ভোটের আটচল্লিশ ঘণ্টা আগে বদল নন্দীগ্রামের পুলিশ পর্যবেক্ষক
কলকাতা, ২১ এপ্রিল – ভোটের দু’দিন আগে এবার নন্দীগ্রামের পুলিশ পর্যবেক্ষককে সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার প্রথম দফার ভোটেই এই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ। তার আগেই পুলিশ পর্যবেক্ষক পদ থেকে হিতেশ চৌধুরিকে সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন। নতুন পর্যবেক্ষক করা হয়েছে অখিলেশ সিংকে।
সোমবার নন্দীগ্রামের অবজার্ভার হিতেশকে চিঠি লিখেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। অভিযোগ ছিল, নন্দীগ্রাম থানার ওসি পক্ষপাতিত্ব করছে। বিজেপি সদস্যদের বিরুদ্ধে তৃণমূলের কর্মীদের করা অভিযোগের ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এছাড়াও একাধিক অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল। পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসাবে তাকে ব্যবস্থা নেওয়ার আবদেন করে রাজ্যের শাসকদল। তারপরই আজ, মঙ্গলবার তাঁকে সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন । কেন এই বদল তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে কমিশন জানিয়েছে, অবিলম্বে বদলির নির্দেশ কার্যকর করতে হবে। নন্দীগ্রামে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসাবে দায়িত্ব নিতে হবে অখিলেশকে।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে অন্যতম হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রাম। কেন্দ্রে এ বারও বিজেপির প্রার্থী বিদায়ী বিধায়ক তথা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তার বিপক্ষে তৃণমূল প্রার্থী করছে পবিত্র করকে। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির প্রতীকে বয়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের ভোটে জিতে পঞ্চায়েত সদস্য হয়েছিলেন পবিত্র। কিন্তু ১৭ মার্চ কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরে এসে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন। তারপরেই তাকে প্রার্থী করে তৃণমূল। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে এই নন্দীগ্রামে প্রার্থী হয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ১৯৫৬ ভোটে হেরে যান শুভেন্দুর কাছে। এবার আবার মুখ্যমন্ত্রীর গড় বলে পরিচিতি ভবানীপুরে প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু। অর্থাৎ এবারও মমতা-শুভেন্দু দ্বৈরথ দেখবেন বাংলার মানুষ।
রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, নন্দীগ্রামে এবারও লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। মনে করা হচ্ছে, ভোটের সময় ওই কেন্দ্রের আইনশৃঙ্খলা আরও আঁটোসাঁটো করতে, নজরদারি বাড়াতেই পুলিশ পর্যবেক্ষক বদলের এই সিদ্ধান্ত নিল কমিশন। তবে এই বিষয়ে কমিশনের তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।