দুর্নীতি করলেই ইন্দ্রনীল সেনের মতো পরিণতি, তীব্র হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর
রায়গঞ্জ, ২৯ অক্টোবর- প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারির পরেরদিনেই সেই প্রসঙ্গ টেনে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গের রায়গঞ্জের সভা থেকে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, এই ধরনের দুর্নীতির সঙ্গে যারা জড়িয়ে পড়েছেন তাদের অবস্থা ইন্দ্রনীল সেনের মতোই হবে। বুধবার ইডি দপ্তরে ইন্দ্রনীলকে চার ঘণ্টা জেরা করা হয়। তারপর তিনি বাইরে বেরতেই পুজো পাস কান্ডে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারপরে প্রাক্তন মন্ত্রীকে প্রাতিষ্ঠানিক চোর বলে কটাক্ষ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আর এদিন সেই ঘটনা টেনেই এবার হুঁশিয়ারির সুর মুখ্যমন্ত্রীর গলায়।
শুধু ইন্দ্রনীলকে নিশানা নয়, এদিন চোপড়ার তৃণমূল বিধায়ক হামিদুল রহমানের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। দিন দুয়েক আগেই ঋত শিবিরে থাকা এই নেতা মমতা শিবিরে ফিরে আসার ইচ্ছেপ্রকাশ করেন। এবার সেই হামিদুলের বিরুদ্ধে থাকা সব পুরনো মামলার ফাইল খোলার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তার অভিযোগ, বাম ও তৃণমূল আমলে আদিবাসী ও সনাতনীদের জমি দখল হয়েছে। পুলিশকে সেই সব জমি উদ্ধার করার নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি চোপড়ার বিধায়ককে ‘মাফিয়া’, ‘গুন্ডা’ বলেও তোপ দাগেন শুভেন্দু।
বৃহস্পতিবার রায়গঞ্জের জনসভা থেকে শুভেন্দু জানান, ৩৪ বছরের বাম শাসনকাল ও ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনকালে সনাতনী ও আদিবাসীদের জমি দখল করা হয়েছে। সেই সব জমি উদ্ধার করা হবে। সরকারি জায়গায় অবৈধ নির্মাণ করে থাকলে ‘ভেঙে পরিষ্কার’ করে দেওয়ার দায়িত্ব নেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও চোপড়া, ইসলামপুর, গোয়ালপোখর, চাকুলিয়ায় দখল হওয়া চা বাগানের জমিও উদ্ধার করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশকে জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ডেডলাইন বেঁধে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এসপি ইসলামপুর, ডিআইজি, আইজিকে বলে গেলাম। চোপড়ার মাফিয়া, গুন্ডা বিধায়কের বিরুদ্ধে সব পুরনো মামলার ফাইল খুলবেন। দখল করা সব জমি উদ্ধার করবেন। পরের মিটিং চোপড়া, ইসলামপুরে করব। কত বড় মস্তান আছে দেখব, বালি চোর আছে দেখব! ২০২১ সালের নির্বাচনের পরে ও পঞ্চায়েত ভোটে যারা অত্যাচার করেছে তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে এফআইআর করবেন। চোর ইন্দ্রনীলের মতো জেলে ঢোকাব। দেখতে চাই কত বড় মস্তান এই জেলায় আছে।”