মঙ্গলবার | ১৩ অক্টোবর ২০২৬

বারাসতের কালীপুজোকে স্বীকৃতি দিতে ইউনেস্কোর দ্বারস্থ বাংলার সরকার

 বারাসতের কালীপুজোকে স্বীকৃতি দিতে ইউনেস্কোর দ্বারস্থ বাংলার সরকার

কলকাতা: আলোয় আলোয় রাতের শহর। মণ্ডপের সামনে মানুষের ঢেউ। কোথাও প্রতিমার বিশালত্ব, কোথাও শিল্পের অভিনবত্ব, কোথাও আবার আলোর কারুকাজে চোখ আটকে যায় দর্শনার্থীদের।
কালীপুজোর কয়েকটা দিন পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসত যেন নিজের চেনা চেহারা ভুলে যায়। বিকাল নামলেই রাস্তায় রাস্তায় জনস্রোত। রাত যত বাড়ে, মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড়ও তত জমাট বাঁধে। পরিস্থিতি সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে পুলিশ। এই টান শুধু আশপাশের এলাকার মানুষের নয়, বারাসতের কালীপুজোর আকর্ষণে ভিনরাজ্য থেকে যেমন দর্শনার্থীরা আসেন, তেমনই উৎসবের টানে দেশে ফেরেন বিদেশে কর্মরত বহু বাঙালিও।
বারাসতের কালীপুজো মানেই একের পর এক বড়ো বাজেটের আয়োজন। কে কাকে টেক্কা দেবে, সেই অঘোষিত প্রতিযোগিতায় প্রতি বছরই নতুন চমক হাজির করেন উদ্যোক্তারা। প্রতিমার গড়ন, মণ্ডপের পরিকল্পনা, আলোর বর্ণময় উপস্থাপনা—সব মিলিয়ে উৎসবের নিজস্ব এক স্বাদ তৈরি হয়েছে এই শহরে। সেই পরিচিতিকে এবার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মঞ্চে তুলে ধরার দাবি উঠেছে।
বিজেপি নেতা রাজা সাহানির বক্তব্য, বারাসতের কালীপুজোর ব্যাপ্তি ও জনপ্রিয়তা শুধু স্থানীয় গণ্ডিতে আটকে নেই। উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মানুষের আবেগ, শিল্পচর্চা এবং বিপুল জনসমাগম। তাই কালীপুজোকে ইউনেস্কোর স্বীকৃতির প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দা তথা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সুমন চক্রবর্তীর কথায়, বারাসতের কালীপুজো শহরের গর্ব। প্রতিবছর যেভাবে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ পুজো দেখতে আসেন, তাতে এই উৎসবের জনপ্রিয়তা স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিললে বারাসতের কালীপুজো আরও বৃহত্তর পরিচিতি পেতে পারে।
দুর্গাপুজোর সেই ব্যস্ততার মধ্যেই বারাসতের কালীপুজোকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন করে ভাবনাচিন্তা। আলোয় শহর মাতানোর পরিচিতি তো রয়েছেই। এবার সেই আলোর উৎসবের কপালে কি জুটবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির তিলক? বিজেপির দাবি ঘিরে সেই প্রশ্নই এখন ঘুরছে বারাসতের অলিগলিতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *