বিজেপি বাংলায় বিকাশের নতুন যুগ নিয়ে আসবে, প্রতিশ্রুতি মোদির
যাদবপুরে মোদি।
যাদবপুর, ২৪ এপ্রিল- বাংলায় বিজেপির সরকার এলে গোটা দেশের মধ্যে ফের বাংলা এক নম্বরে উঠে আসবে, শুক্রবার যাদবপুরে নির্বাচনী সভা থেকে এই বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তৃণমূলকে নারীবিরোধী দল বলেও তীব্র কটাক্ষ করলেন তিনি। হুঙ্কারের সুরে জানালেন, তৃণমূলের যে গুন্ডারা মেয়েদের ওপর অত্যাচার করেছে তাদের আইন সাজা দেবে। তারা যাতে সাজা পায় তা নিশ্চিত করবে বিজেপির সরকার।
শুক্রবার সকালে প্রথম উত্তর চব্বিশ পরগনার পানিহাটীতে সভা করেন মোদি। এই পানিহাটী কেন্দ্রে আর জি কর কান্ডের নির্যাতিতার মাকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। আর সেই সভা থেকে আরজি করে ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনার কথা উল্লেখ করে ফের তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। নির্যাতিতার মায়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই মা মেয়েকে ডাক্তার বানিয়েছিলেন। তৃণমূলের জঙ্গলরাজ সেই মেয়েকে ছিনিয়ে নিয়েছে। আমরা তাঁর মাকে প্রার্থী করেছি।’ তারপরেই মোদির আশ্বাস, ‘বাংলার নারীশক্তি নতুন কাহিনি লিখতে চলেছে। তৃণমূল মহিলাদের উপর অনেক অত্যাচার করেছে। চার তারিখের পর সব অত্যাচারের হিসাব হবে।’ আবার যাদবপুরের সভা মোদি বলেছেন, ‘নারীরা শক্তিশালী হবে সমাজ শক্তিশালী হবে। আমরা চাই বাংলার মা-বোনেরা আত্মনির্ভর হোন। কিন্তু আপনারা দেখেছেন সংসদে তৃণমূল ও তাদের সঙ্গীরা মহিলা বিলের বিরোধিতা করল। মহিলাদের ক্ষমতায়ণ চায় বিজেপি, কিন্তু তৃণমল তার বিরোধিতা করেছে। বাংলায় বিজেপির সরকার এলে মহিলাদের এগিয়ে দিতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তৃণমূলের আমলে যে গুন্ডারা ধর্ষণের মতো জঘন্য কাজ করেছে আইন তাদের সাজা দেবে, আর তারা সাজা যাতে পায় তা আমরা নিশ্চিত করবে। বিজেপির জমানায় কোনও গুন্ডা সুরক্ষিত থাকবে না, সবার হিসেব হবে। এটা মোদির গ্যারান্টি।’ বাংলায় বিজেপির সরকার এলে মহিলাদের তিন হাজার টাকা করে মাসিক ভাতা দেওয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুপ্রবেশ ইস্যুতে আজ ফের তৃণমূলকে আক্রমণ করেছেন মোদি। তার মন্তব্য, ‘গত পনেরো বছরে তৃণমূলের সরকার বাংলার পরিচয়কে বদলে দিচ্ছে। অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে এসে বসানো হচ্ছে। বাংলার জমির ওপর কব্জা করছে। এখানকার মানুষের রোজগার কেড়ে নিচ্ছে। বাংলার যুবকদের রোজগারের জন্য অন্য রাজ্যে যেতে হচ্ছে। এর সমাধান তখনই হবে যখন তৃণমূল পুরোপুরি যাবে এবং বিজেপি পূর্ণশক্তি নিয়ে ক্ষমতায় আসবে।’ মোদি বলেন, ‘বাংলায় বালি, ইট, সিমেন্টের সিন্ডিকেট তৈরি করেছে টিএমসি। যাদবপুরে জমি চুরি হচ্ছে। নিজের জমির ঘর করতে হলেও সিন্ডিকেটের লোকেদের টাকা দিতে হচ্ছে। এই নির্মম সরকারের জন্যই আজ এমন হচ্ছে। এই পরিস্থিতির বদল করতে হবে।’
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে মোদির বক্তৃতায়। তার মন্তব্য, ‘যাদবপুরের ক্যাম্পাসের ভিতরে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। দেওয়ালে দেশবিরোধী কথাবার্তা লেখা হচ্ছে। ছাত্রদের মিছিলে হাঁটতে বাধ্য করা হচ্ছে। পড়াশোনা হচ্ছে না। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে বাঁচাতে চাই। যে সরকার নিজের রাজ্যের সবচেয়ে বড় শিক্ষাকেন্দ্র বাঁচাতে পারে না, তারা রাজ্যকে কী বাঁচাবে?’ বাংলায় পিছিয়ে পড়া অংশের মানুষের জন্য তৃণমূল কিছুই করেনি বলে দাবি করেছেন মোদি। তিনি বলেন, ‘পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের জন্য তৃণমূল কিছুই করেনি। আমরা আপনাদের সেবা করব। ‘উজ্জ্বলা যোজনা’য় এই জেলায় আমরা ১১ লক্ষ গ্যাস দিয়েছি। ৩ লক্ষ গ্যাস তফসিলি জাতি, উপজাতি পেয়েছে। আরও অনেক সহায়তা করা হয়েছে। এই সম্প্রদায়ের জন্য কেন্দ্র অনেক প্রকল্প চালাচ্ছে। কিন্তু তৃণমূল নিজেও দলিতবিরোধী। কেন্দ্রের প্রকল্পেও বাধা দিচ্ছে।’
জনতার কাছে আশীর্বাদরূপী ভোট চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘নেতাজি বলেছিলেন, তোমরা আমাকে রক্ত তোমায়, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব। আমি বলছি, আপনারা আমাদের ভোটরূপী আশীর্বাদ দিন। কথা দিচ্ছি, তৃণমূলের মহাজঙ্গলরাজ থেকে মুক্তি দেব। ভারতের সংবিধান আপনাদের যে ভোটাধিকার দিয়েছে, তা-ই বিপ্লব আনতে সাহায্য করবে। আপনাদের সকলের কাছে তাই আমার বিনম্র আবেদন, বিজেপিকে জেতান। আপনারা আমাদের আশীর্বাদ করুন, আমরা আপনাদের স্বাধীনতা দেব। তৃণমূলের দুর্নীতি, সিন্ডিকেট, নারীদের উপর অত্যাচার, বেকারত্ব থেকে স্বাধীনতা দেব।’ আত্মবিশ্বাসের সুরে মোদি বলেন, ‘৪ মে-র পর বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে। এই রাজ্যের দুর্দশাও দূর হয়ে যাবে। সকলে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সুবিধা পাবেন। পিএম, সিএম একসাথে, উন্নয়ন হবে দিনেরাতে।’