বৃহস্পতিবার | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলায় আদানি আরোগ্য মন্দিরের শিলান্যাস, বিপুল বিনিয়োগের আশ্বাস আদানি গোষ্ঠীর

 বাংলায় আদানি আরোগ্য মন্দিরের শিলান্যাস, বিপুল বিনিয়োগের আশ্বাস আদানি গোষ্ঠীর

কলকাতা, ২৪ সেপ্টেম্বর- আমুলের পরে এবার বাংলায় আদানি গোষ্ঠীর বিনিয়োগ। বাংলায় স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বড় বিনিয়োগ দেশের প্রথম সারির এই শিল্পগোষ্ঠীর। বৃহস্পতিবার নিউ টাউনে আদানি গোষ্ঠীর প্রস্তাবিত হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ এবং গবেষণাকেন্দ্র ‘আদানি আরোগ্য মন্দির’-এর ভূমিপুজো এবং শিলান্যাস কর্মসূচির আয়োজন করা হলো। আর সেখানে আদানি গোষ্ঠীর প্রধান গৌতম আদানি পাশাপাশি উপস্থিত থাকলেন তার স্ত্রী প্রীতি আদানি এবং পুত্র করণ আদানি। ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‘আদানি আরোগ্য মন্দিরে’  বিনামূল্যে ১০০০ শয্যা থাকছে দুস্থদের জন্য। বাংলায় পালাবদলের পরে স্বাস্থ্য পরিষেবায় এক বিরাট দৌড় ডবল ইঞ্জিন সরকারের।

            অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, ‘বাংলার জন্য এটা ঐতিহাসিক দিন। দেশের কোথাও গরিবদের জন্য এমন ব্যবস্থা নেই।’ আবার এই মঞ্চ থেকেই ২০৩৫ সালের মধ্যে রাজ্যে পরিকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন ক্ষেত্রে এক লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিলেন আদানি গোষ্ঠীর প্রধান গৌতম আদানি। গৌতম আদানি বলেন, ‘গুজরাতের পর দ্বিতীয় কর্মভূমি পশ্চিমবঙ্গ। এখানে অনেক বড় সুযোগ অপেক্ষা করছে। বাংলার মাটিকে আমার প্রণাম। কলকাতাকে আমার প্রণাম।’ পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকা একটা গৌরবের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন আদানি। তার কথায়, ‘মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বাংলা এগোবে। তাঁর হাত ধরে বাংলায় অনেক সম্ভাবনা গড়ে উঠবে।’

            মুখ্যমন্ত্রী আজ জানিয়েছেন, বাংলাকে পুর্নগঠনে ইচ্ছুক আদানি গোষ্ঠী। পাশাপাশি বাম ও তৃণমূলকে আকযোগে বিঁধেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই করণ আদানি আমার সঙ্গে দেখা করেন। তিনিই বলেছিলেন মর্ডান হাসপাতাল তৈরি করতে চান নিউটাউনে। আমি সম্মতি দিই। আমি ওদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। গৌতম আদানিজির সবুজ সংকেত মিলতেই কয়েক মাসের মধ্যেই ভূমিপুজোও হয়ে গেল।’ মঞ্চ থেকে আদানিদের বাংলায় আরও বিনিয়োগের জন্য ডাক দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বাংলা অনেক দুর্ভোগ সহ্য করেছে। বাম আমলে ইউনিউনের ঝামেলায় ৫৪টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। গত ১৫ বছরে তৃণমূল সরকার শিল্প নিয়ে আগ্রহীই ছিল না। ওরা শুধু ভাতা দিয়েছে আর রাজনীতি করেছে। তাই আমি আদানিজিকে বলব, আপনিই পারবেন বাংলাকে দাঁড় করাতে। তাই প্লিজ আমাকে সাহায্য করুন।’

            বৃহস্পতিবার সকালে প্রথমেই কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে যান গৌতম আদানি। শিলান্যাস কর্মসূচিতে বক্তৃতা করতে গিয়ে বাংলা ভাষায় শুরু করেন তিনি। ‘নমস্কার, কলকাতাকে আমার প্রণাম, বাংলার মাটিকে আমার প্রণাম’ বলে বক্তব্য শুরু করেন তিনি। রাজ্যের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব এবং রাজ্যের অতীত ঐতিহ্যের কথা মনে করিয়ে আদানি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান বাংলায় বিদ্যুৎ বণ্টন থেকে শুরু করে, বিদ্যুৎ উৎপাদন, রাস্তা, ব্রিজের মতো পরিকাঠামো ক্ষেত্রে লগ্নির আগ্রহ প্রকাশ করেন গৌতম। সেই সঙ্গে মহাকরণ এবং কুমারটুলি ঘাটের হেরিটেজ কাঠামো পুনরুদ্ধার করার দায়িত্বও রাজ্যের পক্ষ থেকে মউ স্বাক্ষর করে আদানি গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। দুর্গোৎসবকে বিশ্বের মঞ্চে পৌঁছে দিতেও আদানি গোষ্ঠী সাহায্য করবে বলে জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

            বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করে গৌতম আদানি বলেন, ‘শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে বাংলায় শিল্পের জন্য একটি সম্পূর্ণ ভয়মুক্ত পরিবেশ গড়ে উঠেছে। উন্নতির এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে চলেছে বাংলা। কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামোর সার্বিক উন্নয়নে আপনিই প্রমাণ করেছেন যে আপনিই প্রকৃত ভূমিপুত্র। আপনার নেতৃত্বেই রাজ্য নতুন করে গড়ে উঠবে।’ 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *