাবি জানিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। সাংসদ মহুয়া মৈত্রের প্রশ্ন, প্রাক্তন মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস যদি ‘অকারণে’ দু’সপ্তাহের ওপর জেলে থাকেন, তবে ফিরহাদ মুক্ত কী ভাবে? সিপিএমের সুজন চক্রবর্তী প্রশ্ন তুলেছেন, ‘সরকার-অনুগত বিরোধী দলের’ অংশ হওয়ার কারণেই কি শহরে একের পর এক নির্মাণ দুর্ঘটনার পরেও প্রাক্তন মেয়র তথা পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রীর গায়ে আঁচ লাগছে না?

তবে দায় এড়িয়েছে ফিরহাদ। তিনি বলেন, ‘আমি যত দূর জেনেছি, গোডাউনটা বেআইনি নয়। নজরদারির অভাব ছিল। মেয়র বা কমিশনার গিয়ে তো আর নজরদারি করতে পারেন না।’ তবে এই ঘটনায় অভিযুক্ত কাউকে ছাড়া হবে না বলেই দাবি বিজেপির নেতাদের। পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি শেষ কথা ছিল। তাকে যদি গ্রেফতার করা হয়, তা হলে যিনি মন্ত্রী ছিলেন, যার স্বাক্ষর ছিল তাকে কেন ধরা হবে না? এই ঘটনার দায় কী প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম অস্বীকার করতে পারেন। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী ঘটনার দায় এড়াতে পারেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *