সাইবার প্রতারণা ঠেকাতে হেল্প ডেস্ক, নারী সুরক্ষায় দুর্গা স্কোয়াডের সূচনা বাংলায়
কলকাতা, ২ জুলাই– সাইবার প্রতারণা রুখতে এবার কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার পুলিশের সঙ্গে বৈঠকে বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার সাইবার প্রতারিতদের অভিযোগ নিতে প্রতি থানায় বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র থাকবে বলে জানান তিনি।
গভীর উদ্বেগের সঙ্গে আজ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মহামারির আকার নিয়েছে প্রতারণা। এমনকী প্রান্তিক মানুষও প্রতারণার শিকার হয়েছে। জনতার দরবারে বহু প্রতারিতের অভিযোগ পেয়েছি।’ সাইবার সহায়তা কেন্দ্র তৈরির ফলে রাজ্যের বাসিন্দারা যথেষ্ট উপকৃত হবেন বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রতি সপ্তাহে জনতার দরবারে সাইবার প্রতারণার শিকার বহু মানুষ অভিযোগ জানাতে আসেন। এমনকী সামাজিক প্রকল্পে ফর্ম ফিলাপ করেছেন, অ্যাকাউন্ট থেকে সামান্য ভাতাটুকুও কয়েক সেকেন্ডে উধাও হয়ে যাচ্ছে। প্রতারণার শিকার প্রান্তিক মানুষরাও। ভারত সরকার ও রাজ্য সরকারের সমন্বয়ে সাইবার হেল্প ডেস্কের সূচনা করে প্রতারিতদের সহায়তা দেওয়া হবে।’
পাশাপাশি এবার বিপদের সময় জরুরি হেল্পলাইনের সুবিধাও চালু হলো রাজ্যে। যার সাহায্যে মাত্র ৫ মিনিটে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করবে পুলিশ বাহিনী। বৃহস্পতিবার নবান্ন সভাঘরে পুলিশের একগুচ্ছ নতুন পরিষেবার উদ্বোধনে এই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানালেন, আমেরিকার ৯১১-এর ধাঁচে এবার বাংলাতেও চালু হচ্ছে হেল্পলাইন নং – ১১২। এর জন্য আপাতত একটি গাড়ি বরাদ্দ করা হয়েছে। আগামী বাজেটে রাজ্যজুড়ে এই পরিষেবা চালু করতে আরও ২টি গাড়ি দেওয়া হবে।
আবার নারী নিরাপত্তাকে সুরক্ষিত করতে এবার রাজ্যে তৈরি হল ‘দুর্গা স্কোয়াড’। নবান্ন থেকে আর এই স্কোয়াডের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। ডিজিপি ও স্বরাষ্ট্র সচিবের তৎপরতায় আগামী সেপ্টেম্বর মাসের অনেক আগেই ‘মহিলা হেল্পডেস্ক’ চালু হয়ে যাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, নতুন সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় এক নম্বরে রয়েছে নারী ও কন্যাদের নিরাপত্তা। পক্সো আইন, নির্ভয়া কাণ্ড থেকে শুরু করে রাজ্যের সাম্প্রতিক ‘আরজি কর’ কাণ্ড পর্যন্ত যে তিক্ত অভিজ্ঞতা সঞ্চয় হয়েছে, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে নারীদের প্রকৃত বিচার ও সুরক্ষা দিতে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে চলবে।