সোমবার | ২৭ এপ্রিল ২০২৬

বাংলার সেবা আমার ভাগ্যে লেখা রয়েছে, শেষলগ্নে বঙ্গবাসীকে বার্তা মোদির

 বাংলার সেবা আমার ভাগ্যে লেখা রয়েছে, শেষলগ্নে বঙ্গবাসীকে বার্তা মোদির

প্রচারের শেষলগ্নে ভাটপাড়ায় মোদি

ভাটপাড়া, ২৫ এপ্রিল- অঙ্গ আর কলিঙ্গে আগেই পদ্ম ফুটেছে, এবার বঙ্গেও পদ্ম ফুটতে চলেছে বলে প্রচারের শেষলগ্নে আত্মবিশ্বাসের সুর শোনা গেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বক্তৃতায়। বাংলায় এতগুলো রোড শো-এ অংশ নেওয়া তার কাছে তীর্থযাত্রার মতো পবিত্র বলেও মন্তব্য করলেন তিনি। ৪ মে-র পরে বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেও তিনি আসবেন বলে বার্তা দিলেন।

            সোমবার উত্তর চব্বিশ পরগনার ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের ভাটপাড়ায় জনসভা করেন প্রধানমন্ত্রী। আর প্রচারের শেষলগ্নে যেন আবেগঘন বক্তৃতা দেন মোদি। তীব্র দাবদাহের মধ্যেও বাংলায় ঘন ঘন প্রচার করতে তার কোনও ক্লান্তি আসেনি বলেই মন্তব্য করেন তিনি। তার কথায়, ‘বাংলায় এবার অন্যরকম হাওয়া। এতদিন ধরে এত গরমে প্রচার করছি, এত ভিড়, তবু কোনও ক্লান্তি নেই। কেন জানেন? এখানকার মানুষের এত স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া। সবার মনোভাব বলে দিচ্ছে, এবার বাংলায় পরিবর্তন হচ্ছেই, বিজেপি সরকার তৈরি হচ্ছেই। এত রোড শো করছি, আমার কাছে এটা তীর্থযাত্রার মতো পবিত্র।’ আবেগপ্রবণ হয়ে মোদি বলেন, ‘বাংলার সেবা করা, সুরক্ষিত করা, বড় চ্যালেঞ্জ থেকে তাকে রক্ষা করা আমার ভাগ্যে লেখা রয়েছে। আমার দায়িত্বও। এই দায়িত্ব থেকে পিছু হঠব না। বাংলার এই ভোট, গোটা পূর্ব ভারতের ভাগ্য বদলানোর ভোট। যখন ভারত সমৃদ্ধ ছিল অতীতে, তখন তিনটি মজবুত স্তম্ভ ছিল— অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ অর্থাৎ বিহার, বাংলা, ওড়িশা। এই তিন স্তম্ভ দুর্বল যখন হয়, গোটা ভারতে ঝটকা লেগেছে।’

            প্রচারে এসে বাংলার মানুষের কাছ থেকে তিনি ভালবাসা পেয়েছে তা তার ‘জীবনের পুঁজি’ বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বাংলার রোড শো, সভায় আমাকে আপন করে নেওয়ার বার্তা পেয়েছি। ছবি পেয়েছি। যত রাত হোক, রাতে গিয়ে সেই ছবি দেখি। ছবির পিছনে ছোট শিল্পীদের ভাব বোঝার চেষ্টা করি। চিঠি পড়ি। কোথাও কষ্ট দেখতে পাই, কোথাও আশা। আমি জবাব দিই। বাংলার জনতা জনার্দনের এই অসীম প্রেম আমার সৌভাগ্য। সকলের চোখে স্নেহ দেখি। এটাই আমার জীবনের পুঁজি। ওঁরা আমায় দেখে কেঁদে ফেললে ভাবনা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না। রোড শো, সভা থেকে ফিরে গিয়ে কানে বাজে আপনাদের কথা।’ এখানেই থামেননি মোদি। তার কথায়, ‘মা কালীর ভক্তদের মাঝে গিয়েছি। তাঁরা ভালবাসেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে অযোধ্যায় রামলালার প্রাণপ্রতিষ্ঠা হয়,তাক আগে ১১ দিন বিভিন্ন পুজো, আচার করেছি। দক্ষিণ ভারতের মন্দিরে গিয়েছি। এই ভোটেও তা-ই হচ্ছে। এর নেপথ্যে রয়েছে বাংলার জন্য আমার ভালবাসা। আমার আধ্যাত্মিক মননের কেন্দ্র হল বাংলা। ঈশ্বররূপী জনতার প্রেম ছিল।’ পরিবর্তনের ডাক দিয়ে মোদি বলেছেন, ‘১৮৫৭ সালে এই ব্যারাকপুরে স্বাধীনতার প্রথম লড়াইকে শক্তি জুগিয়েছিল। আজ এই ভূমি বাংলায় পরিবর্তনের পথ প্রশস্ত করছে। একটাই ধ্বনি, পাল্টানো দরকার।’

            পূর্বোদয় যে প্রধান লক্ষ্য সেই কথা মনে করিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আজ বিকশিত ভারতে এই তিন স্তম্ভ জরুরি। ভারতের ভাগ্যোদয় পূর্বোদয় ছাড়া সম্ভব নয়। ভারতের ভাগ্যোদয় এবং পূর্বোদয় পরস্পরের পরিপূরক। ২০১৩ সাল থেকে, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে থেকে বলছি, পূর্ব ভারত যখন এগোবে, তখন দেশ এগোবে। অঙ্গ, কলিঙ্গে কমল ফুটেছে। এখন বাংলার পালা। এ বার যা দেখলাম, পূর্বোদয় হবেই। অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গের নারীশক্তি ভরসা করে বিজেপি-তে। বাংলা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে সাংসদ করেছিল। তার প্রেরণা বিজেপির সঙ্কল্প হয়। জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা রদ করে তাঁর একটি সঙ্কল্প পূরণ করেছি। আরও একটি সঙ্কল্প রয়েছে শ্যামাপ্রসাদের— বাংলার সমৃদ্ধি এবং শরণার্থীদের সমস্যার সমাধান।’ তৃণমূলের প্রতি কটাক্ষের সুরও শোনা গিয়েছে মোদির গলায়। তিনি বলেন, ‘প্রচারের সময় বাংলার বিকাশ নিয়ে বিজেপির পরিকল্পনা তুলে ধরেছি। তৃণমূলের নেতারা একবারও মা-মাটি-মানুষের নাম নেয়নি এই ভোটে। যে মন্ত্র নিয়ে তারা বাংলায় সরকার গড়েছিল, তা ওরা ভুলে গিয়েছে। ১৫ বছর ওদের সুযোগ দিয়েছেন, মায়ের জন্য, নারী সুরক্ষার জন্য কিছু করেনি। মাটি, কৃষক, যুবক, মানুষের জন্য কিছু করেনি। কিছু বলার নেই বলে একটাই ফর্মুলা নিয়েছে, গালি দাও, হুমকি দাও, মিথ্যা বলো। মোদীকে, সেনাকে গালি দিয়েছে। বাংলার লোকজনকে হুমকি দিয়েছে।’

            বাংলায় পরিবর্তন কেন জরুরি তার ব্যখ্যা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রচারের সময় বাংলার বিকাশ নিয়ে বিজেপির পরিকল্পনা তুলে ধরেছি। তৃণমূলের নেতারা একবারও মা-মাটি-মানুষের নাম নেয়নি এই ভোটে। যে মন্ত্র নিয়ে তারা বাংলায় সরকার গড়েছিল, তা ওরা ভুলে গিয়েছে। ১৫ বছর ওদের সুযোগ দিয়েছেন, মায়ের জন্য, নারী সুরক্ষার জন্য কিছু করেনি। মাটি, কৃষক, যুবক, মানুষের জন্য কিছু করেনি। কিছু বলার নেই বলে একটাই ফর্মুলা নিয়েছে, গালি দাও, হুমকি দাও, মিথ্যা বলো। মোদীকে, সেনাকে গালি দিয়েছে। বাংলার লোকজনকে হুমকি দিয়েছে।’ তৃণমূলের আমলে বাংলায় জঙ্গলরাজ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মোদি। তার মন্তব্য, ‘আপনাদের রোজগার বন্ধ হচ্ছে। গুন্ডাদের রোজগারের জায়গা, বোমার কারখানা ফুলেফেঁপে উঠছে। তৃণমূলের সিন্ডিকেটের দোকান বাড়ছে। এটাই ওদের জঙ্গলরাজ। নিজের বাড়ি, দোকান নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে ওদের সিন্ডিকেটকে জিজ্ঞেস করতে হয়। তৃণমূলের সিন্ডিকেটকে ভাগাতে হবে, ওদের হারাতে হবে। তৃণমূলকে সরাবেন তো? আজ ভারতের জন্য গোটা দুনিয়া উৎসাহিত। আমি আশ্বাস দিচ্ছি, কলকাতা এবং আশপাশের এসব এলাকা মেক ইন্ডিয়ার বড় হাব হবে। বিজেপি সরকার কারখানা নিয়ে সব সমস্যার সমাধান করবে। পরিকল্পনা করব। বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী করুন। পিএম, সিএম এক সঙ্গে উন্নয়ন করবে। পিএম স্বনিধি যোজন, ফুটপাথে যারা কাজ করেন, তারাও ব্যাঙ্ক থেকে সাহায্য পাবেন। এগুলো মোদীর গ্যারান্টি। এখানে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী করুন, ডাবল ইঞ্জিনের লাভ পাবেন।’ বাংলায় বিজেপি এলে নতুন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মোদি। মহিলাদের উদ্দেশ্যে মোদি বলেন, ‘এই মাটি রানি রাসমণির সাহসের গাঁথায় সমৃদ্ধ। সেখানকার মেয়েদের ভয় দেখাচ্ছে তৃণমূল। এই রাজ্যকে অসুরক্ষিত করেছে মহিলাদের জন্য। ভোট দিতে যাওয়ার সময়ে গুন্ডাদের কথা মনে করবেন।’ বাংলায় বিজেপির সরকার এলে সেই সরকারের নতুন মন্ত্র কী হবে তাও উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বাংলায় যে বিজেপি সরকার আসছে, তারা শ্যামাপ্রসাদের সঙ্কল্প পূরণ করবে। ভারতের প্রগতি, সংস্কৃতি, স্বাধীনতায় বাংলার সন্তানদের ভূমিকা ছিল বড়। কিছু দূরে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি। বন্দে মাতরমের দেড়শো বছর পূর্তিতে বাংলাও ঐতিহাসিক পরিবর্তন করতে চলেছে। বন্দে মাতরম দাসত্ব থেকে মুক্তির মন্ত্র ছিল। এ বার বাংলার নব নির্মাণের মন্ত্র তৈরি করতে হবে। সুজলং, সুফলংকে নীতি করব, শস্য শ্যামলং -কে রোজগারের পথ করব। মলয়জ শীতলং-কে সুখ সমৃদ্ধির পথ করব। দুর্গার শক্তিকে সুরক্ষার গ্যারান্টি করব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *