মঙ্গলবার | ০৬ অক্টোবর ২০২৬

এবার থেকে গঙ্গার পাড়ে বসছে সংস্কৃতের পাঠশালা

 এবার থেকে গঙ্গার পাড়ে বসছে সংস্কৃতের পাঠশালা

নিজস্ব সংবাদদাতা- হাতে থাকবে না মোবাইল। গঙ্গার হাওয়া এসে ভিজিয়ে দেবে সকাল। চারপাশে পরিচিত বাংলা বা হিন্দি নয়—কানে ভেসে আসবে সংস্কৃত শব্দ। ‘কথং ভবতি?’, ‘কুত্র গচ্ছসি?’, ‘ভোজনং কৃতবান্?’ এভাবেই সংস্কৃতে চলবে গল্প, আড্ডা, আলোচনা, এমনকি অবসরের কথাবার্তাও।
হালিশহরের নিগমানন্দ মঠেই বসছে সাত দিনের ‘প্রবোধন বর্গ’ শিবির। আয়োজনে সংস্কৃতভারতী। ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এই আবাসিক শিবির। শেষ দিন সকালে প্রার্থনার পরই হবে সমাপ্তি।
আয়োজকদের আশা, এবার শিবিরে প্রায় দু’শো জন অংশ নেবেন। ব্রহ্মমুহূর্তে দিন শুরু। রাত দশটা পর্যন্ত চলবে নানা পর্ব-শিক্ষা। জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধা নেই। তবে অংশগ্রহণকারীর সামান্য সংস্কৃত বলার ক্ষমতা থাকা চাই, জানান সংস্কৃতভারতীর দক্ষিণবঙ্গ প্রান্তের সম্পর্ক প্রমুখ অরুণ কুমার চক্রবর্তী।
অরুণবাবুর কথায়, আগে ‘সম্ভাষণ শিবির’-এর মাধ্যমে কথ্য সংস্কৃতের প্রাথমিক দক্ষতা তৈরি করেই অনেকে প্রবোধন বর্গে আসেন। প্রবোধন শেষ করলে ১২ দিনের শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ বর্গে যাওয়ার সুযোগও থাকে। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০ সালে সংস্কৃত-সহ ভারতীয় ধ্রুপদী ভাষার শিক্ষাকে উৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে।
আরএসএস-ও ভারতীয় ভাষাগুলিকে সংস্কৃতির বাহক হিসেবে সংরক্ষণ ও প্রসারের পক্ষে মত জানিয়েছে। অরুণবাবুর দাবি, এই ভাষা আন্দোলনে সব ধর্মের মানুষ যোগ দিচ্ছেন।
এমনকি মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজনও এখানে সংস্কৃত শেখাচ্ছেন এবং শিখছেন। পশ্চিমবঙ্গের ১৬ জন বিধায়ক সংস্কৃতে শপথ নিয়েছেন। অরুণবাবুর দাবি, সংস্কৃত জানা থাকলে বেদ, উপনিষদ ও পুরাণের পাশাপাশি আয়ুর্বেদের মূল গ্রন্থগুলো সরাসরি পড়ে বোঝা অনেক সহজ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *