বৃহস্পতিবার | ২৩ এপ্রিল ২০২৬

প্রথম হিংসামুক্ত ভোট দেখছে বাংলা, দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী

 প্রথম হিংসামুক্ত ভোট দেখছে বাংলা, দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী

কৃষ্ণনগরের সভায় মোদি

কৃষ্ণনগর ও মথুরাপুর, ২৩ এপ্রিল – বাংলায় ভোট প্রচারে এসে ফের পরিবর্তনের ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার নদিয়ার কৃষ্ণনগর এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার মথুরাপুরে সভা করার পাশাপাশি হাওড়ায় একটি রোড শো করেন প্রধানমন্ত্রী। কৃষ্ণনগরের সভা থেকে তার বার্তা, ডবল ইঞ্জিন সরকার বাংলায় ডবল গতিতে উন্নয়ন করবে। প্রথম দফার ভোটগ্রহণের দিনে বাংলায় এসে তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূয়সী প্রশংসা করলেন। দাবি করলেন, বিগত ৫০ বছরে এমন একটি নির্বাচন হচ্ছে যেখানে হিংসার ঘটনা সবচেয়ে কম।

            কৃষ্ণনগরের সভা থেকে কমিশনের প্রশংসা করে মোদি বলেন, ‘আমি যত দিন রাজনীতিতে এসেছি, বলতে পারি গত ৫০ বছরে প্রথম এমন নির্বাচন হচ্ছে বাংলায়, যেখানে সবচেয়ে কম হিংসার ঘটনা ঘটছে। আগে তো লোককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে বলত আত্মহত্যা করেছে। আমি নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজ পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোট চলছে। আমি  সকলকে ভোটারকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। সকলে গণতন্ত্রের উৎসব পালন করতে হবে। রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করছেন। তাদের সকলকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।’ ভোটদানের হার সব রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী।

            ঝাড়গ্রামে প্রধানমন্ত্রীর ঝালমুড়ি খাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে তাকে দলীয় সভা থেকে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ তার পাল্টা জবাবে কটাক্ষের সুরে প্রধানমন্ত্রী বলেন,  ‘আমি শুনেছি, ঝালমুড়ি কিছু লোককে জোর ধাক্কা দিয়েছে। ঝালমুড়ি আমি খেয়েছি, ঝাল লেগেছে তৃণমূলের।’ ছাব্বিশের ভোটে জয়ের ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসী সুর শোনা গিয়েছে তার গলায়। মোদির মন্তব্য, ‘১৫ বছর পর সংস্কৃতির ভূমিতে আজ পরিবর্তনের ঝড় দেখতে পাচ্ছি। বাংলা থেকে ভয় পালাচ্ছে, ভরসা দৃঢ় হচ্ছে। আমি সব জায়গা দেখতে পাচ্ছি, সকলেই বলছেন পাল্টানো দরকার। ৪ মে বাংলাতে পদ্ম ফুটবে। মিষ্টি বিলি, ঝালমুড়ি বিলি হবে। ডবল ইঞ্জিন সরকার এলে ডবল সক্রিয়তায় বাংলার বিকাশ করবে।’  

            কৃষ্ণনগরে দাঁড়িয়ে মতুয়া আবেগ ছুঁতেও মরিয়া চেষ্টা করেন মোদি। তিনি বলেন, ‘মতুয়াদের তৃণমূলের ভয় পাওয়ার প্রয়োজন নেই। আপনাদের কেউ হাত লাগাতে পারবে না।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৫ বছর আগে বামেদের বিরুদ্ধে জনতা কেবল ফুঁ দিয়েছিল। কিন্তু এ বার তৃণমূলের জঙ্গলরাজের বিরুদ্ধে জনতা শঙ্খে ফুঁ দিচ্ছে। আমরা ভোটে লড়ছি না। এ বারের ভোট জনতা লড়ছে। সরকারি কর্মচারীরা ভয় থেকে বেরিয়ে এসে ভোট দিচ্ছেন। চিকিৎসকেরা ভাল ব্যবস্থার জন্য ভোট দিচ্ছেন। আইনজীবীরা ভোট দিচ্ছেন ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য। শিক্ষক ভয়মুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য ভোট দিচ্ছেন। জনতার সেবা করার জন্য ভোট দিচ্ছে পুলিশ।’

মথুরাপুরের সভা থেকে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে মোদি বলেন, ‘এই রাজ্যে অনুপ্রবেশকারীদের মদত দেওয়া হচ্ছে। আপনারা চান, বাইরের লোক এসে আপনাদের অধিকারে ভাগ বসাক? আর সেই জন্যেই বলছি, বিজেপির প্রার্থীদের জয়ী করুন। আমরা বাংলা থেকে এই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বের করব।’ আজও হুঁশিয়ারির সুরে মোদি বলেন, ‘অত্যাচারী, দুর্নীতিবাজদের কোনও জায়গা হবে না পশ্চিমবঙ্গে। কেউ ছাড় পাবে না। বিচার করবে আইন। লুটের টাকা সকলে ফেরত পাবেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *