মঙ্গলবার | ০৭ জুলাই ২০২৬

শস্য

 শস্য

বাসব মৈত্র

প্রতিটি মৃত্যুকে নিয়ে তুমি ছ্যাবলামো করেছ। আজ আর তাই তোমার মৃত্যুকে মানছে না কেউ। মৃত্যুর দিন, তুমি চেয়েছিলে—
শ্রাদ্ধে কোনও রবীন্দ্রসঙ্গীত নয়। কুমার শানুর বাছাই করা বলিউড ও বাংলা গান।
সংস্কৃতির লোকেরা আঁতকে উঠেছিল। কিন্তু তুমি ওসব পাত্তা দাওনি। তুমি তো সংস্কৃতির লোক নও। কর্মী ছিলে যদিও। তুমি যে বলিউডের নাচের এত ভক্ত— দুর্গা পুজোর ভাসানের নাচ, তুমি নিজেও কি কোমর দোলাওনি
সবাই চেঁচিয়ে উঠেছিল, এই বেল্লালা, সঙ্গে হুইস্কির ককটেল।
তুমি, চিৎকার করতে গিয়েও থমকে গিয়েছিলে—
জন্মগত বিষাদের থেকে, অবসাদের থেকে, একাকীত্বের থেকে নাচ ভালো। একক বা সম্মিলিত নাচ, হিন্দি গানের বিট যে ভাবে নাচে, নাচায়
তুমি তার আমৃত্যু ভক্ত।
বিষাদ, একাকীত্ব, অবসাদের ঘুর্ণি রক্তে যে সুইসাইডের শিশ দেয়, তুমি বেরিয়ে আসতে চেয়েছিলে।
সেই নাচ নিয়ে।
দালের মেহেন্ডির ভাঙ্গরা— তুমি কুর্নিশ জানাও।রক্তের ঘুর্ণি তোমার ব্যক্তিত্বকে দুমড়ে দেয়। অসংখ্য না, হ্যাঁ-র ঘুর্ণি তোমাকে ছিবড়ে করে ফেলে।
তুমি বড় কোনও দর্শনের দিকে যেতে চাও না। ওসব তাত্বিক কথা, আত্মস্থ করতে করতে এত জটিলতার দিকে ঠেলবে, তুমি ছেড়ে দিতে চাও সব
বরং সুর তোমাকে বর্ষার স্নান দেয়। বরং সরোদ তোমার একাকীত্বে স্নান দেয়। বাণী নয়। সুর। একক নিভৃত সুর— যা তোমার বালক সুলভ চপলতা। যা তোমার অনুভূতির দিগন্ত। যা তোমার ভেতরের নিষ্ঠা, আধ্যাত্মিকতা, প্রেম, ঈশ্বর চেতনা।
সুর, সরদের ঝংকার, তবলার বোল,
সেই একক মুহূর্ত থেকে আবার যখন সম্মিলিত—
তখন রাজনীতি, সিনেমা, খেলা
এসবের তার্কিক উপস্থাপনা থেকে ঢুকে যাও
বলিউড গান, বলিউড নাচে।
বরিষ্ঠ কালচুরা বিচ্যুত হওয়া শৈলীর নিক্কণ থেকে তোমাকে দেখে
অবাধ্য যুবক, কিছুই মানোনি
যৌন কর্মীর হাত থেকে খেয়েছ, দই শসা
ভিখিরির সঙ্গে ভাগ করে খেয়েছ মদ ও সময়
প্রতিটি মৃত্যু নিয়ে ছিল তোমার অনন্ত ছ্যাবলামো,
তোমার মৃত্যুও আজ ছ্যাবলামোরই অংশ। মানেনি কেউ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *