বাংলার স্কুলগুলিতে চালু হবে ‘সিএম শ্রী’ প্রকল্প, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
কলকাতা, ৫ সেপ্টেম্বর- শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠান থেকে এবার বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার নিউ টাউনের কনভেনশন সেন্টারে ‘বিদ্যাসাগর শিক্ষাসম্মান’ প্রদান অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘পিএম শ্রী’ প্রকল্পের আদলে রাজ্যের স্কুলগুলির জন্য চালু হবে ‘সিএম শ্রী’ প্রকল্প। এরই পাশাপাশি তিনি জানান, উত্তরবঙ্গ এবং পশ্চিমাঞ্চলের জন্য ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ইন স্পোর্টস্’ গড়ে তোলা হবে।
নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী শ্রী তৈরি হবে। জহর নবোদয় বিধ্যালয়ের মতো এগুলিয়ে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি করা হবে। এগুলোকে একটি মডেল স্কুলেও পরিণত করা হবে।” তিনি আরও বলেন, “সেরা মানের শিক্ষক, আধুনিক ডিজিটাল ল্যাব, স্মার্ট বোর্ড ইত্যাদি থাকবে। সেন্ট্রাল স্কুলের মতোই প্রতিটি জেলায় আপাতত দুটি করে তৈরি করব।’ তৃণমূল আমলে রাজ্যের স্কুলশিক্ষা ভেঙে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চাকরি দুর্নীতি থেকে পরিকাঠামো, স্কুলের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে তৃণমূল সরকারের সময়ে। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ‘ভেঙে পড়া’ শিক্ষা ব্যবস্থাকে ফের নতুন রূপে চাঙা করতে বদ্ধপরিকর। জাতীয় শিক্ষা নীতির আওতায় ইতিমধ্যেই নিয়ে আসা হয়েছে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে।
মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, গত কয়েক বছরে পড়ুয়ারা খানিক পিছিয়ে পড়েছে। সেখান থেকে তাদের নতুন করে উৎকর্ষের স্থানে পৌঁছে দিতে গেলে দায়িত্ব নিতে হবে শিক্ষকদেরই। এ জন্য সরকার বিশেষ ভাবে সচেষ্ট হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘পিএম শ্রী’-র আদলেই এ রাজ্যে চালু হবে ‘সিএম শ্রী’। প্রতিটি জেলায় দু’টি করে স্কুল এই প্রকল্পের আওতায় বিশেষ সুবিধা পাবে। সে ক্ষেত্রে ওই স্কুলগুলিতে উন্নতমানের পাঠপদ্ধতি গ্রহণ করা হবে। সরকারি উদ্যোগে তৈরি হবে স্মার্ট ক্লাসঘর, ডিজিটাল গবেষণাগার। একই সঙ্গে ওই সব স্কুলে যাতে সেরা মানের শিক্ষক নিয়োগ করা যায়, সে দিকেও লক্ষ রাখা হবে। রাজ্যে শিক্ষকের অনেক পদ খালি রয়েছে। সেইসব পদে নিয়োগ কবে হবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষক নিয়োগ করে দেব, নিশ্চিন্তে থাকুন।’
বিগত সরকার বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের ট্যাব দেওয়ার যে পদক্ষেপ নিয়েছিল তার সমালোচনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি। উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পড়ুয়াদের হাতে সবসময় মোবাইল থাকছে। রাতে বাবা-মা ঘুমিয়ে পড়লে তারা মোবাইল নিয়ে বসে পড়ছে। গুজরাটে গিয়ে দেখে আসুন, প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সেখানে মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে পড়ুয়াদের হাতে ট্যাব তুলে দেওয়া ঠিক নয়। বরং তাদের হাতে বাদ্যযন্ত্র তুলে দেওয়া অনেক ভাল।’ শিক্ষকদের মহার্ঘভাতা (ডিএ) সংক্রান্ত মামলা এখনও আদালতে বিচারাধীন। মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, ওই বিষয়ে ইন্দু মলহোত্র কমিটির নির্দেশ মেনেই পদক্ষেপ করবে রাজ্য সরকার। এককালীন অর্থ দেওয়া সম্ভব না হলেও পর্যায়ক্রমে মহার্ঘভাতা মিটিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি, স্বচ্ছ এবং ‘পরিশুদ্ধ’ শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভাষণ নয়, কাজে করে দেখাব।’