মঙ্গলবার | ২৮ এপ্রিল ২০২৬

দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে দিকে দিকে তৎপরতা কমিশনের

 দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে দিকে দিকে তৎপরতা কমিশনের

কলকাতা, ২৮ এপ্রিল- রাত পোহালেই দ্বিতীয় দফার ভোট। আর সেই ভোটে এবার বেনজির পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি এনআইএ-কেও বেশ কিছু জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটে কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনাকে বাদ দিলে ভোটপর্ব নির্বিঘ্নেই মিটেছে। এবার দ্বিতীয় দফার ভোটও নির্বিঘ্নে করানো কমিশনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

            দ্বিতীয় দফায় সাত জেলার মোট ১৪২ টি আসনে ভোটগ্রহণ হতে চলেছে। এই ভোটগ্রহণকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষ্যে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সবমিলিয়ে এই দফায় দুই লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর তরফে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি নজরদারি কেন্দ্র খোলা হয়েছে। নিউটাউনের এই নজরদারি কেন্দ্রে লাগাতার রাজ্যের নানা প্রান্তের আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। একটি টিভিতেও বিভিন্ন চ্যানেলের খবরের ওপর নজর রাখছেন আধিকারিকরা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর যে জওয়ানরা বিভিন্ন বুথে কাজ করবেন তাদের কাছে থাকছে একটি বিশেষ প্যানিক বটন। প্রয়োজন হলে যে কোনও পরিস্থিতিতে এই প্যানিক বটন টিপে দিতে পারবেন জওয়ানরা। যে কোনওধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে এমন একটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

            আবার গত ৬০ ঘণ্টায় রাজ্যের ভোটমুখী এলাকাগুলি থেকে মোট ২,৪৭৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কমিশনের তরফে মঙ্গলবার বিকেলে এই পরিসংখ্যান জানানো হয়েছে। দিকে দিকে পুলিশের বাড়তি নজরদারি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর তৎপরতাও চোখে পড়ছে। কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ঘণ্টায় গড়ে ৪১ জন করে গ্রেফতার হয়েছেন। জেলায় জেলায় চলছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ, পুলিশের তল্লাশি অভিযান এবং গ্রেফতারি। শুধু সোমবার রাতেই ৮০৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন। মঙ্গলবার সকাল থেকে সেই সংখ্যা আরও বেড়েছে।

            সূত্রের খবর, ভোটের আগে মূলত ‘ঝামেলাবাজ’দের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এর আগে কমিশন যে পরিসংখ্যান দিয়েছিল, তাতে রবিবার দুপুর থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত ১০৯৫ জনকে গ্রেফতার করার কথা বলা হয়েছিল। এ বার ৬০ ঘণ্টার হিসাব দেওয়া হল। তবে কোন জেলা থেকে কোথায় এবং ঠিক কী অভিযোগে এই সমস্ত গ্রেফতারি, তা জানানো হয়নি। সোমবার সকাল পর্যন্ত যে হিসাব পাওয়া গিয়েছিল, তাতে গ্রেফতারির নিরিখে সবার উপরে ছিল পূর্ব বর্ধমান জেলা। ওই জেলায় ৪৭৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় গ্রেফতার করা হয়েছিল ২৪৬ জনকে। নদিয়ায় গ্রেফতারির সংখ্যা ছিল ৩২। হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনায় গ্রেফতার করা হয়েছিল যথাক্রমে ৪৯ জন এবং ৩১৯ জনকে।

            অন্যদিকে অশান্তি এড়াতে ‘সিল’ করে দেওয়া হল ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তও। প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ রয়েছে সীমান্ত বাণিজ্য। বন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাত পর্যন্ত সীমান্ত বাণিজ্য বন্ধ রাখা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পেট্রাপোল বন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের অশান্তির ঘটনার পর থেকেই ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে মানুষের যাতায়াত অনেকটাই কমে গিয়েছিল ৷ চিকিৎসার প্রয়োজনে কিছু বাংলাদেশি ভারতে এলেও তার পরিমাণও খুবই কম ছিল। তবে গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি বাংলায় আসেন চিকিৎসার জন্য। ভোটের জন্য তারাও ফিরে গিয়েছেন বলে খবর। শুধু তাই নয়, এ রাজ্যের যে সমস্ত বাসিন্দারা বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রয়োজনে গিয়েছিলেন তাঁরাও ফিরে আসছেন। মঙ্গলবার সকাল থেকেই পেট্রাপোল বন্দরে বন্ধ রয়েছে দোকানপাট, ব্যবসা-বাণিজ্য। বন্ধ রয়েছে মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্রগুলিও। শুনশান পেট্রাপলে কার্যত বনধের চেহারা নিয়েছে।

            আজ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ কুমার আগরওয়াল বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে ভোট পরিচালনা করাই আমাদের দায়িত্ব। প্রথম দফায় যেভাবে মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়েছেন, এবারও তেমনই সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।’

            ভোটের আগের দিনে এবার বিষ্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জেতাতে নকল আঙুল কিনেছেন তৃণমূলের এক কাউন্সিলর। তা-ও এক-আধটা নয়, সাড়ে ৭০০! একটি কৃত্রিম আঙুলের ছবি দেখিয়ে এমনটাই দাবি করলেন ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু (যদিও ছবির সত্যতা যাচাই করেনি দৈনিক সংবাদ)। যার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ, ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের সেই তৃণমূল কাউন্সিলর দেবলীনা বিশ্বাস শুভেন্দুর দাবি ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। শুভেন্দুর মন্তব্য, ‘সাড়ে ৭০০ নকল আঙুল কিনেছেন (৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর)। করতে দেব না। নিকৃষ্ট মানের ভোট চোর। ধরা পড়ে গিয়েছে। পারবে না করতে।’ ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর দেবলীনা বলেন, “বিজেপি প্রার্থী যে অভিযোগ করেছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন । গণতন্ত্রে এ ভাবে ভোট দেওয়ার জন্য কোনও দিন নকল আঙুল কেনা যায় না। তাই এমন ভিত্তিহীন অভিযোগের আমরা কাছে কোনও জবাব নেই।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *