বৃহস্পতিবার | ৩০ জুলাই ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে কেমিক্যাল হাব তৈরির পরামর্শ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি শমীকের

 পশ্চিমবঙ্গে কেমিক্যাল হাব তৈরির পরামর্শ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি শমীকের

কলকাতা, ৩০ জুলাই– সিঙ্গুরে কী ফের শিল্প সম্ভবনা তৈরি হচ্ছে? মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য একটি চিঠি দেওয়ার পরেই এই সম্ভাবনা ফের তৈরি হয়েছে। বাংলায় একটি কেমিক্যাল হাব তৈরির জন্য এই আবেদন জানিয়েছেন শমীক। এমনকী সেই হাবটি সিঙ্গুরে করা যেতে পারে বলে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি হলদিয়া, রঘুনাথপুর এবং দুর্গাপুরকেও এই শিল্পকেন্দ্র গড়ার জন্য বিবেচনা করা যেতে পারে বলে মনে করছেন তিনি।

            বাংলায় আমুল দই কারখানা তৈরির জন্য নতুন করে বিনিয়োগ করার পরেই বাংলায় নতুন করে শিল্পে জোয়ার আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, কেন্দ্র সরকারের নতুন ৩,০৩০ কোটি টাকার ‘ভব্য রসায়ন’ প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে বাংলায় এক বিশাল কেমিক্যাল পার্ক গড়ে তোলা যেতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-কে লেখা এক চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, এটি পশ্চিমবঙ্গের শিল্পায়নের ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব সুযোগ। অন্য রাজ্যগুলি আবেদন করার আগেই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে কেন্দ্র সরকারের কাছে রাজ্যের দাবি জোরালোভাবে পেশ করা উচিত। গত ২৪ জুলাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা দেশজুড়ে প্রতিযোগিতামূলক ‘চ্যালেঞ্জ রুট’-এর মাধ্যমে তিনটি আধুনিক কেমিক্যাল পার্ক গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রকল্পে নির্বাচিত প্রতিটি পার্কের জন্য কেন্দ্র সর্বোচ্চ ১,০০০ কোটি টাকা অনুদান দেবে।

            এই প্রক্রিয়ায় শামিল হওয়ার জন্য বেশ কিছু শর্তও রয়েছে। একসঙ্গে অন্তত ২০০০ একর জমি থাকতে হবে। ওই জমিতে কোনও আইনি জটিলতা থাকা চলবে না। রাজ্য সরকারকে ন্যূনতম ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। এক হাজার কোটি অনুদান দেবে কেন্দ্র। কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্পের মাধ্যমে যে শিল্পে অন্তত ১৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হবে, তা-ও উল্লেখ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। একই সঙ্গে এই রাসায়নিক শিল্পকেন্দ্রে বিপুল পরিমাণ বেসরকারি পুঁজি আসার সম্ভাবনার কথাও চিঠিতে লিখেছেন শমীক।

            এর আগে টাটাকে রাজ্যে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সওয়াল করেছিলেন শমীক। এ বার সিঙ্গুরে রাসায়নিক শিল্পকেন্দ্র তৈরির প্রস্তাবে আবার নিজের অবস্থান বুঝিয়ে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তার মতে, কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ উদ্যোগে এই শিল্পকেন্দ্র তৈরি হলে বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হবেন। একই সঙ্গে শিল্পক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের অবস্থানও মজবুত হবে।    

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *