ফলতায় পুলিশ পর্যবেক্ষকের গাড়ি ঘিরে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান
সিংঘম বনাম পুষ্পা
কলকাতা, ২৮ এপ্রিল – দ্বিতীয় দফার ভোটের আগের দিন দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ফলতার রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠল। সোমবার ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানের বাড়িতে পৌঁছে যান পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মা। তাকে বাড়িতে না পাওয়ার পরে জাহাঙ্গিরকে হুঁশিয়ারি দিয়ে যান এই পুলিশ পর্যবেক্ষক। আর মঙ্গলবার ফের জাহাঙ্গিরের এলাকায় গেলে সেই পুলিশ পর্যবেক্ষককে গো ব্যাক স্লোগান শুনতে হল। রাস্তায় দাঁড়িয়ে সেই জাহাঙ্গিরকেই বলতে শোনা গিয়েছে, ‘ফলতার মাটি তৃণমূলের মাটি, এখানে চমকানো যাবে না।’
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার। জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে কিছু মানুষকে ভয় দেখানোর অভিযোগে তার বাড়িতে পৌঁছে যান অজয় পাল শর্মা। নির্বাচনের কারণে উত্তরপ্রদেশ থেকে আইপিস এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট অজয়কে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার পুলিশ পর্যবেক্ষক করে আনা হয়েছে। তিনি উত্তরপ্রদেশে ‘দবং’ পুলিশ আধিকারিক বলে পরিচিত। সোমবার জাহাঙ্গিরের বাড়িতে গিয়ে তাকে না পাওয়ার পরে সরাসরি তার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে অজয়কে বলতে শোনা যায়, ‘আপনারা জানেন না তো জাহাঙ্গির কোথায় রয়েছে? পরে কিন্তু কান্নাকাটি করবেন না, পস্তাতে হবে, এটা বলে গেলাম।’ পুলিশ পর্যবেক্ষকের সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায়। আর তা নিয়েই শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর।
এদিন যোগীরাজ্যের এই পুলিশ আধিকারিক আবার পৌঁছে যান জাহাঙ্গিরের পার্টি অফিসের সামনে। আর সেখানেই তার গাড়ি ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তৃণমূলের কর্মীরা। স্থানীয় বেশ কিছু মানুষও জড়ো হন। পুলিশ আধিকারিকের সামনেই ওঠে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, এমন তাকে ঘিরে ধরে গো ব্যাক স্লোগান শুনতে হয়। উত্তরপ্রদেশের এই ‘দবং’ পুলিশ অফিসারকে বিশেষ একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল। পাল্টা এদিন হুমকির সুরে জাহাঙ্গির বলেন, ‘শুনলাম এই অজয় পাল শর্মা নাকি উত্তরপ্রদেশের এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট। কিন্তু বাংলায় এসব করা চলবে না। উনি ওখানে সিংঘম বা দবং পুলিশ অফিসার হলে আমিও পুষ্পা। ওর কাছে আমরা মাথা নত করব না। পুষ্পা, ঝুকেগা নেহি।’ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘আজ তৃণমূলের কারণেই রাজ্যে এই দুষ্কৃতীদের বাড়বাড়ন্ত।’
অন্যদিকে, এই চাপানউতোরের মধ্যেই এই আইপিএস অফিসারকে খোঁচা দিয়ে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। ওই ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, চটুল হিন্দি গানে নাচছেন স্বল্পবসনা নর্তকীরা। কয়েক জন যুবকের মনোরঞ্জন করছেন তারা (এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি দৈনিক সংবাদ অনলাইন)। নর্তকীদের সঙ্গে দৃশ্যমান যুবকটি আদিত্যনাথের রাজ্যের ‘এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট’ বলে দাবি করেছেন মহুয়া। এক্স হ্যান্ডলে আইপিএস অফিসারকে উদ্ধৃত (মেনশন) করে তিনি লিখেছেন, ‘ফেয়ার অ্যান্ড লাভলি বাবুয়া— ফ্যান্টাকপ স্টাইলে তোমাকে আনন্দ করতে দেখে ভাল লাগছে। থাকো ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল, বাংলা সর্বক্ষণ তৃণমূল।’ কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদের খোঁচা, ‘আশা করি, আপনার পুলিশি দক্ষতা আপনার নাচের দক্ষতার চেয়ে ভাল…।’
আবার দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার এই পুলিশ পর্যবেক্ষক অযথা ভোটার ও প্রার্থীকে হুমকি দিচ্ছেন এই অভিযোগ তুলে অজয় পাল শর্মার বিরুদ্ধে আজ হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু সেই মামলা খারিজ করে দিল আদালত। জানিয়ে দেওয়া হল, ভোটের দায়িত্ব পাওয়া পুলিশ অফিসারদের নিয়ে মামলায় ২৯ তারিখ পর্যন্ত কোনও হস্তক্ষেপ করা হবে না। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে মামলাকারী এক আইনজীবী সওয়াল করে জানান, ‘‘অজয় পাল শর্মাকে আটকান। তিনি ভোটার ও প্রার্থীকে হুমকি দিচ্ছেন।” কিন্তু মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়ায় শুনানি হয়নি। তবে মৌখিকভাবে শুনে বিচারপতি জানিয়ে দেন, ২৯ এপ্রিল অর্থাৎ শেষ দফা ভোট পর্যন্ত যারা নির্বাচনের দায়িত্বে আছেন, তাদের কারও কাজে হস্তক্ষেপ করবেন না।