মঙ্গলবার | ২১ জুলাই ২০২৬

দালালরাজ ঠেকাতে অ্যাপনির্ভর অ্যাম্বুলেন্স বাংলায়

 দালালরাজ ঠেকাতে অ্যাপনির্ভর অ্যাম্বুলেন্স বাংলায়

কলকাতা, ২০ জুলাই- স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে এবার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। রোগী পরিষেবায় এবার বাংলায় অ্যাপ ক্যাব অ্যাম্বুলেন্স চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হলো।
বঙ্গ বিধানসভায় সোমবার রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এক থেকে দুই কোটি টাকা বরাদ্দে এবার একটি অ্যাপ ক্যাব অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা চালু করার প্রস্তাব বিবেচনা করছে রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ। মন্ত্রী বলেছেন, ‘এই উদ্যোগ প্রযুক্তিকে জরুরি চিকিৎসা পরিবহনের সঙ্গে একীভূত করতে, দ্রুত প্রতিক্রিয়া সময়, জিপিএস সক্ষম ট্র্যাকিং এবং হাসপাতাল সংযোগ নিশ্চিত করবে। এটি একটি স্কেলযোগ্য মডেল হিসেবে কাজ করবে, যা রোগীর প্রবেশযোগ্যতা ও জরুরি চিকিৎসা সেবা জেলাজুড়ে শক্তিশালী করবে।’
অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবাকে কেন্দ্র করে একাধিকবার দালালরাজের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা পাওয়ার জন্য দালালদের মুখাপেক্ষি হয়ে থাকার অভিযোগ সামনে এসেছে বারবার। গুরুতর অসুস্থ রোগীকে নিয়ে সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়েছে তার পরিবারের লোকেদের। হাসপাতালে পৌঁছতে দেরি হয়ে যাচ্ছে। এবার রোগী বা তার পরিবারের লোকেদের যাতে এমন সমস্যার মুখে পড়তে না হয় সেই কথা মাথায় রেখে এই অভিনব পরিষেবা চালু করার কথা বিবেচনা করছে রাজ্য সরকার। অ্যাপ নির্ভর পরিষেবা চালু হলে এই দালালরাজকে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া যাবে বলেও আশাপ্রকাশ করেছেন মন্ত্রী।
শুধু তাই নয়, নৌ-পরিবহন প্রকল্প নিয়ে আসার বিষয়েও পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। বাংলার সুন্দরবনের মতো প্রত্যন্ত এলাকায় জলপথ পরিবহণ ছাড়া মানুষের কাছে আর কোনও উপায় থাকে না।বাংলার নদীমাতৃক এলাকার মানুষের যাতায়াত সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে এবার সেই জলপথকেই চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর কৌশল নিচ্ছে বাংলার সরকার। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ যাতে রোগীকে হাসপাতালে দ্রুত নিয়ে আসতে পারেন সেজন্য মোটর-বোট অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে আসার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, সুন্দরবন এলাকায় জরুরি প্রয়োজনে সাড়া দেওয়ার জন্য ৬ টি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স এবং ২ টি মোবাইল বোট ইউনিট চালু করা হবে। আপৎকালীন কোনও পরিস্থিতিতে সাময়িক কিছু চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য এই মোবাইল বোট ইউনিটটিকে কাজে লাগানোর কথা ভাবছে রাজ্য সরকার।
এর পাশাপাশি ‘মাদার্স পিকনিক’ নামের একটি বিশেষ উদ্যোগের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। যেসব ব্লকে বাড়িতে প্রসবের হার বেশি, সেখানকার গর্ভবতী মহিলাদের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলিতে নিয়ে যাওয়া হবে। এর উদ্দেশ্যে হলো, এই মহিলাদের হাসপাতালের পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের বিষয়ে উৎসাহিত করা। প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের সুবিধা বাড়ানোর লক্ষ্যে সুন্দরবনের দ্বীপগুলিতে প্রসব কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। এই ধরনের ২১ টি প্রসব কেন্দ্র বা ‘ডেলিভারি পয়েন্ট’ চিহ্নিত করেছে রাজ্য সরকার। মেদিনীপুর মেডিক্যাল হাসপাতালে একটি আদর্শ ‘কিশোর-কিশোরী বান্ধব স্বাস্থ্য সম্পদ কেন্দ্র’ স্থাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *